
গেল বছর বিজয়ের মাস, ১৭ তারিখ খামার বাড়ি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে আওয়ামীলীগ আয়োজিত মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই অদ্ভূত শাড়ি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিলো।
বিতর্কের কারন হল, একটা স্বার্বভৌম দেশের কেন্দ্রে থাকা ব্যাক্তিত্বের গায়ে এমন একটি ডিজাইন কী কাকতালীয়? নাকি অন্য কিছু? সন্দেহবাদীরা এক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে ছিলেন তাতে সন্দেহ নেই। কারন বাংলাদেশের ব্যাপারে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ইন্ডিয়ার 'গুন্ডে' দৃষ্টিভঙ্গি একেবারেই শুরু থেকে দেখা গেছে। এমনকি মহান মুক্তিযুদ্ধকে 'ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ'(!) বলে প্রচার করতে গিয়ে প্রায়ই তারা পাক-আর্মির আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানের ছবি ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে পাকিস্তান ও ভারত নামের দুই ধর্মভিত্তিক দেশই এককন্ঠে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক মুহুর্তকে বিতর্কিত করে যাচ্ছে। সে সময় ভারতের আধিপত্যের বিরোধীতা করে স্বয়ং বঙ্গবন্ধুও ভারতপ্রধানের ক্ষোভের কারন হন। ইন্দিরা গান্ধীর অনুরোধ অমান্য করে তিনি ওআইসিতে যুক্ত হন। সেকুলার বাংলাদেশ গঠনের যুক্তিতে ভারত অস্থায়ী সরকারের সাথে করা চুক্তির নামে এই বাধা প্রদান করেছিলো। সে চুক্তি পরে বাতিল করে দেন বঙ্গপুরুষ মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। যে চুক্তির ধারা মতে এদেশের সীমান্ত প্রহরা, মুদ্রা, শাসন ব্যবস্থার মত স্পর্ষকাতর অনেক ব্যাপারে শর্ত দিয়েছিলো ভারত।
আজ বিশেষ পরিস্থিতিতে নেপালের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে ভারত যা করছে সেসময় বাংলাদেশের ব্যাপারেও ঠিক তাই করতে চেয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু দেখিয়ে গেছেন কী করে বাংলাদেশ তার স্বার্বভৌমত্বকে উপভোগ করে যাবে। তিনি প্রথম ভারতের মাটিতে পা দিয়েই ইন্দিরা গান্ধীর উদ্দেশ্যে এই কঠিন প্রশ্নটি করেছিলেন- 'কবে নাগাদ বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য সরবে'? একদিকে ভারতের নিঠুর অভিলাষ নিয়ে বাংলাদেশের অনেক মহান কান্ডারিরা যেমন নানান দুশ্চিন্তায় গুজরান করতেন, ঠিক তেমন সে দৃশ্যায়ন মঞ্চস্থ করে অনেক ভিলেনও এদেশের জনগনের সাথে প্রতারণার জাল বুনেছিলেন।
সে যাই হোক। ভারতের প্রতারণা ও দাদাগীরি দেখিয়ে যেভাবে এদেশের মানুষকে পাকিস্তান গেলানো হয়, সেভাবেই প্রধানমন্ত্রীর শাড়ি দেখিয়ে পাকিস্তান গেলানোর নাটক মঞ্চায়নের পথ যেন তৈরি করা হল ২০১৪র বিজয়ের মাসে। অন্যদিকে সচেতন মানুষের দুঃশ্চিন্তাও বেড়ে গেল, রাজনীতিবিদদের ক্রম সাম্রাজ্যবাদের আশ্রয় গ্রহণের প্রবনতার কারনে। এনিয়ে হাজার বক্তব্য, যুক্তি বা পাল্টা যুক্তি আসতে পারে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ভারতের সিকিম দৃষ্টান্ত মাথায় রেখেই এমন কাজটি একজন প্রধানমন্ত্রীর করা আদৌ উচিৎ কিনা, এমন প্রশ্ন একজন সাধারন ভোটার হিসেবে করার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিটি নাগরিকের আছে।
আজ রাজনীতির নামে দেশটা যেন পাকিস্তানী আর ভারতীয় দিয়ে ভরে ফেলা হচ্ছে! এখানে বাংলাদেশী তারুন্যের জাগরন যেন মিডিয়া কাভারেজ পাবেনা! মনে রাখতে হবে- ভারত সবসময় ১৯৭১ এর ভারত নয়, নেপালে দেখা ২০১৫ এর ভারত আর সম্প্রতি দেখা 'গুন্ডে' ভারত চরিত্র নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে।
বাংলাদেশের ভুখন্ডগত মূল্য বাংলাদেশীদের কাছে আপন মায়ের সমান! তাই মুক্তিযুদ্ধের সহায়তাকে 'ভগবানের আশির্বাদ' ভেবে ভারতকেই 'ভগবান' বানাবার ভয়াবহতাও আমাদের সামনে থাকবে। মুক্তিপাগল মাতৃভক্তরা স্বাধীনতায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো 'স্বাধীনতা আসতই'।
রাজনৈতিক সহায়তা কখনো আন্তরিক সহায়তা যে নয়, তাও আমরা গুন্ডের আচরনে বুঝে নিয়েছি। বাংলাদেশ সিকিম হবেনা। বাংলাদেশ একটি বিশ্ময় হয়ে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকবে।
১৬ কোটি বাংলাদেশের এই ভূখন্ড বিশ্বের ৭ম বৃহৎ মানুষের ভুখন্ড। ৩২ কোটি হাত এ দেশের স্বাধীনতাকে সচল রাখবে। এদেশ নিজেই একটা বিপুল বাজার। এই বাজার তো আমাদেরই! রাজনীতিবিদদের অবশ্যই এখানে বাংলাদেশীদের ওপর ভরসা রাখতে হবে।
শক্তি হিসেবে ৩২ কোটি হাতকে অগ্রগন্য বিবেচনা না করলে যেকোন দলই কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বাধ্য হবে। মানুষ নিজেরাই প্রভুভক্ত রাজনীতির অনন্য বিকল্প আরেক রাজনীতি হয়ে উঠবে। গণরাজনীতি।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




