ম্যাকিয়াভেলি তাঁর লেখা "দ্যা প্রিন্স"- বইটিতে মানুষের পরিচয় দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতির আলোচনায় বলেছিলেন, মানুষ জন্মগতভাবেই শঠ,প্রতারক এবং স্বার্থপর। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ধার্মিক হওয়ার চেয়ে ধার্মিকতার ভাণ ধরে রাখার ক্ষেত্রেই তিনি জোর দেন। তাঁর মতে, ধর্মের অধীনে রাষ্ট্র চলবেনা। বরং এক্ষেত্রে ধর্মই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
কথাগুলো পড়ে আঘাত পাওয়ারই কথা। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীদের মাঝেও তাই হয়েছিল।
তারা, এমনকি শেক্সপিয়ারও তাকে অভিহিত করেছিলেন Devil in the guise বলে।
তিনি Devil হোন বা Deity হোন,সেটা অবিবেচ্য। কথা হল,তিনি যা বলেছিলেন পঞ্চবিংশ শতাব্দীতে,আজকের বিশ্বে তাই কিন্তু অনুসরিত হচ্ছে নির্দ্বিধায়।
ধর্মীয় অনুভুতিকে পূঁজি করেই আজ শাসক দল বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্বার্থসিদ্ধি করেই চলেছে।
যেমন ধরুন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন - ইসলামী ব্যাংকিং একটি প্রতারণা। কথাটা তিনি যে মিথ্যে বলেন নি,আপনার চারপাশে ইসলামি ব্যাংকিং এর সাথে যুক্ত যে কাউকেই জিজ্ঞেস করলে জানতে পারবেন। যতটুকু জানি, শরীয়াহ প্র্যাকটিসের ক্ষেত্রে "কিছু গ্রহণ করব আর কিছু বাদ দেব"- এমন কোন আদেশ নেই। আমাদের দেশের ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থাও ঠিক এই পর্যায়ে। এতে ব্যাংকওয়ালাদের কোন দোষ নেই। দোষ টা হল আমাদের জনগণের চরিত্রে।
আমি ব্যাংকার নই,তাই বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যাওয়ার প্রয়োজন মনেও করছিনা। শুধু এক্সপার্টদের কাছে জেনে নেয়ার পরামর্শ দিলাম। আমিও ওভাবেই জেনেছি। "ইসলাম" এই ক্ষেত্রে শুধুই একটি বিজ্ঞাপন।
ম্যাকিয়াভেলি শাসকদের চরিত্রে সজোরে আঘাত করায় যেমন শয়তান হয়ে গেলেন,অর্থমন্ত্রীও তাই হবেন,এটা প্রত্যাশিতই। শুধু হাসি পায়,যখন সমালোচনাগুলো এমন শ্রেণীর মানুষদের কাছ হতে আসে,যাদের কিনা ব্যাংকিং এর ব্যাপারে আমার মত অধমের পর্যায়ের জ্ঞানটুকুও নেই।
মদের লাইসেন্স দিয়ে সংবিধানে "আল্লাহ্র উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস" স্থাপন করলেই কিংবা বেপর্দা হয়ে বা এফডিসিতে চা খেয়ে পর্দাপ্রথার পক্ষে কথা বললেই যদি নিজেকে পিওর মুসলমান ভাবেন, তাইলে আল্লাহ্ হাফেজ।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




