
ম্যারিটাল রেপের বাংলা প্রতিশব্দ দাম্পত্য ধর্ষণ। সাধারণ ভাবে ধর্ষণ বলতে আমরা এমন কোনো যৌনক্রিয়াকে বুঝি যেখানে সঙ্গীর সম্মতি থাকে না। অর্থাৎ ধর্ষণ হচ্ছে সম্মতিহীন জোরপূর্বক যৌন ক্রিয়া।
সুতরাং সাধারণভাবে সম্মতিহীন যেকোনো ধরণের যৌনক্রিয়াকে আমরা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করতে পারি। এখানে যৌনক্রিয়া হতে পারে কোনো দম্পতির মধ্যে, অচেনা কারোর সাথে, কোনো আত্মিয়ের সাথে বা সমকামী ব্যক্তির দ্বারা। নিয়মানুযায়ী এগুলো সবই ধর্ষণের আওতাভুক্ত হওয়া উচিত। কিন্তু এগুলোর মধ্যে দাম্পত্য ধর্ষণ বেশিরভাগ সমাজেই বৈধতা পেয়েছে। বিয়ের পরও দম্পতিদের মধ্যে জোরপূর্ব যৌনক্রিয়াকেই বলা হয় ম্যারিটাল রেপ
অন্য যেকোনো ধর্ষণের মতই দাম্পত্য ধর্ষণ ঘৃণ্য অপরাধ। দাম্পত্য ধর্ষণের প্রধাণ কারণ হিসেবে উল্ল্যেখ করা যায় সেক্সিজম এবং পুরুষতান্ত্রিকতা। খোলা চোখে দেখলে একটি সাধারণ ধর্ষণ এবং দাম্পত্য ধর্ষণের মধ্যে কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না।
বর্তমান পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী অধিকার এবং স্বাধীনতা নিয়ে উচ্চবাচ্য করা হলেও যৌনতার ক্ষেত্রে পুরুষ এখনো রাজা অ্যান্ড অল ইন অল। বর্তমান পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে নয়, দেখা হয় ভোগ্যপণ্য হিসেবে। যা স্পস্ট হয় বেশ্যালয় এবং ম্যারিটাল রেপ দ্বারা। পতিতালয়ে পুরুষ যায় পার্টটাইম পার্টনারের জন্য আর বেশিরভাগ পুরুষের কাছে বিয়ে মানেই হচ্ছে পার্মানেন্টলি একজন সেক্স সার্ভেন্ট পাওয়া।
বিয়ের পর পুরুষজাতি স্ত্রীকে মনে করে নিজের সম্পত্তি যাকে সে যখন যেভাবে খুশি ব্যবহার করতে পারে।
মানুষ হিসেবে প্রতিটি নারী স্বাধীন ইচ্ছা এবং চিন্তা-চেতনার অধিকারী। যৌনতার ক্ষেত্রেও একইভাবে তার নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছা অবশ্যয় থাকে।বিয়ে করা মানে এই নয় যে নারীটি তখন পুরুষের একান্ত সম্পদ হয়ে গেল যেখানে নারীর স্বাধীন চিন্তার বিকাশ নিষিদ্ধ।
বিয়ের পর পুরুষ নিজের যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য স্ত্রীকে নিজের মত ব্যবহার করতে চায় যা নারী স্বাধীনতার পরিপন্থি।
সমাজে নারী যে কতটা নিষ্পেষিত-নির্যাতিত তা ম্যারিটাল রেপ দ্বারা স্পস্ট। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশের এক-চতুর্থাংশ পুরুষ অর্থাৎ প্রতি চার জনে একজন পুরুষ জীবনে একবার হলে সঙ্গীকে ধর্ষণ করেছে। অর্থাৎ প্রতি চার জনে একজন নারী জীবনে একবার হলেও ধর্ষণের শিকার হয়।
ম্যারিটাল রেপের সবথেকে মারাত্মক দিক হচ্ছে এটা ধর্ম এবং বেশিরভাগ সমাজ স্বীকৃত। এখানে নারী না পারে সহ্য করতে, না পারে বিচার চাইতে। প্রতিনিয়ত ধর্ষণ তাকে মুখ বুজে সহ্য করতে হয়।
বাংলাদেশে এখনো ম্যারিটাল রেপ আইনসম্মত। অর্থাৎ বাংলাদেশে একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে যখন খুশি সঙ্গমে বাধ্য করতে পারে এবং এক্ষেত্রে নারী কোনো আইনি সহযোগিতা পাবে না যা সম্পূর্ণ মানবতা বিরোধী।
ম্যারিটাল রেপ বন্ধে সব থেকে বেশি প্রয়োজন পুরুষের মনে নারীর প্রতি সঠিক মুল্যবোধ তৈরী করা আর তা শুরু করতে হবে ছোট থেকেই। নারীকে একজন পরিপুর্ণ মানুষ হিসেবে দেখতে শেখাতে হবে, বোঝাতে হবে নারী শুধু ভোগ্যপন্য অথবা সেক্স মেশিন না; নারী পুরুষের মতই এক পরিপূর্ণ মানুষ যার নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, কাম, প্রেমবোধ সবই আছে। এই মুল্যবোধই পারে ধর্ষণের মত ঘৃণ্য ক্রাইম বন্ধ করতে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



