তারিখঃ 2040 সালের কোনো একটি সাধারন দিন
অফিস থেকে সবাই সেই কবে বাসায় চলে গেছে, এতক্ষনে হয়তো কেউ কেউ ঘুমিয়েও পড়েছে। দাড়োয়ান মজিবর মিয়া নিজ টুলে বসে ঝিমাচ্ছে, একটু আকটু হাইও তুলছে।
নিজ থেকেই বিড়বিড় করে ওঠে- ধুরঃ বড় আপাকে নিয়ে এই একটা সমস্যা। অফিসে আসলে আর বাড়ি যাইতে চায় না। শুধু কাজ আর কাজ।
নিজের অজান্তেই তার মনটা প্রশান্তিতে ভরে ওঠে। বড় আপা যা করছে, সবই তো তাদের জন্য, গরীব, দুঃখী, অসুস্থ মানুষের জন্য। আহ- প্রশান্তির একটা নিশ্বাস বেড়িয়ে আসে।
আড়মোড়া ঝেড়ে ওঠে দাঁড়ায়, যাই, আপার একটু খবর নিয়ে আসি। টক টক করে দু'বার নক করে গেছে। ভেতর থেকে সুন্দর একটা কণ্ঠস্বর ভেসে আসে ।
- কে? মজিবর ভাই? ভেতরে আসেন।
- আপামনি, কিছু লাগবে? চা-কফি?
- আমার যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন? আরোও বেশ কয়েকটা ফাইল বাকি।
- আপামনি এত কাজ করে কি হবে? আরোও তো অনেকে আছে, ওদেরকে কিছু কাজ দিতে পারেন।
- কি যে বল না তুমি, সবাই তো কাজ করে। কেউ কি বসে আছে, তাছাড়া সবার জন্য কাজ করতে পারছি এরচেয়ে আনন্দের আর কিইবা হতে পারে?
- কি জানি বাবা, তোমার ব্যাপার তুমিই বোঝো, কিন্তু এভাবে খাটলে তো শরীর খারাপ করবে। যাও বাসায় যাও।
- আর একটু, তারপর নিজে থেকেই চলে যাব, যাও তো নিজের টুলে গিয়ে ঝিমাও।
- উসরে, আমি ঝিমাচ্ছিলাম, তুমি দেখে ফেলেছে।
দু'জনেই হেসে ওঠে। মজিবর মিয়া প্রাপ্তি আপার ঘর থেকে বেড়িয়ে আসে।
ওহো, প্রাপ্তি আপার কথা তো বলাই হয় নাই। প্রাপ্তি এই অফিসের সবার আপা, শুধু এই অফিস বলি কেন, বাংলার অনেক অসহায়, দুঃখী, অসুস্থের ঘরে অন্ন জোটে, পথ্য যায়, কর্মসংস্থান হয় প্রাপ্তি ফাউন্ডেশনের টাকায় আর সেই প্রাপ্তি ফাউন্ডেশন যার নামে শুরু হয়েছিল কয়েকজন ব্লগারের প্রচেষ্টায়, সেই সংস্থা আজ ছড়িয়ে গেছে আনাচে কানাচে, সেই প্রাপ্তিই হলো সবার আদরের প্রাপ্তি আপা।
হঠাৎ করেই প্রাপ্তির কথাগুলো মনে পড়ে যায়। কত সাধ করেই না কৌশিক, কালপুরুষ, সাদিক, অরূপ, হাবিবমহাজন, সারিয়া ফুপি তার নামে এই সংস্থা খুলেছিল। তারা আজ বুড়ো হয়ে গেছে, তাই এই সংস্থা চালানো দায়িত্ব তার ঘাড়ে পড়েছে। ভাবতে অবাক লাগে সম্পূর্ণ অজানা কতগুলো ব্লগার তার অসুস্থতার সময় টাকা জোগাড় করে তার চিকিৎসা করেছিল। তখন তাদের মাথায় পরিকল্পনা এসেছিল এমনই একটা সংস্থা যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সাহায্য সহযোগিতা করবে।
নিজ থেকে হেসে ওঠে। সবাই ওর চেয়ে কত বড়, অথচ সবাইকে ওদের নাম ধরে ডাকতে হয়। চাচ্চু, দাদু, ভাইয়া ডাকলেই সবাই ক্ষেপে যায়। কালপুরুষ চাচ্চু থুক্কু কালপুরুষ তো এখনও ছড়া দাবড়িয়ে বেড়ায় আর আমার বান্ধবীদের সাথে লাইন মারতে চায়।
কৌশিকের মাথায় আর চুল অবশিষ্ট নাই, পুরা ইডেন গার্ডেনের মতো স্টেডিয়াম হয়ে গেছে।
শুভ চাচ্চুতো - ওহ নো শুভ, চাচ্চু ডাকলেই মারতে আসে, আরে আমি এখন কত্ত বড় হয়ে গেছি। সবার সামনে আমাকে মারতে আসে। যদিও সবাই আমাকে কত যে আদর করে। শুভ তো এখন বাংলাদেশের নামিদামী লেখক, মুদ্রন শেষ হবার আগেই তার বই শেষ হয়ে যায়।
সারিয়া ফুপি এখন লন্ডনে, মাঝে মাঝে বেড়াতে আসে, প্রতি সপ্তাহে আমাকে কল করে।
বদ্দা মানে সুমন চাচ্চু তো সেই যে কোনো এককালে হাসপাতালে গিয়ে নার্সের প্রেমে পড়েছিল, সেই প্রেম এখন চলছে। চোখের বদলে মাড়ির সব দাঁত পড়ে গেছে, অথচ সেই নার্সকে এখন প্রস্তাব দিতে পারলো না।
লন্ডনে থাকে আরেক জনের কথা তো বলাই হয় নাই, হাসান আংকেল। হি: হি: এখন প্রতি বছর দেশে আসে বিয়ে করতে কিন্তু পাত্রী পায় না। বলে একজনকে নিয়ে কি করে সারাজীবন কাটাবো? আমরা তো সবাই হেসে কুটিকুটি।
আজকে সবার কথা তার মনে পড়ছে। হঠাৎ তার চোখ অশ্রুতে ভিজে যায়।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




