সারা বিশ্ব যখন ইতিহাসের গভীরে যেতে চায়, আমরা সেখানে ইতিহাসকে প্রতি আঁকা বাঁকা করি, সাদা কালো করি।
একসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতি আমার একটা দূর্বলতা ছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগের শাসনের পর সেটা উবে গেছে, তখন মনে হচ্ছিল উনি ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা পেছনে কেউ ছিল না। সবকিছু নামকরন তার নামে করতে হবে।....
এরপর যখন বিএনপি এল, কেউতো বঙ্গবন্ধু উচ্চারন করেই না বরং তার নাম ইতিহাস থেকে উঠেই গেছে। এখন শুনি ষষ্ঠ কিংবা সপ্তম শ্রেনীর বইয়ে মুজিবর রহমানের নাম তো নেই বরং জিয়াউর রহমানের নামে আলাদা একটা অধ্যায় আছে। আবার রাজাকারকে রাতারাতি ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে, মাত্র এক লাইনে তাদের কূকীর্তি বণনর্া করা হয়েছে। জামায়াত প্রীতির কারনেই এমনটি হয়েছে ধারনা করা হয়।
আমার মূল বিষয় এই ইতিহাস বিকৃতি করাকে নিয়ে নয়, বরং আমার দেখা একজন ইতিহাসবেত্তাকে নিয়ে। বলতে ভাল লাগে এক সময় ক্যাডেট কলেজে পড়তাম। সেখানে আমাদের একজন স্যার খুব সুন্দর করে ইতিহাস পড়াতেন, যদিও বিজ্ঞান বিভাগে খুবই অল্প ইতিহাস পড়ানো হতো, তবুও মনে হয় এখন স্বঘোষিত ইতিহাস রচয়িতাদের চেয়ে বেশী জানি শুধুমাত্র তার কল্যানে। তার নাম আহমেদ হাসান। খুবই রাগী, কিন্তু খুবই দায়িত্ব সচেতন একজন শিক্ষক। ক্লাশে তার বক্তৃতা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতাম। মজা পেতাম যখন উনি বইয়ে লেখা ইতিহাসের ভুলগুলো প্রমান সহকারে ধরিয়ে দিতেন।
আমাদের বিভিন্ন জাতীয় দিবসে, উনি বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে যখন মিলনায়েতনে বক্তৃতা দিতেন, একেকদিন ঘন্টা পর ঘন্টা পেরিয়ে যেত। বুঝতেই পারতাম না, মাঝে মাঝে বিরক্তও হতাম। এত ইতিহাস দিয়ে কি হবে? এখন বুঝি সঠিক ইতিহাসের কত প্রয়োজন।
একবার ওনার বাসায় গিয়েছিলাম। আমাদেরকে বসতে দেবার মত কোনো জায়গা ছিল না, কারন তার বাসা জুড়ে বই আর বই, এমনকি বসার চেয়ারেও বই ভর্তি। আমি অবাক হয়েছিলাম, একটা মানুষ হাজারো ব্যস্ততার মাঝে কি করে এত বই পড়ে শেষ করতে পারে?
জানিনা স্যার এখন কোন কলেজে আছেন, যেখানেই থাকুন আপনাকে জানাচ্ছি হাজারো সালাম। স্যার একটা অনুরোধ করবো, দুষ্টামি করলে আমাদের যেমন বকা দিতেন, কিংবা অপরাধ গুরুতর হলে পেটাতেন তেমনি ইতিহাস বিকৃতকারীদের পিটিয়ে ঠিক করবেন কি?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




