somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফাইনালের মিশনে পাকিস্তান বধের স্বপ্ন মাশরাফিদের !

০২ রা মার্চ, ২০১৬ সকাল ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চার বছর আগে মিরপুর স্টেডিয়ামে এক ইতিহাস রচিত হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছিল। তবে পাকিস্তানের কাছে মাত্র ২ রানে হেরে সেদিন এশিয়া সেরা হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছিল তখন। টি২০ ফরম্যাটে প্রথমবার অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে ফাইনাল খেলতে সেই পাকিস্তান বাধাটাই এবারও পেরোতে হবে বাংলাদেশকে। বুধবার সন্ধ্যায় মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সেই মিশনে নামবেন মাশরাফিরা।

প্রথম দল হিসেবে প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠেছে ভারত। প্রথম পর্বে চার ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে তারা। আরব আমিরাত ইতোমধ্যে ফাইনালের দৌঁড় থেকে ছিটকে পড়েছে। আর তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে শ্রীলঙ্কার ফাইনাল সম্ভাবনাও এখন ক্ষীণ। বাংলাদেশ আরব আমিরাত ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে। এখন মাশরাফিদের সামনে একটাই সমীকরণ পাকিস্তানকে হারাতে হবে। সেই সমীকরণ মেলাতে এখন কাজ করছেন তারা।

এই ম্যাচের জন্য দলে কিছুটা পরিবর্তন ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। ইনজুরির কারণে বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে ব্যাটিংয়ে শক্তি বৃদ্ধির জন্য মারকুটে ওপেনার তামিম ইকবালকে স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে। যদিও মুস্তাফিজের বিকল্প পেসার হিসেবে আবু হায়দার রনিকে নেওয়ার সুযোগ আছে কোচ হাথুরুসিংহের। তথাপি সেপথে হাঁটার সম্ভাবনা কম বলেই মনে হচ্ছে। তাই প্রথম তিন ম্যাচে চার পেসার নিয়ে মাঠে নামলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে সেখানে হয়তো তিন পেসার নিয়েই খেলবেন মাশরাফিরা।

নিয়মিত বোলার হিসেবে আল-আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও মাশরাফি থাকছেন। সঙ্গে অলরাউন্ডার হিসেবে রয়েছেন স্পিনার সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সাব্বির রহমানকেও ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে মাশরাফির হাতে। যদিও সাব্বির ব্যাট হাতেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচে বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে শুধু লড়াই নয়, কর্তৃত্ব রেখে খেলতে চান। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো করছি। টি২০-তে আমরা আগে শ্রীলংকাকে হারাতে পারিনি। এবার সেটা করতে পেরেছি। তাই আমরা আগে যা পারিনি তা এবার অর্জন করতে যাচ্ছি। এমন আশা সবসময় থাকে। কারও বিপক্ষে লড়াই করা কোনো সাফল্য নয়। আমরা যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেভাবে খেলব।’

আর অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘এই ম্যাচে যারা জিতবে তাদেরই ফাইনাল খেলার সুযোগ বেড়ে যাবে। সুতরাং এখানে আমাদের প্রতিটি জায়গায়ই সুযোগ আছে। প্রতিপক্ষেরও সুযোগ আছে। তারা একবার টি২০-তে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এছাড়া তাদের অনেক খেলোয়াড় বিভিন্ন জায়গায় টি২০ খেলে। আমরাও নতুন করে শুরু করেছি। অনেক কিছু চেষ্টা করেছি অনুশীলনে। সেগুলো নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা যদি ওদের দিকে না তাকিয়ে আমাদের পরিকল্পনাগুলো ঠিকঠাক প্রয়োগ করি, আমার মনে হয় আমাদের সব সুযোগই আছে।’

পাকিস্তানও চলতি এশিয়া কাপে যেখান থেকে শুরু করেছিল ধীরে ধীরে সেখোন থেকে উন্নতির পথে আছে। ভারতের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানরা ভালো না করলেও দলটির বোলাররা দুর্দান্ত খেলেছে। বিশেষ করে মোহাম্মদ আমির দলটির প্রধান বোলিং অস্ত্র। তার সঙ্গে আরব আমিরাতের ম্যাচে শোয়েব মালিক ও ওমর আকমলের জোড়া হাফসেঞ্চুরি ব্যাটিংয়েও দলটিকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। মোহাম্মদ ইরফান, মোহাম্মদ সামি ও শহীদ আফ্রিদিরা তো রয়েছেনই বোলিংয়ে।

তাই পাকিস্তানও এই ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী। দলটির বোলিং কোচ আজহার মেহমুদ বলেছেন, ‘সবাই ভুল করেছে। আমরা ভুল থেকে যথেষ্ট শিক্ষা গ্রহণ করেছি। ভারতের দিকে তাকান, ভারত বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইনের দল। তারাও এখানে ধুকছে। উইকেটটা খুবই কঠিন ছিল। তবে এখন পরিবর্তন হয়েছে। খেলোয়াড়রা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। ক্রিকেটটা আত্মবিশ্বাসের খেলা। আশা করছি সামনের ম্যাচে আমরা কামব্যাক করব। বল-ব্যাট উভয় দিকেই ভাল করব।’

নিজেদের শক্তির দিকে ইঙ্গিত করে আজহার মেহমুদ বলেন, ‘আমির বিশ্বমানের বোলার। সে আগে যেভাবে বোলিং করেছে প্রত্যাবর্তনের পরও সেভাবেই খেলছে। আমিরাতের বিপক্ষে জয়ের পর আমাদের ছেলেরা মানসিকভাবে বেশ চাঙা। মালিক ও আকমল দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে। তারা দুজন ম্যাচের সফল সামপনী টেনেছে। এটা আমাদের দলের জন্য কিছুর ইঙ্গিত বহন করে।’

দুদলের সামনে অভিন্ন লক্ষ্য; জিততে হবে ম্যাচ। সেজন্য নিজেদের সামর্থ্যের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়বে তারা। সেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কারা জিতবে তা দেখতেই এখন অপেক্ষা।
সংগ্রহ- দ্য রিপোর্ট২৪ থেকে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০১৬ সকাল ১০:৫৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শব্দের সীমা (জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা!)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

“সুন্দর শব্দ মধুচক্রের মতো, আত্মার জন্য সুমিষ্ট এবং অস্থির জন্য আরোগ্য।” — প্রবচন ১৬:২৪, বাইবেল

প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই হাজারো শব্দ উড়ে এসে আছড়ে পড়ে আমাদের কানে। দূর ও নিকট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×