somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবিগুরুর মহাপ্রয়াণ দিবসে।

০৫ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২২শে শ্রাবন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়ানের দিন। ৮০ বছর তিন মাসের মাথায় ঠিক দুপুর বেলায় সারা ভাররকে কাঁদিয়ে ভাসিয়ে চলে গেলেন বিশ্বকবি না ফেরার লোকে। যিনি বারবার মরনকে মহান বলেছেন, শ্যামসমান বলে আখ্যায়িত করেছেন সেই তিনিই সকল মায়া ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন পরপারে। আর রেখে গেলেন বাঙ্গালীকে মানুষ হবার মন্ত্র। কবি গেয়েছেন-
মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।
মেঘবরন তুঝ, মেঘজটাজুট,
রক্তকমলকর, রক্ত অধর পুট,
তাপবিমোচন করূণ কোর তব
মৃত্যু অমৃত করে দান।

বরীন্দ্রনাথ শুধুমাত্র নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকার যে সংস্কৃতি বাঙ্গালী ধারন করে ছিলো সেই সংস্কৃতিকে ভেঙ্গে চারিদিকের জানালা খুলে দেবার দীক্ষা দিয়ে বলেছেন পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিন সবদিকের পথ খুলে দিয়ে আমাদের গ্রহন করতে হবে। শুধুমাত্র নিজেদের জ্ঞান অভিজ্ঞান দিয়ে সারা পৃথিবীর সাথে প্রতিযোগিতায় কুলিয়ে উঠতে পারবো না। আজ সময় শধু দেওয়া আর নেওয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের পূর্ণ করা।
বাংলা এবং বাঙ্গালীকে ধারন করে বাঙ্গালীর জীবনের সকল দিক নিয়ে লিখে যাওয়া একমাত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মধ্যেই আমরা পাই। তাঁর গানে কবিতায় উপন্যাস আর ছোট গল্পে বাঙ্গালীর সারা দিনের যে খুটিনাটি পাচালী সব কিছুকে ধারন করে তিনি আমাদের দিয়ে গেছেন। একদিকে যেমন লালনকে আমাদের সবার কাছে নতুন করে তুলে ধরেছিলেন ঠিক তেমনি আসামের মুনিপুরী সমাজের লোকজ সাংস্কৃতিক কেও আমাদের কাছে সমান ভাবে উপস্থাপন করেছেন তার সৃষ্টিতে। নদীর মাঝির গান, ডাক হরকরার আপনমনে গেয়ে উঠা গান, আবার বাংলার বাহিরের যে প্রদেশগুলো ছিলো তাদের গান সাহিত্যকেও তিনি ধারন করে আমাদের জন্যে নতুন করে লিখে গেছেন। তিনি আসলে আমাদের সবাইকে যেমন চারিদিকের সকল কিছু থেকে গ্রহন করতে বলেছিলেন ঠিক তেমনি নিজেও তার কর্মে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি, আচার আচরন, রীতিনীতি সবকিছু থেকে আহরন করে আমাদের জন্যে জ্ঞানের এক বিশাল ভান্ডার তৈরী করে রেখে গেছেন।
একমাত্র বিশ্বকবির সৃষ্টি থেকেই পৃথিবীর তিনটি দেশে জাতীয় সঙ্গীত গ্রহনই প্রমান করে দেয় তিনি আসলে শুধুমাত্র বাঙ্গালীরই নয় সারা বিশ্বের, গোটা মানব জাতির।
মানবতা আর অসাম্প্রদায়িকতা ছিলো তাঁর জীবনের ধ্রুব সত্য। তিনি যেমন ভারতবর্ষের ধর্মগুলো নিয়ে অনেক লিখেছেন তেমনি এর বিভিন্ন আচার অনাচার নিয়ে সমালোচনা করতেও পিছপা হোন নাই। জালিয়ানাবাগ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে তিনি তাঁর নাইট উপাধী প্রত্যাখান করতে এতোটূকু দ্বিধা করেন নাই।
ধর্মের ব্যাপারে তাঁর কোন গোঁড়ামি ছিলো না। হিন্দু ধর্মের ব্যাপারে যেমন তার কোন আকর্ষণ ছিলো না তেমনি আবার হিন্দু ধর্মের প্রশংসাও করেছেন তার বিভিন্ন লেখাতে। অন্যদিকে একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী কবি বলেছেন –
মহাবিশ্বে মহাকাশে মহাকালমাঝে
আমি মানব কী লাগি একাকী ভ্রমি বিস্ময়ে।
তুমি আছ বিশ্বেশ্বর সুরপতি অসীম রহস্যে
নীরবে একাকী তব আলোয়।
আমি চাহি তোমা –পানে
তুমি মোরে নিয়ত হেরিছ, নিমেষবিহীন নত নয়নে।

আজকের এই হানাহানির পৃথিবীতে কবিগুরুর গান কবিতা ছোটগল্প এবং উপন্যাস প্রবন্ধ বড়ো বেশী প্রাসঙ্গিক হয়ে দাড়িয়েছে। তার সৃষ্টি আমাদের সঠিক পথে চলার নির্দেশনা দিবে এবং সকল বাধা বিপত্তিতে আমাদের সাহস যোগাবে। ধর্মের নামে মানুষে মানুষে যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে তা থেকে পরিত্রান পেতে তাঁর অনুসারিত পথ আমাদের বেছে নিতে হবে।
কবির ভাষায়-
হে মহাজীবন, হে মহামরন, লইনু শরন, লইনু শরন।
আঁধার প্রদীপে জ্বালাও শিখা,
পরাও পরাও জ্যোতির টিকা – করো হে আমার লজ্জাহরন।
পরশরতন তোমারি চরণ—লইনু শরন, লইনু শরন।
যা- কিছু মলিন, যা- কিছু কালো,
যা- কিছু বিরুপ হোক তা ভালো—ঘুচাও ঘুচাও সব।।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ২:২৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মুমূর্ষু কবিতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১১



আমি আর কবিতা লিখব না বলেও
লিখে ফেলি একটি মুমূর্ষু কবিতা–
জন্ম নেয়ার আগেই যারা অবিরাম
মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, লাথি মারছে
পদ্যের চিরায়ত চোয়ালে !
পঙক্তিতে পঙক্তিতে পথ হেঁটে
প্রচণ্ড পিপাসায় আমি পান করি
কবিতার স্নিগ্ধ জল; আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ এসেছে শরৎ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



শরৎ-প্রাতে শিউলি ঝরা ক্ষণে
দিবাকর ছড়ায় হাসি।
দিঘির জলে রক্তিম পদ্ম
ফুটেছে রাশি রাশি।

ছাতিম গাছের নিভৃত নির্জনে
সবুজ পাতার ঘ্রাণ।
সুখ আহ্লাদে ডাকছে নিসর্গ
উচাটন মন প্রাণ। 

স্নিগ্ধ  বাতাস দোলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×