দোল খেলবো না আজ।
আসলে কোনবারই তো খেলি না, গতবছরই শুধু রং, মিষ্টি, সেমুই গাঁজা আর ভাং...
আর তারপর কান্নাকাটি।
আচ্ছা সেই কাপড়গুলো কোথায়? রঙে মাখামাখি যেগুলো এখনও?
তোমার মনে আছে, আমি একটা গাড়ি দেখছিলাম। যে প্রচন্ড দ্্রুতগতিতে ছুটে চলছিল। মসৃণ এক পীচের রাস্তা আর সাঁ সাঁ ছুটে চলা। সামনের রাস্তা যেন এক গোল সুড়ং আর আমি সেদিকেই ছুটে চলেছি শুধু। মাঝে কেউ নেই, কিসসু নেই। দৃষ্টি স্থির ঐ সুড়ংএ।
নিচে শব্দ শোনা যায় রঙের উৎসবের। হৈ হৈ রৈ রৈ। দূর থেকে ভেসে আসে কীর্তনের আওয়াজ। সেও কি ছবি বন্দোর কীর্তন? দূরের আওয়াজ, ঠিক বুঝতে পারি না।
বাবা বললেন, শরীর খারাপ নিয়ে যেন দোল না খেলি। আরও অনেক গল্প করলেন, রোজই করেন। হয়তো অজান্তেই ভেতর থেকে উঠে আসে এক নি:শ্বাস, কবে বাবুল বড় হয়ে গেল জানতেই পারলাম না! আমি চুপ করে থাকি। অপরাধীর মত।
এখানে এখন বসন্ত। এই কলকাতায় বসন্তআসে শুধু কল্পনায়, কিছু কোকিলও জানান দেয় আর জানান দেয় পলাশেরা। বসন্তের সুবাতাস বলতে কবি-লেখকেরা যেরকম বুঝিয়েছেন আমি সেই বসন্ত এই কলকাতায় অন্তত দেখিনি। কিন্তু কি অদ্ভুত জানো, এবারে কলকাতায় সত্যিই সত্যিই বসন্ত এসেছে। এমন আবহাওয়া আমি অন্তত দেখিনি এখানে। এখনও গরম পড়েনি। মৃদুমন্দ হাওয়া বয় উত্তর তো কখনও উত্তর-পশ্চিম কোণা থেকে। গায়ে একটা হাল্কা চাদর থাকলে ভালো তবে না থাকলেও চলে! রাতে লাল কম্বল উঠে আসে গায়ে, গুটি গুটি।
আজ ক'দিন শুধু দোহার শুনছি। আরেকটা ক্যাসেট এলো বাড়িতে, দোহারেরই। না। নতুন নয়। তবে এই ক্যাসেটটাা বাড়িতে ছিল না।
রং খেলার আওয়াজ আসছে নিচ থেকে। একবার ছাদও ঘুরে এলাম। রোদ্দুরে তাকাতে পারা যায় না , আপনা থেকেই বন্ধ হয়ে যায় চোখ। ফিরে এলাম ঘরে।
কম্পিউটার স্ক্র ীনে ভেসে ওঠে চিঠি। মন খারাপের ছোঁয়া লাগে। বারে বারে বলা একটা কথা কানে বাজে, আমরা ভালো থাকব। ভালো থাকবোই আমরা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


