সমস্ত কোলাহল থেমে গেছে। টুপ টুপ করে ঝরে পড়া শিশিরের শব্দে প্রকৃতি জানান দিচ্ছে রাত বাড়ছে। কফির মগ বেয়ে ধোঁয়া কুন্ডলী বেয়ে উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে। নতুন বছরের নতুন ডায়েরি শূন্য পড়ে আছে। নীল কালির কলমের প্রতি আগ্রহ হয়তো অনেকটাই কমে গিয়েছে, তবে লিখতে এখনও ভালো লাগে। জানালা খুললেই ফিনফিনে হাওয়া গায়ে লাগে। সামনের রাস্তাটাকে দেখলে কোনকিছুই বোধদয় হয় না। নাহ কবিতা, নাহ কান্না কিছুই না। এই শহরটাকেই আসলে কিছু মনে হয় না। মনে হয় একটা আবর্জনার স্তুপে নাক চেপে বেঁচে আছি। যে বেঁচে থাকার আসলে কোনো মানে নেই। একটা নগরী আসলে এতটা শ্রীহীন হয়ে যাবে ভাবতে ও কেমন লাগে। হাজার বছর পূর্বে মাকোন্দো’ ও হয়তোবা এতটা খারাপ ছিল না। হেমন্তের শেষ বিকেলের শূন্য মাঠের মত নীরব শূন্যতা নিয়ে কত মানব - মানবী এ শহরের বদ্ধ বারান্দায় বসে আছে অনেকেই তা জানে না। এক জীবনে মানুষ কত কিছু দেখে, কত কিছু শেখে আবার কত কিছু সয়ে যায় ; মানুষ হয়তোবা নিজেও জানে না। রাত যত বাড়ে, অনুভূতিরা তত তীব্র হয়ে ধরা দেয়। যার অনুভূতি যত গভীর তার ব্যথা পাওয়ার সম্ভাবনা ও তত বেশি। কফির ধোঁয়ার সাথে সাথে যদি অনুভূতিরাও উড়ে যেত, সেরকম কিছু হয়না উল্টো মস্তিষ্ক জানান দেয় সবকিছু দাঁড়ি - কমা সহ।
রাত বাড়ছে। হাজার বছরের পুরনো রাত। কি অদ্ভুত! একেকটা সময়ের রাত একেকরকম হয়, কখনো একটার সাথে আরেকটা মিলে না। ছোটবেলার সেই নকশিকাঁথার মত নক্ষত্রের রাত, আরেকটু বড়বেলায় অপূর্ব জোৎস্না আলোকিত প্রান্তর, এ সৌন্দর্যের কোনো তুলনা হয়না। তারপর ধূসর ধূলিমলিন আকাশ। আজকাল তো মনে হয় শুধু মানুষ না আকাশ ও ভালোবাসাহীনতায় ভুগছে। যার সাথে নক্ষত্রের যোজন যোজন দুরত্ব।
রাতের পর রাত পেরিয়ে বছর ঘুরে যায়। আমরা কত কিছু ভুলে যায়। বিগত বছরে কত অশ্রু ঝরেছে কিংবা পুরনো পথে হাঁটতে গিয়ে কতবার হোঁচট খেয়েছি। তবুও মানুষ বেঁচে থাকে। মানুষ মুলত একা। জীবন চলার পথে কেউ চাইলে পাশে হাঁটতে পারে কিন্তু কাউকে জোর করা যায় না। যে পথে কেউ নেই সে পথ একাই হেঁটে যেতে হয়। কেউ কখনো ছিল না, কেউ থাকেও না। তবু ও কেউ কেউ ভুল করে ডায়েরির শূন্য পাতা ভরাট করার জন্য পিছু ফিরে তাকায়।
ক্রমশ রাত বাড়ছে, পৃথিবী ঘুমোতে চায় কিন্তু অসংখ্য মানব - মানবী সকাতরে তাকিয়ে থাকে। সহস্র বছরের পুরনো রাত এভাবেই বয়ে চলে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




