প্রচুর পোষ্ট এসেছে, সেই ভাষার প্রয়োজনীয়তা কথা বলেছে, কেউ দেশে ইংরেজী বিস্তারকে ভয়ের কারন বর্ণনা করেছে, বাংলা ভাইয়ের নাম বাংলা ভাই দেয়া ঠিক নয় ইত্যাদি ইত্যাদি। ওহো, কেউ আবার অন্যের বাগান থেকে ফুল ছিঁড়ে না নেবার কথা বলেছে।
কিন্তু ভাষা আন্দোলনকে অন্যভাবে দেখতে চাই, আমার শিক্ষক হাসান স্যার (তাকে নিয়ে আমার একটা ব্লগ আছে) আমাদেরকে অন্যভাবে দেখতে শিখিয়েছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তানীদের অত্যাচারের কথা কাউকে নতুন করে বলার কিছু নেই। তারা চারিদিক থেকে যখন বাঙ্গালীদের অত্যাচার করছিল, বাঙ্গালীরা চাচ্ছিল কোনভাবে সেই অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে, ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙ্গালীদের প্রথম প্রকাশ্যে বিরুদ্ধাচারন। সালাম, রফিক, বরকতের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে জয় সেদিন অর্জন সম্ভব তাই পরবতর্ীতে মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অনুপ্রেরনা দিয়েছিল। কারন কোনদিক থেকেই বাঙ্গালীরা পাকিস্থানীদের সমতুল্য ছিল না, কেবল ছিল অদম্য সাহস আর 52এর জয়ের ইতিহাস। এমন যদি হতো যে সেদিন 21শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালী পরাজয় হতো, তারা উদর্ূকে মাতৃভাষা হিসেবে মেনে নিত, তাহলে আজকের এই বাংলাদেশের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ ছিল। কারন সেদিনই পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে জেগে উঠা আগুনের শিখা চিরতরে নিভে যেত।
যাই হোক, তার পরবতর্ী ইতিহাস বোধ করি কাউকে বলে দিতে হবে না। কিন্তু স্বাধীনতা পরবতর্ী সরকারই নানাভাবে একে রাষ্ট্রীয় ভাষা রুপে প্রতিষ্ঠা করার ব্যর্থ চেষ্ঠা করেছে, আসলে আইন করে কিছু করা সম্ভব নয়। তা সবাই জানে, আমরাই বাংলা ভাষাকে নিয়ে সচেষ্ট্য নয় তো একা সরকার কি করবে। আবার সরকার তো আদৌ তার দায়িত্ব নিয়ে বিচলিত নয়।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই কিছু কথা বলি। অনেকদিন আগে বাসে করে বাড়ি ফিরছিলাম। মাঝ পথে পেট্রোল নেবার জন্য বাস থেকে, আমার সামনের সিটে একটা বাচ্চা জানালা দিয়ে মাথা বের করে কতটুকু পেট্রোল ভরছে সেটা প্রথমে বাংলায় গোনার চেষ্টা করলো, অল্প কিছু যেতেই আটকে গেল। মনে করলাম, ছোট বাচ্চা গুনতে শিখেনি, কিন্তু আমার ধারনা ভুল প্রমান করে একটু পরেই ইংরেজি গুনে বের করে ফেলল। সেইদিন আমি খুব অবাক হয়েছিলাম, আবার ভয়ও পেয়েছিলাম বাংলা ভাষার ভবিষ্যত নিয়ে।
কয়েকদিন আগে, কলেজে গিয়েছি কাগজপত্র নিয়ে কথা বলতে। সেখানে একজন স্টুডেন্ট এ্যাডভাইজার প্রথমে দেখতে বাংলাদেশি মনে হয়েছিল, কিন্তু কি কারনে জানি কিছু জিজ্ঞাসা না করেই স্বাভাবিকভাবে ইংরেজিতে কথা চালিয়ে যেতে থাকলাম। এক সময় কথায় কথায় জানলাম সে বাংলাদেশি কিন্তু তখনও কেন জানি বাংলায় কথা বলতে দ্্বিধা বোধ করছিলাম। পুরো কথাটাই ইংরেজিতেই শেষ করলাম। কলেজ থেকে যখন বের হলাম, আত্মগ্ল্ল্যানিতে আমার মাথা নিচু হয়ে আসছিল, মনে হচ্ছিল কোন মিথ্যা আভিজাত্য দেখাতে গিয়ে আমি তার সাথে বাংলায় কথা না বলে ইংরেজী বললাম। সেদিন নিজের কাছে খুব ছোট হয়ে গিয়েছিলাম।
আমরা সবাই বলার সময় অনেক বড় বড় কথা বলি, অনেক ভাষণ দেই কিন্তু বাস্তবে রুপ দেবার সময় পিছিয়ে পড়ি। নিজেদের কাছ থেকেই বাংলাকে মর্যাদা দেয়া শুরু করতে হবে। আমরা প্রত্যেকেই তো সমাজ একটা ক্ষুদ্র অংশ, আমাদের থেকেই তো এই মহৎ কাজটু শুরু হতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



