দেশকে নিয়ে যতই গালমন্দ করি না কেন, দেশের বাইরে সব বাঙ্গালীই কিছ ু না কিছু মিস করে।
পরিবারের কথা বাদই দিলাম, সবাই পরিবারকে মিস করে।
কিন্তু সর্ষে বাটা ইলিশ কিংবা চটপটির কথা ভূলবেন কি করে? এই দেশেও ইলিশ পাওয়া যায়, সর্ষেও পাওয়া যায় কিন্তু মায়ের হাতে রান্না পাবেন কৈ? লন্ডনে প্রচুর বাংলাদেশী রেস্তোরা হোটেল আছে, এখানে বাঙ্গালীদের ব্যবসা একটাই। হোটেল ব্যবসা, কিন্তু সেটার আপন বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলছে অন্যের অনুকরণে। আমার সহকমর্ী একবার আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, তোমরা কি রান্না তরকারীর সাথে বিভিন্ন ফ্লেভার(ঝোল) যোগ করে আবার রান্না কর? আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি, কি বলে এই সব? তারপর জানলাম, এদেশের বাঙ্গালীবা ভারতীয় ও চীনা রান্না অনুকরণ করে নতুন স্ট্যাইলে রান্না শুরু করে বাজার জমানোর চেষ্টা করছে।
যাই হোক ইলিশে ফিরে যাই। এইখানে যত পদের বাংলাদেশী মাছ পাওয়া যায়, প্রথম প্রথম দেখে অবাক হয়ে যেতাম। বিশাল বড় বড় এক একটা মাছ। মেশিন দিয়ে কেটে টুকরা করে। ইলিশ, রুই, কাতলা, কেচকি, হাঙ্গরসব সব মাছ। কিন্তু দেশের রান্নার স্বাদ পাই না।
ইলিশের মতো চটপটিও মিস করি। রাস্তার পাশে বসে আগুন ঝালের টক চটপটি, সবকিছুই যেন কেমন করে হারিয়ে গেছে। কবে যে দেশে ফিরব? মনে হয় প্রথম একমাস এত চটপটি, ফুচকা আর হালিম খাব যে পরের দু'মাস পেট খারাপ করে বিছানায় শুয়ে থাকতে হবে।
আমার ঝাল জিনিস খুবই পছন্দের, কিন্তু এইখানে হট (ঝাল) খাবার বলে যা বিক্রি হয় তাতেও আমার মুখে মিষ্টি লাগে। বাধ্য হয়ে আপন হাত জগন্নাথ। যা রান্না করি তাই খেতে হয়। আমিও ভাল রান্না শিখে গেছি। মাঝে মাঝে পরিচিতদের দাওয়াত করি, খেয়ে প্রশংসা করে। কিন্তু শেষ পযনর্্ত অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো হয়ে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




