দেশ ছেড়েছি সাত মাস হতে চলল। সাতমাস আগে রান্না বলতে কিছুই জানতাম না, কখনও কিছু করতেই হয় নি, সব সময় হাতের কাঝে রেডি পেয়েছি, আসার আগে মা বলেছিল কিছু রান্না শিখে আসতে। শিখিনি, তবে কোন সমস্যা হয়নি। কারন আমি আবার টিভিতে রান্নার অনুষ্ঠানগুলো নিয়মিত দেখতাম, বিশেষ করে সঞ্জীব কাপুরের খানা খাজানা প্রায়ই দেখতাম, তাই কোন পদের সাথে কোন মসলা কিংবা কোন সব্জীর সাথে কোন সব্জী মিল খায়, তা সম্বন্ধে বেশ জানি।
এখানে এসে প্রথম শিখেছি ভাত রান্না করা, আমার প্রথম বাড়িওয়ালী আমাকে প্রায় হাতে ধরে শিখিয়েছিলেন, যতটুকু চাল, ততটুকু পানি.....। এরপর বন্ধু শাহেদের কাছে শিখেছি ডাল আর মুরগী রান্না।
তারপর শুরু করে দিয়েছি নানান ধরনের experiment। chicken-vegetable স্যুপ কিংবা mashroom ডাল বেশ ভাল রান্না করতে পারি, আমার হাউজমেটদের ভাষ্য অনুযায়ী।
কোনো কিছু না পারলে আম্মাকে ফোন করি। তবে এমন ঘটনা খুবই কম ঘটেছে, কারন যাই রান্না করি না কেন, শেষমেষ কেমন করে যেন ভালই হয়ে যায়
। কয়েকদিন শুটকী রান্না করেছিলাম আম্মার রেসিপিতে, সবাই 'লা জবাব হয়েছে' বলেছে
।
আরেকটা জিনিস খুব ভাল পারি, তাহলো 'লামছাম'
, এইটা আমাদের দেওয়া নাম, মানে হাবিজাবি রান্না। নামটা উদ্ভব, তবে জিনিস খুব সোজা। সবার জন্য রেসিপিটা ফ্রিতে দিলাম।
1. আগের দিনের বেঁচে যাওয়া ভাত
2. আগের দিনের বেঁচে যাওয়া মাংস ঝোলসহ/ টুনা মাছ / সারডিন মাছ
3. একটা বড় পেয়াঁজ কুচি
4. গোটা তিনেক মরিচ
5. লবন স্বাদ মতো
6. যতধরনের রান্নার মসলা আছে কাবার্ডে
7. ধনেপাতা
8. একটা আস্ত ডিম
9. মাশরুম থাকলে কয়েকটা মাশরুম টুকরা
10. ফ্রিজে কোন সবজি থাকলে কুচি কুচি করে ফেলুন
সব ধরনের মসলা, পেয়াজঁ, লবন দিয়ে একটু ভেজে, মাশরুম, ডিম ফেটে দিন, এরপর একে একে আইটেম 2 এবং সবশেষে ভাত ঢেলে, কিছুক্ষন পরে নামিয়ে ফেলুন। চেহারা যদি ভাল না হয়ে থাকে, ভয় পাবেন না, স্বাদে জম্পেশ হয়েছে। এটা হাসানের রেসিপি কখনই ফ্লপ খেতে পারে না।
(চলবে...)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



