somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য আন্ডারগ্রাউন্ডে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন !

২০ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৪:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজধানীর যানজট নিরসনে এগিয়ে চলছে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ। জনগুরুত্বপূর্ণ এই কাজের সুবিধার্থে উত্তরা এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ওভারহেড (উপর দিয়ে) লাইন সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। ১৩২ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন মাটির নিচ দিয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)।

আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে পিজিসিবি সূত্রে জানা গেছে। এ জন্য চীনের সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং ও জিয়াংসু ইস্টার্ন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি করেছে পিজিসিবি। রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ওই চুক্তিতে পিজিসিবির পক্ষে কোম্পানি সচিব মো. আশরাফ হোসেন এবং সিসিসি ও জিয়াংসুর পক্ষে প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডি কে এম ফজলুল হক স্বাক্ষর করেন। পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুম আলবেরুনী, নির্বাহী পরিচালক (পিএ্যান্ডডি) চৌধুরী আলমগীর হোসেন, আরেক নির্বাহী পরিচালক (এইচআর) মো. শফিকউল্লাহ এবং প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুর রহমানসহ উভয়পক্ষের ঊর্ধ্বতনরা এতে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার যানজট নিরসনে ২০১২ সালে দেশের প্রথম মেট্রোরেল চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সাল নাগাদ রাজধানীর উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। মেট্রোরেলের আওতায় ১৬টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে— উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও হোটেল মোড়, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, জাতীয় স্টেডিয়াম এবং সর্বশেষে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা যায়, উত্তরায় মেট্রোরেলের সবচেয়ে বড় (প্রধান) স্টেশনটি নির্মিত হবে। আর এ জন্য ওই এলাকায় পিজিসিবির বিদ্যুৎ লাইনগুলো সরানো জরুরি। উত্তরায় বিদ্যুতের সাব-স্টেশন হতে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত মোট ৯টি বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারে স্থাপিত সঞ্চালন লাইন উপর থেকে সরিয়ে মাটির নিচ দিয়ে নেবে চীনা কোম্পানি দু’টি। এ জন্য খরচ হবে ২২ কোটি টাকা।

পিজিসিবি সূত্র জানায়, মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য তেজগাঁও এলাকায় মাটির নিচ দিয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড) পিজিসিবির স্থাপিত হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইনও সরাতে হচ্ছে। ২০১২ সালে এই এলাকায় মাটির নিচ দিয়ে সঞ্চালন লাইন টানে পিজিসিবি। মিরপুর থেকে ফার্মগেইট হয়ে শাহবাগ-পল্টন দিয়ে মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে শেষ হবে মেট্রোরেলের কাজ। ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের একটি স্টেশন হবে। এ ছাড়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নে রাস্তা খোঁড়ার প্রয়োজন হচ্ছে। রাস্তা খুঁড়লেই পিজিসিবির স্থাপিত বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তা আগেই আশপাশে (আন্ডারগ্রাউন্ডে) সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য মেট্রোরেল প্রকল্প থেকে ৬৬ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানা গেছে।

পিজিসিবির এমডি মাসুম আলবেরুনী বলেন, এটি (মেট্রোরেল) একটি মেগা প্রজেক্ট। জনগণের সুবিধার স্বার্থেই এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। উত্তরায় যেহেতু মেট্রোরেলের স্টেশন নির্মিত হচ্ছে, তাই তাদের সুবিধার্থেই ওই এলাকার ওভারহেড (মাথার উপর) সঞ্চালন লাইন সরিয়ে তা মাটির নিচ দিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মেট্রোরেল প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অংশ ৫ হাজার ৩৯০ কোটি ও জাপানের সাহায্য ১৬ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটির জন্য রাজউক এরই মধ্যে ৫৮ দশমিক ৯১ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মেট্রোরেল প্রকল্পের পরিচালক মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, মেট্রোরেলের বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হচ্ছে। আর মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে ২০১৭ সালে। এ সময়ের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে রাখা হচ্ছে। যাতে নকশা প্রণয়ন শেষে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা যায়।
সংগ্রহ- দ্য রিপোর্ট২৪ থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৪:২২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×