গত চলি্ল্লশদিনে আজকেই প্রথম যে দুই ঘন্টা চেষ্টা করছি , কিন্তু কিছুই লিখতে পারছি না। রাত পৌনে তিনটা, সকালে কর্মক্ষেত্রে যেতে হবে। ঘুমাতে যাওয়া উচিৎ কিন্তু মনের মধ্যে কিছু একটা লিখতে খুব ইচ্ছে করছে। আঙ্গুলগুলো নিশপিশ করছে কোন একটা স্রোতে ভেসে যেতে। পারছি না.....
প্রতিদিন প্রথম আলো-র প্রকাশের অপেক্ষায় বসে থাকি। ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাসটা থেকে গেছে, খবরের কাগজ পড়া আমার চাইই চাই। দেড় কিংবা পৌনে দু'টা নাগাদ প্রকাশিত হল। চোখ বুলিয়ে দেখলাম। সবই খারাপ সংবাদ, খারাপ বলতে বুঝাচ্ছি বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদের খবর।
পর পর দু দুটো বস্ত্র কারখানায় র্দূঘটনা, বেশামাল রাজনৈতিক অবস্থা, সংসদের কুরুচীপূর্ণ মন্তব্যে চালাচালি, ...। অনেক চেষ্টা করে একটা খবর খুজেঁ পেলাম যেটা কিনা দুঃসংবাদ সংশ্লি্লষ্ট না, বই মেলার খবর।
যাই হোক, ভেবেছিলাম বস্ত্র কারখানার দূর্ঘটনা নিয়ে লিখবো, কিন্তু কি লেখার আছে? সমবেদনা জানাবো নাকি দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবী করবো। কোনটাই করে লাভ নেই। সমবেদনা জানিয়ে কি হবে কিংবা কতজনকেই বা জানাবো। যে সামান্য কয়েকটি টাকার জন্য দিনান্ত পরিশ্রম করে এই সাধারন লোকগুলো, তাদের একজনের চলে যাওয়া মানে একটা পরিবার সর্বশান্ত হয়ে যাওয়া। এক লক্ষ টাকার প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য কিছুটা স্বস্থির কারন হতে পারে কিন্তু সেই টাকা কি তারা নিজ ঘরে নিয়ে যেতে পারে? মাঝ পথেই যে সন্ত্রাসীদের কবলে পরে যে অনেকেই শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে ফেলে সেই খবর কি কখনও গণমাধ্যমে আসে। ফলাও করে তাদের ছবি ছাপা হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দূর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে নগদ এক লক্ষ টাকা তুলে দিচ্ছেন। সাথে মন্ত্রীর প্রসাধনী আবৃত মুখের সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্থের ছবিও ছাপা হয় আর একটা সাদা খাম। খামের ভেতর কিছুই থাকে না, থাকে শুধু আশ্বাস, অর্থ পেতে পেতে কারোও কারোও জীবনাবসান হয়ে যায়। কাউকে তো আবার মৃত প্রমানিত করতে সনদপত্রও দাখিল করতে হয়। বিচিত্র সব আইন কানুন.....
আবার আমার কি উচিৎ দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবী করা? কি হবে? ওরা কখনও আইনের নাগালের ভেতরে আসবে না। একদিন প্রধানমন্ত্রী দোষীদের ধরতে আদেশ দেবেন, দুদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাফালাফি করবে, তারপর যাই লাউ তাই কদু। যে যার যেখানে। মাঝে মাঝে কিছু ব্যর্থ মন্ত্রী বলে উঠবেন, আল্লাহর মাল আল্লাহই নিছে। অন্য মন্ত্রী বলবেন, ছাগল পালনের মাধ্যমে দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই চলুন ক্ষতিগ্রস্থদের এক জোড়া ছাগল দেই।
মুদ্রাক্ষরনের গতি বেড়ে গেছে। এখন দেখছি থামতেই চাচ্ছে না। কিন্তু আমি নিরুপায়, থামাতেই হবে। রাত অনেক হয়েছে, তিনটার ঘর অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। বাকিটা না হয় আরেকদিন লিখব।
শুভরাত্রি।
[আগের ঘোষনা অনুযায়ী খেরোখাতায় প্রতিটি শব্দ বাংলায় লেখার চেষ্টা করেছি, ভূলত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রাথর্ী]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



