জিয়ার ভাঙা সুটকেসের উত্তরাধিকার কাউসার ইকবাল বলছি
বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের সময় ইন্ডিয়ার
পশ্চিম বঙ্গকে ভালবাসি এমন গান কেন গাইব?
ক্স জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন করা হবে
ক্স স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে ২৭ মার্চ
ক্স লেজ নিয়ে রাজনীতি করা হবে না
ক্স চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের রাজধানী করা হবে
ক্স ৭ মার্চকে পালন করা হবে ‘জাতির সঙ্গে মুজিবের বিশ্বাসঘাতকতা দিবস’
ক্স শেখ হাসিনাকে আখ্যায়িত করা হবে ‘রানিকার’
ক্স আন্দোলন হবে মনুষ্যত্ববাদী কাঠামোয়
জিয়ার ভাঙা সুটকেসের উত্তরাধিকার কাউসার ইকবাল বলছি। যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাঙা সুটকেসের আদর্শ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেহেতু ভাঙা সুটকেসের উত্তরাধিকার হিসেবে আমার কাছে দলের চেয়ারপার্সনের পদ হস্তান্তর করার দাবি জানচ্ছি। এ নিশ্চয়তাও বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতা-কর্মী ও দেশবাসীকে দিচ্ছি যে, আমার দায়িত্বকালে বিএনপিকে যথার্থ জাতীয়তাবাদী দলে পরিণত করা হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসহ সকল মিথ্যা পরিহার করে সত্যসমূহ দেশে প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বর্তমানে সাদা চোখে দেশের রাজনীতির অনেক অসঙ্গতি দেশবাসীর চোখে ধরা না পড়ায় কোন রকম প্রশ্ন তোলা ছাড়াই দেশের মানুষ মূর্খের মতো কিংবা আবেগী হয়ে এমন অনেক কাজ করে চলেছেন, যা যুক্তিসঙ্গত নয়। যেমন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের সময় ইন্ডিয়ার পশ্চিম বঙ্গকে ভালবাসি এমন গান বাংলাদেশীদের কিছুতেই গাওয়া উচিত নয়। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় এই যে, ‘সোনার বাংলা’ বলতে ভারতের পশ্চিম বঙ্গসহ বাংলা ভাষাভাষি জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত বিশাল এলাকা বোঝায়, যা বাংলাদেশের অন্তর্গত নয় এবং সেসব এলাকা বাংলাদেশের আওতায় না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশকে ‘সোনার বাংলা’ বলে অভিহিত করাও যুক্তিযুক্ত নয়। অর্থাৎ, ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ বললে ভারতের পশ্চিম বঙ্গসহ বাংলা ভাষাভাষি জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত বিশাল এলাকাকে ভালবাসার কথাও বোঝায়। এতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবোধের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং বাংলাদেশিদের দেশপ্রেম ও মনুষ্যত্ববোধেও ঘাটতি দেখা যায়। এ গানের কুপ্রভাবেই বাংলাদেশের অনেকের মধ্যে বাংলাদেশপ্রেমের চেয়ে ভারতপ্রেম বেশি দেখা যায়। এমনকি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও দেশপ্রেম লোপ পাচ্ছে এর কুপ্রভাবে। যে কারণে কোটি টাকা নিয়ে মানুষ হত্যাসহ দেশ ও মনুষ্যত্ববিরোধী কর্মকান্ডেও জড়িয়ে পড়ছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। অতএব, এদেশের মানুষের মধ্যে সত্যিকারের দেশপ্রেম ও মনুষ্যত্ববোধ বলীয়ান রাখতে ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ, জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ’ সঙ্গীতকে জাতীয় সঙ্গীত করার জন্য সোচ্চার হতে হবে দেশবাসীকে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পেলে আগামীতে ক্ষমতায় গিয়ে দেশবাসীর সমর্থন নিয়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন করা হবে। সেইসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করা হবে ২৭ মার্চকে। কারণ ২৭ মার্চই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে। এর আগে কেউ স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও তা যেহেতু দেশবাসীর কানে পৌঁছেনি তখন এবং এর কোন প্রভাবও ছিল না বিশ্ব অঙ্গনে, সেহেতু ২৭ মার্চকেই সত্য ও যথার্থ দিন হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করা হবে। আর যেহেতু চট্টগ্রাম থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এসেছিল, সেহেতু আমি ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামকেই বাংলাদেশের রাজধানী করা হবে।
মানুষের লেজ থাকে না। তাই মনুষ্যত্ববাদী রাজনীতি করতে অন্য কোন দলকে ‘লেজ’ হিসেবে গ্রহণেরও দরকার পড়ে না। বর্তমান বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোন দলই মনুষ্যত্ববাদী রাজনীতি করছে না বলে এ দুটি দলের নেতৃবৃন্দ ‘লেজ’ হিসেবে গ্রহণ করেছে অন্য রাজনৈতিক দলকে। আমার নেতৃত্বে বিএনপিতে কোন ‘লেজ’ রাখা হবে না। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে যারা বিশ্বাসী তাদের সকলকে জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দিয়েই রাজনীতি করতে হবে। অন্যথায় যার যার রাজনীতি তার তার।
বিএনপির চেয়ারপার্সন হতে পারলে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মিথ্যাচার বন্ধ করতে সঠিক ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি ৭ মার্চকে ‘জাতির সঙ্গে মুজিবের বিশ্বাসঘাতকতা দিবস’ হিসেবে পালন করব। কারণ, শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের আগেই দশ লক্ষাধিক বাঙালি বর্শা-বল¬¬ম যার যা আছে তা হাতে নিয়ে রেসকোর্স ময়দানে হাজির হয়েছিল শেখ মুজিব কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা তথা যুদ্ধ শুরুর নির্দেশ পেয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণের উদ্দেশ্যে। কিন্তু মুজিবের মুখ কেউ চেপে ধরে না থাকলেও তিনি বললেনÑ ‘আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমাদের যার যা আছে তাই নিয়ে শত্র“র মোকাবেলা করবে।’ হুকুমটা তখনই তিনি দিতে সক্ষম ছিলেন। কিন্তু দিলেন না। কেননা, এতে তার পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা লাভের পথ বন্ধ হয়ে যেত। তখন তার হুকুম শুনে দশ লক্ষাধিক বাঙালি ক্যান্টনমেন্ট ছুটে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। সংগঠিত জনতা একসঙ্গে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের উদ্দেশ্যে ছুটলে তার যে ফল পাওয়া যেত, তার চেয়ে বিচ্ছিন্ন জনতার হেথা-হোথা বর্শা-বল¬ম ধরার ফল অনেক কম। একথা বোঝার ক্ষমতা যে শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না, তা কিন্তু নয়। তিনি বুঝে-শুনেই সংগঠিত জনতাকে ক্যান্টনমেন্টের উদ্দেশ্যে ছুটে যাবার হুকুম দেন নাই। বরং ভন্ডামিপূর্ণ কথা শুনিয়ে সুকৌশলে সংগঠিত জনতাকে তাদের সঙ্গে করে নিয়ে আসা বর্শা-বল¬¬ম অব্যবহৃত রেখেই ক্যান্টনমেন্টের বিপরীত রাস্তা ধরিয়ে ফেরত পাঠালেন। এতে প্রকৃত ফল হিসেবে সেদিন মুজিবের ভূমিকা ছিল পাকিস্তানিদের পক্ষেই। কারণ, পাকিস্তানিরা বাঙালিদের আন্দোলন দমাতে সৈন্য সমাবেশের সুযোগ পেয়ে যায় এতে। শেখ মুজিবের এক নির্দেশেই ৭ মার্চ যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতালাভের পথ অনেক সহজ হয়ে যেত, সেখানে পাাকিস্তানের ক্ষমতালাভের পথ খোলা রাখতে তিনি সংগঠিত জনতাকে নিষ্ক্রিয় করার বাসনা নিয়ে যে অপকৌশলে দশ লক্ষাধিক বাঙালিকে ক্যান্টনমেন্টের বিপরীত রাস্তা ধরালেন, তা স্বাধীনতাকামী সকল বাঙালির সাথে প্রতারণার শামিল। এই লোকগুলো ৭ মার্চই শেখ মুজিবের এক নির্দেশে হাসিমুখে সম্মুখ সমরে প্রাণ দিতে রাজী ছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে মুজিবের বিশ্বাসঘাতকতায় ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র অবস্থায় অসহায়ভাবে মৃত্যুবরণ করতে হলো অনেককে, যার প্রভাব বরং নেতিবাচক হলো জাতির জন্য। ৭ মার্চের সংগঠিত জনতার শক্তির স্থলে ২৫ মার্চ রাতের আক্রমণের পর স্বাধীনতাকামীরাই অসহায় বোধ করে পালাতে শুরু করল এদিক-ওদিক। এদের অনেকেই অতিরিক্ত পাক বাহিনীর সৈন্যদের সম্মুখে পড়ে প্রাণ হারাল। আর অনেকে ভারতে পাড়ি দিয়ে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করতে করতে ৫/৬ মাস সময় পেরিয়ে গেল। এতে সামগ্রিকভাবে দেশে থাকা বাঙালিদের প্রাণহানি ঘটল ব্যাপকভাবে এবং নারীদের সম্ভ্রমহানিও ঘটতে থাকল প্রচুর পরিমাণে। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতালাভে আন্তরিক হতেন এবং পাকিস্তানের ক্ষমতালোভ তার না থাকত, তবে ৭ মার্চই সংগঠিত জনতাকে ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণের নির্দেশ দিলে ২৫ হাজার পাকসেনাকে পরাভূত করা বাঙালিদের জন্য অনেক সহজসাধ্য হতো। সবচেয়ে বড় কথা হলোÑ ক্ষমতার লোভ না থাকলে তিনি পাকিস্তানিদের সঙ্গে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ১৬-২৫ মার্চ পর্যন্ত দর কষাকষি করতে যেতেন না। আর তার ক্ষমতার লোভের কারণেই ২৫ মার্চ পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে বাঙালিদের স্বাধীনতার চেতনা দমিয়ে দেবার জন্য এদেশে পাক সেনা মোতায়েনের সুযোগ করে দিলেন। সেই সুযোগে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ১৮ দিনে আরো ৬৫ হাজার সৈন্য মজুত করল বাংলাদেশে এবং ২৫ মার্চ সন্ধ্যা থেকে বাঙালিদের স্বাধীনতার চেতনা গুঁড়িয়ে দিতে তৎপরতা চালাল। মুজিব তখনও স্বাধীনতার জন্য নেতৃত্ব দিতে অন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের মতো গৃহত্যাগ না করে পাকিস্তানের ক্ষমতা লাভের পথ খোলা রাখতেই গৃহে থেকে গেলেন। আর অনেকে বিশ্বাস করতে না চাইলেও একথাও সত্য যে, ছাত্রনেতাদের তরফ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর যে চাপ ছিল, তা এড়াতে ৬ মার্চ গভীর রাত ২টায় গুপ্ত সংবাদসহ মুজিব তার ২ জন প্রতিনিধি পাঠান ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের জিওসি’র বাসায়। মেজর সিদ্দিক সালেকীর ডরঃহবংং ঃড় ঝঁৎৎবহফবৎ গ্রন্থের ৫৩ নং পৃষ্ঠায় এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের জিওসি রাত ২টায় ঘুম থেকে জাগেন তার ইন্টেলিজেন্স অফিসার দ্বারা। ইন্টেলিজেন্স অফিসারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ২ জন প্রতিনিধি ছিল। মুজিবের গুপ্ত সংবাদ নিয়ে আসা প্রতিনিধি জিওসিকে বলেন: ‘ঝযবরশয ঝধযরন রং ঁহফবৎ রসসবহংব ঢ়ৎবংংঁৎব ভৎড়স বীঃৎবসরংঃং. ঞযবু ধৎব ভড়ৎপরহম যরস ঃড় সধশব ঃযব ট.উ.ও. ঐব ফড়বংহ’ঃ ভরহফ বহড়ঁময ংঃৎবহমঃয ঃড় ৎবভঁংব ঃযবস. ঐব ংঁমমবংঃং ঃযধঃ যব নব ঃধশবহ রহঃড় সরষরঃধৎু পঁংঃড়ফু.’ (শেখ সাহেব উগ্রপন্থিদের দ্বারা বিশাল চাপে আছেন। তারা তাকে পূর্ব পাকিস্তানের একপক্ষীয় স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য চাপ দিচ্ছে। তিনি তাদের প্রত্যাখ্যান করার মতো শক্ত যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না। তাই তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, তাকে সেনা তত্ত্বাবধানে নেয়ার।) জবাবে জিওসি বলেন, ‘ও ধস ংঁৎব ধ ঢ়ড়ঢ়ঁষধৎ ষবধফবৎ ষরশব গঁলরন শহড়ংি যড়ি ঃড় ৎবংরংঃ ংঁপয ঢ়ৎবংংঁৎব. ঐব পধহ হড়ঃ নব সধফব ঃড় ধপঃ ধমধরহংঃ যরং রিষষ. ঞবষষ যরস ও রিষষ নব ঃযবৎব (ধঃ ঃযব জধসহধ জধপব ঈড়ঁৎংব) ঃড় ংধাব যরস ভৎড়স ঃযব ৎিধঃয ড়ভ ঃযব বীঃৎবসরংঃং. ইঁঃ ঃবষষ যরস ঃড়ড় ঃযধঃ, রভ যব ঃধষশং ধমধরহংঃ ঃযব রহঃবমৎরঃু ড়ভ চধশরংঃধহ, ও রিষষ সঁংঃবৎ ধষষ ও পধহ- ঃধহশং, ধৎঃরষষবৎু ধহফ সধপযরহব-মঁহং- ঃড় শরষষ ধষষ ঃযব ঃৎধরঃড়ৎং ধহফ রভ হবপবংংধৎু, ৎধুব উধপপধ ঃড় ঃযব মৎড়ঁহফ. ঞযবৎব রিষষ নব হড় ড়হব ঃড় ৎঁষব, ঃযবৎব রিষষ নব হড়ঃযরহম ঃড় ৎঁষব. (আমি নিশ্চিত, মুজিবের মতো একজন জনপ্রিয় নেতা জানে কিভাবে এমন চাপ প্রতিরোধ করতে হয়। তিনি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখতে পারেন না। তাকে বোলো, আমি সেখানে থাকব (রমনা রেসকোর্স-এ), উগ্রপন্থিদের ক্রোধ থেকে তাকে রক্ষার জন্য। কিন্তু তাকে এটাও বোলো যে, যদি সে পাকিস্তানের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কোন কথা বলে, আমি প্রচুর পরিমাণে ট্যাঙ্ক, কামান, মেশিন গান সমবেত করব সকল দেশদ্রোহীকে হত্যা করতে এবং যদি প্রয়োজন হয়, ঢাকাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেব। ঢাকায় কেউ থাকবে না শাসন করার মতো। ঢাকায় কিছুই থাকবে না শাসন করার মতো।)
শেখ মুজিবুর রহমান জিওসি’র এমন হুমকিতে ভয় পাওয়ার পাত্র নয়। বরং, দশ লক্ষাধিক লোককে সেদিন ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণের হুকুম দিলে জিওসিসহ পাকিস্তানিরাই মাটির সাথে মিশে যেতে পারত। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান রাষ্ট্রকে ভাঙতে চাননি বলে এবং তিনি পাকিস্তানের দুই অংশেরই শাসনক্ষমতা চেয়েছিলেন বলে একাংশের ক্ষমতালাভের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। আর দুই অংশের শাসনক্ষমতা লাভের উদ্দেশ্যে ১৬ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া খানসহ পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাও চালিয়েছিলেন। এরপর ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে ২৫ মার্চ বাঙালি নিধন শুরু হলে শেখ মুজিব স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের নেতৃত্ব দিতে বাঙালিদের পাশে না থেকে ৬ মার্চ গভীর রাতে তাকে গ্রেপ্তারের যে দাবি জানিয়েছিলেন পাকিস্তানি জেনারেলের কাছে, সেই ইচ্ছাটাই পূরণের সুযোগ করে দিলেন পাক সেনাদের। কারণ, মুজিবের বিবেচনাতে ছিলÑ এতেই তার সমস্যার সমাধান সম্ভব। উগ্রপন্থিদের স্বাধীনতার বাসনা পাক সেনারা দমিয়ে দিলে পাকিস্তানের ক্ষমতালাভের পথতো তার খোলা থাকছেই! এ কারণে ২৫ মার্চের ক্র্যাক-ডাউনের পর আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীনতা ঘোষণার ছোট্ট একটি খসড়া তৈরি করে টেপ-রেকর্ডারে ধারণ করার জন্য তা শেখ মুজিবুর রহমানকে পড়তে দিলে শেখ মুজিব খসড়াটি পড়ে নিরুত্তর থাকেন এবং এড়িয়ে যান। তাজউদ্দীন আহমদ ঘোষণাটি দিতে অনুরোধ জানালে শেখ মুজিবুর রহমান উত্তর দেনÑ ‘এটা আমার বিরুদ্ধে একটা দলিল হয়ে থাকবে। এর জন্য পাকিস্তানিরা আমাকে দেশদ্রোহের অভিযোগে বিচার করতে পারবে।’ স্বাধীনতা ঘোষণার ব্যাপারে শেখ মুজিবুর রহমানের এ বক্তব্যও প্রমাণ করে যে, তিনি বাংলাদেশ স্বাধীনে বা পাকিস্তানকে দ্বিখণ্ডিত করার ব্যাপারে আন্তরিক ছিলেন না। লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজীও তার লেখা ঞযব ইবঃৎধুধষ ড়ভ ঊধংঃ চধশরংঃধহ গ্রন্থের ৯৪ পৃষ্ঠায় লিখেছেন: দগঁলরন যধফ হড়ঃ উবপষধৎবফ ঁহরষধঃবৎধষ রহফবঢ়বহফবহপব ড়ৎ ধিমবফ ধ ধিৎ.’ [মুজিব একপক্ষীয় (পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের) স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি কিংবা যুদ্ধ চালানোর কথাও বলেননি। অতএব, শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক বলে বিবেচনা করা যায় না। বরং তাকে ‘বঙ্গশত্র“’, ‘জাতির হন্তারক’, ‘জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতক’ এ জাতীয় বিশেষণে ভূষিত করা দরকার সঠিক ইতিহাস চর্চার স্বার্থে।
শেখ মুজিবের মতো শেখ হাসিনাকেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী বলা যাবে না। কারণ, ১৯৭১ সালে শেখ হাসিনা পাকিস্তানি বাহিনীর সেবা-শুশ্র“ষা নিয়ে ঢাকা সেনানিবাসের সিএমএইচে সজীব ওয়াজেদ জয়কে জন্ম দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একাত্তর সালে তার মধ্যে থাকলে তিনি কিছুতেই পাকিস্তানি বাহিনীর তত্ত্বাবধানে জয়কে জন্ম দিতে যেতেন না। বর্তমানে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের বিরোধিতা করলেও ৭১ সালে তিনি ছিলেন পাকিস্তানপন্থীই। কেননা, পাকিস্তানপন্থী ছাড়া আর কাউকে সেবা-শুশ্র“ষা দেয়নি পাক বাহিনী। অন্যদের হত্যা করেছে তারা। আর পাকিস্তানপন্থীদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়েছে। অতএব, পাকিস্তানপন্থী জামায়াতে ইসলামীর নেতারা ১৯৭১ সালে ‘রাজাকার’ থাকলে শেখ হাসিনা ছিলেন ‘রানিকার’।
এই ভণ্ডদের রাজনৈতিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে চাইলে এবং মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা থাকলে দেশবাসীর উচিত শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ক্ষমতা না ছাড়া পর্যন্ত দেশের যে যেই প্রান্তে অবস্থান করছে, সেখানেই রাজপথে বসে থাকা। তবে বিধ্বংসী হয়ে দেশের জনগণের জানমালের ক্ষতি করা কারোরই উচিত হবে না। কারণ, বিএনপিকে মনুষ্যত্ববাদীদের দলে পরিণত করতে হবে। এজন্য পশুত্ববাদীদের রাজনীতি অনুসরণ করে বাস-ট্রাক-কার-ট্যাক্সি ভাঙচুর করা বা পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পোড়ানোর রাজনীতি ত্যাগ করতে হবে। বাংলাদেশি চেতনার মনুষ্যত্ববাদীরা রাজপথে যে যেখানে আছে, সেখানে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েই শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব। তবে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে যদি মহিষ-গন্ডারের দল হামলা চালাতে চায়, তবে মহিষ-গন্ডারদের ঠ্যাঙাতে যা করণীয়, তাতো করতেই হবে। আর পুলিশ-বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান থাকবে তারা যেন মুক্তিযুদ্ধে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাকারী মুজিবের পরিবারের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে জাতীয়তাবাদী দেশবাসীর পক্ষে অবস্থান নেন। নাহলে যে তাদের পূর্বসূরিদের প্রতি তারা অবিচার করে বসবেন।
কাউসার ইকবাল
লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিক

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





