somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টেমস'এর পারে তিন পাগল (দ্্বিতীয় খন্ড)

১৯ শে জুন, ২০০৬ বিকাল ৩:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম খন্ডের পর ... কোনো রূপ ভূমিকা ছাড়াই।

আমি সারা সপ্তাহে বেড়ানোর কোনো সময়ই পাই না। তাই ওই দিন হঠাৎ করেই বাকি দুজনকে বলেছিলাম চল কোথাও থেকে ঘুরে আসি। বেশ গরম ছিল, তার উপর পাগলা পানি পড়ায় ওরাও কিছুটাআবেগী হয়ে উঠেছিল। তাই টাওয়ার ব্রীজের দিকে যাওয়া।

এই দেশে মানুষ সাতটা আটটা না বাজতেই নাক ডাকতে শুরু করে। মাঝে মাঝে যখন কাউকে বলি আমি রাত দুটায় ঘুমাতে যাই, তখন চক্ষু দুটো কপালে তুলে বলে তাহলে ওঠো কয়টায়?

বাসা থেকেই বেড়ালাম সোয়া এগারোটায়।

কয়েকদিন ধরেই ছবি তুলতে খুব ইচ্ছে করছিল, তাই অফিসের ডিজিটাল ক্যামেরাটা সাথে নিয়ে গিয়েছিলাম। পটাপট কয়টা ছবি তুলে ফেললাম, দু-একটা বেশ ভালও এসেছিল। কিন্তু সমস্যা বাঁধলো যখন নিজের ছবি তোলার পর্ব এল। সঙ্গী দুইটাই ইষৎ টাল, হাত কাপেঁ। মাথা আর মুখ পৃথক করা যায় না। প্রায় দশ/বারো স্টাইলে দাঁড়ানোর পর একটা ছবিতে নিজেকে খুঁজে পেলাম। তাইসই .. বাকিগুলো টেমস আর তার আশেপাশের ছবি।

দূরে লাল একটা সেতু দেখা যাচ্ছিল। আরিফ বলল ওইটাই নাকি লন্ডন ব্রীজ। ঠিক করলাম আগামী সপ্তাহে ওইখানে ঘুরতে যাব।

টেমস নিয়ে কত কবিতা, গল্প আর উপন্যাস, আর এই টেমসরই পার বাধাঁ আর যান্ত্রিকতা এনে নদী থেকে ড্রেনে পরিনত করেছে। রেলিং ঝুঁকে যখন পানির দিকে তাকাচ্ছিলাম তখন কিছুটা দর্ূগন্ধ নাকে এল। আমাদের দেশের নদীগুলোর কথা মনে পড়ে গেল। ভাবতে অবাক লাগলো এই দেশেও নদীর এই অবস্থা।

আসলে এই টেমসের পানিই আমরা পান করি। আবার সব বজর্্যই নাকি টেমসে ভেসে যায়। সত্যি মিথ্যা জানি না।

টাওয়ার ব্রীজ থেকে অল্প দূরে লন্ডন আই। বিশাল নাগরদোলা। বহুদিন আগে ওটা কাছ থেকে দেখে এসেছিলাম। তখন পকেটে পয়সা ছিল না, তাই আগ্রহও পাই নাই। আর এখন ব্যস্ততা সুযোগ দেয় না। অথচ এই চাকুরির জন্য এক সময় লন্ডনের অনেক জায়গায় ঘুরেছি। তখন মনে হতো একবার চাকুরি পেয়ে নেই তখন না হয় ঘুরবো।

বেশ কিছুক্ষন ওখানে ছিলাম, ঘড়ির কাঁটা দৌড়াচ্ছে। আগামীকাল অফিসে যেতে হবে। নিজেকেই নিজে তাড়া দিলাম। ফিরতে ইচ্ছা করছিল না, তবুও চমৎকার একটা রোমান্টিক জায়গা থেকে ফিরে আসতে হলো। আজকাল প্রায়ই বড় একা একা লাগে, আর অমন একটা নিশ্চুপ পরিবেশে বুকের মাঝে হু হু করে উঠল

ক্রমাগত ...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ বাবার প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন সামিয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩



একটা মাস হয়ে গেল।
ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছে রিপা। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, নার্সরা ডিউটি বদলাচ্ছে, ডাক্তাররা আসছেন, যাচ্ছেন। শুধু একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন - অক্টোবর ২০২৫

লিখেছেন বিজন রয়, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



আনন্দ বিশ্বকাপ ফুটবল!
শোক ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প!!


এই আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন পোস্ট অক্টোবর ২০২৫! অনেক দেরি হয়ে গেল! হ্যাঁ অক্টোবর ২০২৫ এর সব কবিতা সংরক্ষিত ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৯ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭


বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩২



ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!

(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)



তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×