somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

যদি ভাব তোমার কথাই বলছি আমি

১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইউরোপের লেনা আমাদের সঙ্গে একটা খেলা খেলতে চাইছিল, শেষে ফুলের নাম গিয়ে দাঁড়ায় মানুষের নামে। ঐশ্বর্য রাই এলেন, লাদেন থকে হিটলার, সুপার ম্যান, ই-স্পাইডারম্যান, নেপোলিয়ান বোনাপার্ট সব্বাই থাকলেন। মাহবুব খেলতে একেবারেই রাজী হচ্ছিল না, মদ ছিল রেডি,কেবল গোস্ত নয়, ধানমন্ডি ১৯ তাই আমার ছুটি। এটা বেশ কয়েকমাস আগের কথা তখন প্রচন্ড গরম, ফুলের আরামপ্রদ নাম হাস্নুহেনা, চাঁপা কোনটারই তো ইংরাজি নাম জানি না। লিপি আর মাহবুবের ও যুক্তি ছিল সেই রকম। ছোটবেলায় আমরা আরেকটা খেলা খেলতাম, ৫ জন ৫টা ফুলের নাম লিখে মেলাতাম, কখনও জন্তু, কখনও শহর। কাটা যেত একই নাম দুইজনে লিখলে। অপর্ণা সেনের মত ঘেটু চট করে কেউ লিখত না, গোলাপের বাগানই থাকত আমাদের সামনে বলাই বাহুল্য। আমি ঘেটু ও অপর্ণা দুজনকেই খুব পছন্দ করতাম কিন্তু লিখতাম বকফুল বা কল্কে। খুব খুব ছোট বয়েসটায় আমি সত্যই কল্কে ফুলে মুগদ্ধ ছিলাম। কুড়িয়ে কানে গুজতাম, হলুদ সাদা আর কমলার ভেতর হলুদটা ছিল আমার কাছে ইয়ের মত প্রিয়, ইনভল্যুন্টারিতে মনে হচ্ছে মালা-টালাও গেঁথেছি। ধুতরা যেন এরই মেগা ভার্শন, টিকোমা ছোটভাই। কিন্তু কল্কের মত গন্ধ আর কিছুতেই পাইনি, নতুন বই ছাড়া।

আমাদের ই-স্কুলে নানা রকম ফুল পড়ে থাকত। ঢুকেই ছিল বকুল। আমি কখনও বকুল কুড়াইনি। রবীন্দ্রনাথ দায়ী কি না জানিনা, কুড়াইনি। কেস্টোচুড়ার কুড়ি ছাড়িয়ে প্যাঁচ খেলা সে ছিল বেহেস্তের একটা বিনোদন। রাধাচুড়াকে ফুল বলে ভাবিইনি, কিরকম মধু ছড়ানো মৌময়আলো জড়ানো সব। ছিঁড়ে মধু চুসতাম রঙ্গন, ফুলে মুখ দিলেই কেমন যানি সেই সময় ঝিনুকদির কথা মনে হত। ইস্কুল ডেরেসে ইক্কেরে রঙ্গন ফুল দেখতে সে, মাত্তর এক কেলাস উঁচুতে পড়ত, ক্যুইজ-টুইজের রাস্তায় রোজ ক্ষারাক্ষরি হত, নো নিটফল , প্রত্যেক কম্পিটিশনে তাকে বলে বলে হারাই, প্রেম করল বাংলার মাস্টর ঐ হাবলাটাকে। ছো: রঙ্গন ফুল কোনদিনই আমার পছন্দ নয়, বিষ। বিষ।

আজকাল ধানমন্ডি শেখের বাড়ি ছাড়িয়ে হাঁটি আর বকুল দেখি। ঝরে আছে। তুমি ঠিক কি ফুল ভাল বাস আমি জানি না। তবে নিশ্চয়ই তার রঙ সাদা। আমি বকুল দেখি কেবল নয়। গুনিও। দু-একজন রিক্সাওয়ালাই নোটিশ করে কেবল, করুক। যথারিতি কুড়াই না। আজ শেখের মেগা ইভেন্ট। ৩২ ঝকঝকে তকতকে। বাড়ির সামনে রাখা সব ফুলের সামনে সেলোটেপে চিপকানো নামের সিরিয়াল। বেশ কয়েকটা গোলাপবাগান আছে নির্ঘাত, গুনি নাই। গোলাপের কথা মনে হতেই পিপড়েদের কথা মনে পড়ল, আয় পিপড়ে ঝেঁপে, শোক দিস মেপে। যা ভেবেসিলাম, একটাও বকুল নাই, রিকশাও নাই যথাস্থানে। গাছ তলায় দাড়িয়ে ডাকলাম, আয় তো আমার বকুল ফুল, নো রিপ্লাই। মালিনী কেবল অন্ধ নয়, কানেও শোনে না মনে হল, অমিত খচলে খচুক, সত্যি কথাই বলা ভাল।

পুজোর আগে টো টো করে ঘোরায় এখন ছেদ পড়েছে। টিলিভিশনের কাজ করিনা তো এখন। বৃষ্টিতে ছিন্নভিন্ন কাশফুলের চাইতেও তাই মিস করি দিঘি ভরা পদ্ম, বেশিরভাগই পদ্মিনীর মত গোলাপি। আর একরাশ ফড়িং ফড়িং ছেলেবেলা। বর্ধমান বা বীরভূম গেলেই ঠিক খুঁজে বার করতাম, সারা রাস্তা শুনতে শুনতে যেতাম, এখন আর পাওয়াই যায় না! যখন আকাশের তলায় ওমন একটা দিঘি পেতাম, তখন মনে হত আমি ইচ্ছা করলেই পরীক্ষায় ফার্স্ট হতে পারতাম, না আমি কোনো দিন হইনি, চাইওনি। পদ্মদিঘির পাড়ে, কখনও বা ইষৎ হাড়িয়ায় ভাসতে ভাসতে মনে-প্রাণে চাইতাম একটা জলপরীকে, মনে হত একদিন কোন এক পদ্মফুলের ভেতর থেকেই উঠে আসবে সে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:৪৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×