somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[গাঢ়]একটি স্বপ্নের সূচনা[/গাঢ়]

১৯ শে জুলাই, ২০০৬ সকাল ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সময়ঃ রাত সাড়ে বারোটা
তারিখঃ 2040 সালের কোনো একটি সাধারন দিন

অফিস থেকে সবাই সেই কবে বাসায় চলে গেছে, এতক্ষনে হয়তো কেউ কেউ ঘুমিয়েও পড়েছে। দাড়োয়ান মজিবর মিয়া নিজ টুলে বসে ঝিমাচ্ছে, একটু আকটু হাইও তুলছে।

নিজ থেকেই বিড়বিড় করে ওঠে- ধুরঃ বড় আপাকে নিয়ে এই একটা সমস্যা। অফিসে আসলে আর বাড়ি যাইতে চায় না। শুধু কাজ আর কাজ।

নিজের অজান্তেই তার মনটা প্রশান্তিতে ভরে ওঠে। বড় আপা যা করছে, সবই তো তাদের জন্য, গরীব, দুঃখী, অসুস্থ মানুষের জন্য। আহ- প্রশান্তির একটা নিশ্বাস বেড়িয়ে আসে।

আড়মোড়া ঝেড়ে ওঠে দাঁড়ায়, যাই, আপার একটু খবর নিয়ে আসি। টক টক করে দু'বার নক করে গেছে। ভেতর থেকে সুন্দর একটা কণ্ঠস্বর ভেসে আসে ।

- কে? মজিবর ভাই? ভেতরে আসেন।
- আপামনি, কিছু লাগবে? চা-কফি?
- আমার যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন? আরোও বেশ কয়েকটা ফাইল বাকি।
- আপামনি এত কাজ করে কি হবে? আরোও তো অনেকে আছে, ওদেরকে কিছু কাজ দিতে পারেন।
- কি যে বল না তুমি, সবাই তো কাজ করে। কেউ কি বসে আছে, তাছাড়া সবার জন্য কাজ করতে পারছি এরচেয়ে আনন্দের আর কিইবা হতে পারে?
- কি জানি বাবা, তোমার ব্যাপার তুমিই বোঝো, কিন্তু এভাবে খাটলে তো শরীর খারাপ করবে। যাও বাসায় যাও।
- আর একটু, তারপর নিজে থেকেই চলে যাব, যাও তো নিজের টুলে গিয়ে ঝিমাও।
- উসরে, আমি ঝিমাচ্ছিলাম, তুমি দেখে ফেলেছে।

দু'জনেই হেসে ওঠে। মজিবর মিয়া প্রাপ্তি আপার ঘর থেকে বেড়িয়ে আসে।

ওহো, প্রাপ্তি আপার কথা তো বলাই হয় নাই। প্রাপ্তি এই অফিসের সবার আপা, শুধু এই অফিস বলি কেন, বাংলার অনেক অসহায়, দুঃখী, অসুস্থের ঘরে অন্ন জোটে, পথ্য যায়, কর্মসংস্থান হয় প্রাপ্তি ফাউন্ডেশনের টাকায় আর সেই প্রাপ্তি ফাউন্ডেশন যার নামে শুরু হয়েছিল কয়েকজন ব্লগারের প্রচেষ্টায়, সেই সংস্থা আজ ছড়িয়ে গেছে আনাচে কানাচে, সেই প্রাপ্তিই হলো সবার আদরের প্রাপ্তি আপা।

হঠাৎ করেই প্রাপ্তির কথাগুলো মনে পড়ে যায়। কত সাধ করেই না কৌশিক, কালপুরুষ, সাদিক, অরূপ, হাবিবমহাজন, সারিয়া ফুপি তার নামে এই সংস্থা খুলেছিল। তারা আজ বুড়ো হয়ে গেছে, তাই এই সংস্থা চালানো দায়িত্ব তার ঘাড়ে পড়েছে। ভাবতে অবাক লাগে সম্পূর্ণ অজানা কতগুলো ব্লগার তার অসুস্থতার সময় টাকা জোগাড় করে তার চিকিৎসা করেছিল। তখন তাদের মাথায় পরিকল্পনা এসেছিল এমনই একটা সংস্থা যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সাহায্য সহযোগিতা করবে।

নিজ থেকে হেসে ওঠে। সবাই ওর চেয়ে কত বড়, অথচ সবাইকে ওদের নাম ধরে ডাকতে হয়। চাচ্চু, দাদু, ভাইয়া ডাকলেই সবাই ক্ষেপে যায়। কালপুরুষ চাচ্চু থুক্কু কালপুরুষ তো এখনও ছড়া দাবড়িয়ে বেড়ায় আর আমার বান্ধবীদের সাথে লাইন মারতে চায়।

কৌশিকের মাথায় আর চুল অবশিষ্ট নাই, পুরা ইডেন গার্ডেনের মতো স্টেডিয়াম হয়ে গেছে।

শুভ চাচ্চুতো - ওহ নো শুভ, চাচ্চু ডাকলেই মারতে আসে, আরে আমি এখন কত্ত বড় হয়ে গেছি। সবার সামনে আমাকে মারতে আসে। যদিও সবাই আমাকে কত যে আদর করে। শুভ তো এখন বাংলাদেশের নামিদামী লেখক, মুদ্রন শেষ হবার আগেই তার বই শেষ হয়ে যায়।

সারিয়া ফুপি এখন লন্ডনে, মাঝে মাঝে বেড়াতে আসে, প্রতি সপ্তাহে আমাকে কল করে।

বদ্দা মানে সুমন চাচ্চু তো সেই যে কোনো এককালে হাসপাতালে গিয়ে নার্সের প্রেমে পড়েছিল, সেই প্রেম এখন চলছে। চোখের বদলে মাড়ির সব দাঁত পড়ে গেছে, অথচ সেই নার্সকে এখন প্রস্তাব দিতে পারলো না।

লন্ডনে থাকে আরেক জনের কথা তো বলাই হয় নাই, হাসান আংকেল। হি: হি: এখন প্রতি বছর দেশে আসে বিয়ে করতে কিন্তু পাত্রী পায় না। বলে একজনকে নিয়ে কি করে সারাজীবন কাটাবো? আমরা তো সবাই হেসে কুটিকুটি।

আজকে সবার কথা তার মনে পড়ছে। হঠাৎ তার চোখ অশ্রুতে ভিজে যায়।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৭
২১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়ের বুকের ওমে শেষ ঘুম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯



আমার নাম তৃশান। সবে তো স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। আজ আমার খুব আনন্দ! বাবা-মা, দিদি আর দাদু-দিদুন মিলে আমরা মস্ত বড় একটা নৌকায় ঘুরছি। দিদি বলছিল এই জায়গাটার নাম জবলপুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×