
কিছুদিন আগে ইউএনএইচসিআরের (UNHCR) একটি সেমিনারে হলিউড অভিনেত্রী এঞ্জোলিনা জোলির একটি বক্তব্য শুনেছিলাম। যদিও ছোটবেলা থেকে হলিউড, বলিউড, ঢালিউড কোন মুভির প্রতি আমার আগ্রহ নেই; এজন্য চলচ্চিত্র তারকাদের কেউ আমার আইডল নয়। কিন্তু এঞ্জোলিনা জোলিকে পছন্দ করতাম তার সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, পারিবারিক জীবন, শিশুদের জন্য মানবিকতা ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের জন্য।
সেমিনারে তিনি বলেন, আমি অনেক ভাগ্যবতী এজন্য যে আমার সামর্থ্য আছে ভাল মানের খাবার কিনে খাওয়ার; আছে থাকার জন্য বিলাসবহুল একটি বাড়ি; নিজেরও সন্তানদের জন্য আছে নিরাপদ আবাস। আমি প্রতিনিয়ত নিশ্চিত করি আমার নিজেরও পরিবারের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবন। ইদানিং খুব অনুধাবন করি, অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আমি বেঁচে আছি। আমরা এখানে যারা বসে আছি সবাই খুব ভাগ্যবান। আমি এখনো বুঝতে পারি না কেন পৃথিবীর কিছু মানুষ আমার মতো বাড়তি সুযোগ সুবিধা নিয়ে বেঁড়ে উঠে? অপরদিকে পৃথিবীতে হাজারো মহিলা আছেন যারা আমার মতো সমান দক্ষতা, সমান ইচ্ছাশক্তি নিয়ে বেড়ে উঠেন।
যাদের অনেকেই সুযোগ পেলে আমার চেয়ে ভাল অভিনেত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন, আমার চেয়ে ভাল বক্তা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তাদের কেউ আজ রিফিউজি ক্যাম্পে, কেউ নির্যাতিত হচ্ছেন, কেউবা অনাহারে অর্ধাহারে জীবন কাটাচ্ছেন। আমি তাদের চেয়ে অনেক বেশী সুযোগ পেয়েছি নিজেক প্রমাণ করার, বিশ্বমঞ্চে অংশগ্রহণ করার। এটা আমাকে আঘাত করে, আমাকে ভীষণ রকম ভাবায়। আমার মা বলতেন, Nothing would mean anything, if you didn't have a life of use to others. অর্থাৎ "সুযোগ থাকার পরও তুমি যদি নিজের জীবনকে পরোপকারে বিলিয়ে দিতে না পার তাহলে এ জীবনের কোন মূল্য নেই"। আমি বাকী জীবনটা এভাবেই কাটাতে চাই।
প্রতিটি সফলতার পেছনে এক বা একাধিক ব্যর্থতার গল্প আছে। ব্যর্থ গল্পগুলো আমাদের সামনে আসে না গল্পের নায়ক সফল না হলে। কতশত স্বপ্ন প্রকৃতির মাঝে মিলিয়ে যায় আলোর মুখ দেখার আগে এই খবর কেউ রাখে না। এঞ্জোলিনা জলিও প্রথম জীবনে অনেক থিয়েটার ও ফিল্মের অডিশনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি এসব ব্যর্থতায় দমে না থেকে সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন, নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে। তিনি আজ সফল, এজন্য তার ব্যর্থতার ইতিহাস, সফল হওয়ার অদম্য স্পৃহার কথা আমরা সবাই জানি।

গত কিছুদিন থেকে ভাবছিলাম নতুন একজন সফল তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা নিয়ে লেখব। তাদের সফলতা, ব্যর্থতার গল্পগোলো মানুষের সামনে তুলে ধরব। একটি সফলতার পেছনে একজন উদ্যোক্তার কত পরিশ্রম, স্বপ্ন ও কর্মঘন্টা খরছ হয় তার খবর কে রাখে। কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছিতে না পারার ব্যর্থতায় তারাও অনেক সময় হতাশায় ভোগতেন, কিন্তু নিজের স্বপ্নকে কখনো মাটি চাঁপা দেন নাই; পরিশ্রম করে গেছেন শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্নকে সার্থক করার জন্য। সবচেয়ে অবাকের বিষয় এতে বেশিরভাগ উদ্যোক্তারই মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল না বড়লোক হওয়ার। একমাত্র চাওয়া ছিল নিজের স্বপ্নের বাস্তবায়ন।
২০০৮ সালে ইন্টারনেট জায়েন্ট ইয়াহু ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গকে তার আইডিয়াটি কেনার জন্য এক বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল। জবাবে তিনি বলেছিলেন আমি টাকার জন্য ফেইসবুক তৈরী করিনি, আমি এর শেষ দেখতে চাই।। এটা আমার স্বপ্ন, আমার সন্তান। টাকার বিনিময়ে কেউ কী তার সন্তানকে বিক্রি করতে পারে? অথচ তিনি জানতেন না ফেইসবুক আজকের অবস্থানে আসবে। মাত্র দশ বছরে তিনি আজ পৃথিবীর পাঁচজন সেরা ধনীর একজন।
তথ্য প্রযুক্তির উদ্যোক্তাদের তালিকা অনেক লম্বা। বিশেষ করে বলতে গেলে, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, এ্যাপোলের স্টিভ জব, গুগলের ল্যারি পেজ, ফেইসবুকের মার্ক জুকারবার্গ, আমাজনের জেফ বেজ্ ও আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা উল্লেখযোগ্য। এসব উদ্যোক্তাদের মধ্যে সম্ভবত জ্যাক মা সবচের কম পরিচিত। তিনিই একমাত্র উদ্যোক্তা যার ব্যবসা আমেরিকার বাইরে। আমার আজকের লেখা সফল উদ্যোক্তা জ্যাক মা-কে নিয়ে।
জ্যাক মা (Jack Ma), যিনি চায়নাতে 'মা-য়ুন' নামে পরিচিত। ১৯৬৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি চিনের ছোট্ট শহর হ্যাংজুতে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকে ইংরেজি শেখার প্রতি তাঁর ঝোক ছিল। এজন্য প্রতিদিন ৭০ মিনিট বাইক চালিয়ে ইংলিশ স্পিকিং ক্লাবে যেতেন ইংরেজিতে আরো দক্ষতা বাড়ানোর জন্য। তিনি ক্লাসের পড়ায় তেমন মনোযোগী ছিলেন না, এজন্য ম্যাট্রিক পাশ করতে তাঁর চার বছর সময় লেগেছিল! ১৯৮৮ সালে তিনি হ্যাংজু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা এ উদ্যোক্তা বর্তমানে চীন তথা এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি বর্তমান পৃথিবীর নতুন উদ্যোক্তাদের আইকন হিসাবে পরিচিত। বিশেষ করে তার মোটিভেশনাল স্পীচ হাজার হাজার মানুষ আগ্রহ নিয়ে শুনে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিজনেস আইডিয়া দিয়ে মানুষকে উদ্ভুদ্ধ করেন তিনি।

জীবনের প্রথম যে ৩০ টি চাকরির জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন দুর্ভাগ্যক্রমে সব কয়টিতেই বাদ পড়েন! তিনি বলেন, পুলিশের চাকরির ইন্টারভিউতে গেলে তাঁকে বলা হয়েছে এই চাকরির জন্য তুমি উপযুক্ত না। উল্লেখ্য যে, জ্যাক মা দেখতে মোটেও সুদর্শন নয়, যুবক বয়সে তিনি দেখতে খুব রোগা ও লিকলিকে ছিলেন। চায়নাতে যখন কেএফসি (KFC) প্রথম ব্যবসা শুরু করে সে সময় ইন্টারভিউ দিতে আসা ২৪ জনের মধ্যে তিনি ছাড়া বাকি ২৩ জনের চাকরি হয়েছিল! হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ বার আবেদন করে প্রতিবারই বাদ পড়েছেন। ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে তাঁর কোন সফলতা নেই, শুধুই ব্যার্থতার গ্লানি। কিন্তু দমে যান নাই। কারণ তিনি জানতেন, ব্যর্থতাই সফল হওয়ার প্রথম পাঠ।
১৯৯৪ সালে তিনি ইন্টারনেটের নাম শুনেন। এই আগ্রহ থেকে তিনি এ বিষয়ে পড়াশুনা করতে ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান। একদিন কৌতুহল বশত তাঁর এক বন্ধুর কম্পিউটারে Beer (ভাল্লুক) সার্চ করলে বিভিন্ন দেশের ভাল্লুকের ছবি আসলেও চায়নিজ কোন ভাল্লুকের ছবি দেখতে পেলেন না। এবার চায়না লেখে সার্চ করলেন, কিন্তু না এবারও কোন তথ্য আসল না। ব্যাপারটি তাকে ব্যথিত করলো, পাশাপাশি বিষ্মিতও হলেন। চায়নার কোন বিষয়ে পৃথবীর মানুষ জানে না এটা তাকে ভাবিয়ে তুল্ল।
এই ভাবনা থেকেই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন, আর নয় আমেরিকা। দেশে ফিরে স্থানীয় সরকারি অফিসে 'ইন্টারনেট' নাম দিয়ে একটি 'ই-কমার্স' কোম্পানী রেজিস্টেশন করতে গেলে তাকে বলা হলো এই শব্দটি সরকার প্রদত্ত ডিকশনারিতে নেই! অতএব এই নামে কোন কোম্পানি রেজিস্ট্রি করা যাবে না।
একদিন তিনি ঘনিষ্ট কিছু বন্ধুকে তার বাসায় ডাকলেন ই-কমার্স ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করার জন্য। উপস্থিত বন্ধুদের দশজনই তাঁর আইডিয়া নিয়ে হাসাহাসি করলে, বাকি সাতজনকে কোনমতে রাজি করালেন। সবাই মিলে একটি প্রডাক্ট বিক্রি করার জন্য ইন্টারনেটে দিয়ে পাঁচ দিন অপেক্ষা করলেন, না কেউ নক করল না। ত্রিশ দিন অপেক্ষার পরও কোন ক্রেতা না পাওয়ায় পণ্যটি নিজেদের মধ্যে কেনাবেচার সিদ্ধান্ত নিলেন তারা। তখন চায়নাতে ইন্টারনেট এত স্লো ছিল যে, কোন কোন পেইজ ওপেন হতে ২-৩ ঘন্টা লেগে যেত! তারপরও তিনি ধৈর্য হারাননি। তারা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের পরিত্যক্ত জিনিসগুলো কিনে আনতেন। মানুষ অবাক হয়ে ভাবত এগুলোও বিক্রি করা সম্ভব!

ফলে প্রতিদিন অনেক মানুষ তাদের পরিত্যাক্ত জিনিস বিক্রির জন্য তাদের কাছে নিয়ে আসত। পরিত্যক্ত এসব জিনিসে বাড়ির আঙ্গিনা ভরে যেত। এভাবেই তিনি ই-কমার্সের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করে আজ সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহন করেছন। প্রাথমিকভাবে তিনি তার স্ত্রী ও কাছের বন্ধুদের কাছ থেকে বিশ হাজার ডলারের সমপরিমান পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করে আজ তার কোম্পানীর মূলধন প্রায় ৪৯ বিলিয়ন ডলার (২০১৭)। তিনি বর্তমানে আলীবাবা গ্রুপের চেয়ারম্যান। যার নয়টি বড় সহযোগী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। এগুলো হলোঃ Alibaba.com, Taobao Marketplace, Tmall, e Tao, Alibaba, Cloud Computing, Juhuasuan, 1688.com, Aliexpress.com & Alipay.
সফলতার গল্প বলতে গিয়ে তিনি বলেন, যখন চায়নাতে প্রথম ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করি তখন চায়নার অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব নাজুক ছিল। তাঁর মতে, যখন কোথাও সুযোগ সুবিধার অভাব সেখানেই ব্যবসার অপার সম্ভাবনা থাকে। কারণ এই ব্যবসাটি আগে এখানে কেউ করেনি। তিনি আর বলেন, তখন চায়নাতে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মানুষ গ্রামে বাস করতো, এদের মধ্যে প্রায় ২০০ মিলিয়ন মানুষের দৈনিক আয় এক ডলারেরও কম ছিল! আপেল চাষীরা ক্রেতার অভাবে নাম মাত্র মূল্যে ট্রাক হিসাবে আপেল বিক্রি করতেন, তারপরও প্রায় ৯০% আপেল ক্রেতার অভাবে পঁচে যেত! আলীবাবা প্রতিষ্ঠার পর কৃষকরা এখন আপেলের ন্যায্য মূল্য পায়, কোন আপেল ক্রেতার অভাবে নষ্ট হয় না।
জ্যাক মা বলেন, বিশ বছর বয়স পর্যন্ত ভালভাবে পড়াশুনা করতে হবে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা জানতে হবে এবং চোখ কান খোলা রেখে বুঝার চেষ্টা করতে হবে। ত্রিশ বছরের মধ্যে সমাজের এক বা একাধিক সফল মানুষকে ফলো করতে হবে। এসময় কোন কোম্পানীতে জয়েন করে শেখার চেষ্টা করলে ভাল হয়। এক্ষেত্রে ছোট কোম্পানী হলে ভাল হয়, এতে সহজে ব্যবসার পলিসিটা বুঝতে পারা যায়। এসময় একজন দক্ষ বসের অধীনে কাজ করলে ব্যবসার অনেক খুটিনাটি জিনিস শেখা সম্ভব। যদি কেউ উদ্যোক্তা হতে চান তাহলে ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর বয়স হলো সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। চল্লিশ পরবর্তী সময়ে এমন কিছুর উদ্যোক্তা হতে হবে যা আপনি ভালভাবে জানেনও বুঝেন। এই বয়সে বাড়তি ঝুঁকি নেওয়া যাবে না, এতে সফলতা নাও আসতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আপনি যদি আগামীকাল সফল হতে চান তা অসম্ভব। এমনকি যদি এক বছর পরও সফল হতে চান তাও সম্ভব নয়। কিন্তু আপনি যদি দশ বছর পর জয়ী হতে চান তাহলে ভাল সম্ভাবনা আছে। আমি মনে করি আগামী ত্রিশ বছরে পৃথিবীতে অনেক পরিবর্তন আসবে। যদি কোন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয় তাহলে তা হওয়া উচিৎ বিভিন্ন মহামারি অসুখের বিরুদ্ধে, জলবায়ু দূষণের বিরুদ্ধে, সম্মিলিত ভাবে দারিদ্র দুরীকরণের বিরুদ্ধে। তবে কখনোই তা মানুষের বিরুদ্ধে নয়। তবে যদি যৌথভাবে সারা পৃথিবীর মানুষ এই টেকনোলজির সুবিধা না পায় তালে আবার পৃথবীতে অসমতা দেখা দেবে। এতে কেউ বেশি সুবিধা পাবে আবার কেউ এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। এটি হতে দেওয়া যাবে না।
এক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন খুব জরুরী। যত বেশি সম্ভব মহিলাদেরকে ব্যবসা ও সার্ভিসে যুক্ত করতে হবে। কারণ পুরুষের চেয়ে মহিলারা বেশি কেয়ারিং ও গোছানো। বিশ্বায়নের যুগে ব্যবসা হবে বিশ্বব্যাপী, এটা বন্ধ করার কোন সুযোগ নেই। যদি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। আগেকার দিনে বিশ্বব্যাপী ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতো কিছু প্রভাবশালী রাজপরিবার ও সম্রাজ্য। গত ত্রিশ বছর তা নিয়ন্ত্রণ করেছে ষাট হাজার বড় কোম্পানী। যদি আপনি এসব ক্ষমতাবান কোম্পানীর কেউ না হন অথবা ধনী ও প্রভাবশালী কোন দেশের নাগরিক না হন তাহলে আপনার সুযোগ ছিল সীমিত। তবে আমি নিশ্চত ভাবে বলতে পারি আগামী ত্রিশ বছর হবে কমপক্ষে ষোল মিলিয়ন কোম্পানীর পৃথিবী। এখানে সবার সমান সুযোগ থাকবে।
সফল এই উদ্যোক্তা বলেন, আমি প্রতিটি ভূল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। অসংখ্যবার রিফিউজ হয়েছি, অপমানিত হয়েছি কিন্তু কখনো দমে যাইনি। যদি থেমে যেতাম তাহলে আলীবাবার জন্ম হতো না। আমি মনে করি মানুষের দ্বারা রিজেক্ট হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। যতক্ষণ না আপনি নিজেকে প্রমাণ করবেন, ততক্ষণ কেউ আপনাকে সাহায্য করবে না। সবাই সফলতার গল্প শুনতে চায়, কিন্তু কেউ জানে না কোনো এক ভূল থেকেই সফলতার শুরু হয়।
এজন্য সফলতার নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই। তবে সফলতার প্রথম ধাপ হলো আপনাকে স্বপ্নবাজ হতে হবে। নিজেদের কৃষ্টি কালচারের প্রতি যত্নবান হতে হবে। মানুষ কি বল্ল তা না ভেবে নিজের স্বপটাকে বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যেতে হবে। প্রতিষ্ঠানের একটি ভাল নাম দিতে হবে। তিনি বলেন, আলীবাবা নামটি আমার মনে যখন আসে তখন আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোর একটি রেস্টুরেন্টে বসেছিলেন। এ সময় দশজন মানুষকে নামটি সম্বন্ধে জানতে চাইলে সবাই বলেন নামটি তারা শুনেছেন। তখনই তিনি তাঁর কোম্পানীর জন্য নামটি চূড়ান্ত করে ফেলেন।
অনেকে হয়তো ভাবছেন জ্যাক মা-কে নিয়ে লেখতে গিয়ে হলিউড অভিনেত্রী এঞ্জোলিনা জোলিকে টেনে আনলাম কেন? কারণ, জোলির কথায় পৃথিবীর আনাচে কানাচে এমন কিছু রত্ন লুকিয়ে আছেন; যাদের অনেকেই সুযোগ পেলে আমার চেয়ে ভাল অভিনেত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন, আমার চেয়ে ভাল বক্তা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন, ভাল উদ্যোক্তা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। জ্যাক মা এই 'তাদেরই' একজন। যিনি চিনের অজোপাড়াগায়ে জন্মে নিয়ে কারো মুখোপেক্ষি না হয়ে সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায় আজ সফল। পৃথিবীর অন্যতম ই-কমার্স উদ্যোক্ত।।

ফটো ক্রেডিট,
গুগল।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১৮ সকাল ৭:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



