somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

তিমিরবিদারী-
" অামার বেচে থাকার নামই ভাল থাকা, এই বেচে থাকার ভেতর অার সব ভাল থাকা গুলি খুজতে গেলেই অামি মারা যাই, অাশ্চর্য্যজনক ভাবে প্রতিটি পদেই মারা যাই, অথচ; এইসব মরন অামার খুব বেশী অপ্রিয়। বেচে অাছি, এইতো বেশ ভাল অাছি................. অামাকে এইটুকু ভাল নিয়ে

" মামুন অামায় মানুষ করে যা বাছা................ !!!

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





স্ট্যাটাস-০৪
.
যাদের বাড়ি উত্তরবঙ্গে অর্থাৎ বগুড়া বা রংপুরের ওদিকে অথবা যারা কখনো কোনসময় ঐ দিকে গিয়েছেন বা যাবেন, তাদের মাঝপথে বিরতিতে ২০ মিনিটের জন্যে নামিয়ে দেয়া হয় সিরাজগঞ্জে বেশ নামকরা একটি রেস্টুরেন্ট "ফুড ভিলেজ" এ। আপনি যত বড়ই মন্ত্রি, বা উচু স্ট্যাটাসের কেউ হোন না কেন, বাসে গেলে, এবং সেখানে থামালে আপনাকে অবশ্যই এটার ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। খাবার জন্যে না হলেও অন্তত "এক" "দুই" নম্বর কাজটি সারতে আপনাকে ওখানে নামতেই হবে। আমার স্ট্যাটাসটা মুলত ঐ এক দুই নং কাজ সারার জায়গাটি নিয়ে , সোজা কথা টয়লেট নিয়ে। মাত্র দু তিন দিন হবে ঢাকায় এসেছি, রীতিমতে আমাদের বাসও সেখানে থামালো, ফ্রেশ হতে এবং ঐ সেই কাজ সারতে গেলাম ওয়াশরুমে, সেখানে যেয়েই চিনলাম মানুষকে, ৯,১০ বছরের একটা বাচ্চাকে বেশ বকুনি খেতে দেখলাম। যা মনে হল বাচ্চাটি হোটেলেই কাজ করে আর যে বকতেছিলেন সে হবেন হয়ত কোন কর্মকর্তা। বকুনি শেষে ছেলেটির বিশদ জানলাম। নাম মামুন, তার কাজ বেসিন এবং টয়লেট পরিষ্কার করা, মাস শেষে বেতন ১৮০০ টাকা মাত্র। তারমত আরও দুজন ঐ একই কাজ করে সেখানে। কেন করে? পড়ে না কেন? প্রশ্নের জবাবে উত্তর এলো "মামুনের বাবা তার মাকে ছেড়ে চলে গ্যাছে, মা টা অন্ধ প্রায়, অন্যের বাসায় কাজ করে আর মামুনের এই স্বল্প উপার্জন, এ নিয়েই ওদের দুজনের বেঁচে থাকা" বড় হয়ে কি হতে চাও? বলল এই রেস্টুরেন্ট এরই বয়। আমি জানতাম এবং জানি, ও বড় হতে হতে এ রেস্টুরেন্ট এর বয় হতে গেলে ওকে অন্তত বি.এ পাশ হতে হবে অথচ ও তখনও বি শব্দটিও লিখতে পারবে না, যদি আজকের অবস্থানেই থাকে। ওর ভবিষ্যৎ টা আমার আপনার এমনকি ওখানকার কর্মকর্তাসহ যত সব উচু স্ট্যাটাসের মানুষেরা সেখানে যান তাদের সবারই জানা। অথচ নিজ চোখে দেখতে হলো সেই সকল উচু শ্রেণীর মানুষদের নিকট প্রতিনিয়ত সে কতখানি বকুনি সয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের দেশ, দেশের মানুষের জীবনধারা। আমরা তার মত হাজার মামুনদের জন্যতো কিছু করছিই না বরং তাদের দেখে নাকে রুমাল চেপে চাপা কন্ঠে বেশ বকে যাচ্ছি আর বকুনীর আগে বা পরে যে স্বচ্ছ বেসিন বা টয়লেটে নিজের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা টুকু সারছি একবারও ভাবছি না এ স্বচ্ছ আরামদায়ক ঐ স্থানটি এবং কর্মশেষে আমাদের অকৃত্রিম প্রশান্তির মুলে ঐ সকল "মামুনেরাই" আমরা তো একটু সুন্দর করে কথাও বলতে পারি নাকি? আর যদি না পারি তবে আমার নামটি "মানুষ" কেন তবে? বের হতে যাব সে সময় মামুন জিগ্যেস করলো স্যার আপনি পুলিশ? জবাবে বেশ মিথ্যে বললাম একটু হেসে দিয়ে-
"নারে পাগলা, আমি সাংবাদিক, তোমাকে নিয়ে পত্রিকায় লিখব" মামুনের চোখজুরে তখন অন্য এক সুখ আমি দেখেছি, আমার মিথ্যের সার্থকতাটাও পেয়েছি।
.
বাইরে এসে বার্গার খাচ্ছি এ অবস্থায় দেখা মিললো এক বিদেশী মেয়ের । গলায় সামনে দিকে ঝুলানো একটা ব্যাগ আর ক্যামেরা, বেশ দামীই হবে হয়ত। কথা বলার লোভ সামলাতে না পেরে আমার দাঁতভাঙ্গা ইংরেজীর ক্ষমতা গুনে কিছু কথাও হলো- "নাম লিরা বাড়ি কানাডা, যাচ্ছে রংপুর মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া তার এক বন্ধুর বাড়িতে, আমার মাধ্যমে ৬,৭ টা কিমা পরোটাও কিনলো, সাথে ৯ টা কোক। চলে যাবে, খুব ব্যাস্ততা দেখাচ্ছিল। কি যেন ভেবে সকল লজ্জা বিসর্জন দিয়ে বলেই ফেললাম আধাভাঙ্গা ইংরেজীতে "Lira, can i take a selfie with you!" ভাবলাম বিদেশীরা নাকি খোলামেলা, উঠবে হয়ত, যাক ফেসবুকে পোষ্ট করলে অনেক লাইক পাওযাবে!!! হলো না, ইনি আমার থেকেও বেশী লাজুক মনে হয়..... খানিক আমার দিকে তাকিয়ে থেকে হাসিমুখে স্পষ্ট বাংলায় বললো "না, আমার সময় কম, চলে যাব" এদিকে আমারও সময় নেই বললেই চলে, ধন্যবাদ জানিয়ে বাসে উঠলাম, কেমন যেন একটা টানে বাসের জানালা দিয়ে এক পলক লিরার দিকে তাকিয়ে দেখলাম সেই কেনা কিমা পরোটা আর কোকগুলো বাইরে মামুনের মত কিছু ছেলেকে বিলিয়ে দিচ্ছে আর তাদের ছবি তুলছে........
.
আমি ফিরছি, অবাক হয়ে "একজন মানুষকে দেখছি আর মানুষ চিনছি, আহা!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:৫৩
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম্লিগ যদি আসে তাহলে ....... :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৬



বিএনপি। আপনারা ১৭ বছর ঘরে থাকতে পারেন নাই কিন্তু এখন যদি আবার আম্লিগ ফিরে আনেন তাহলে আপনারা তো দূরের কথা আপনার বাড়ির মাটিও থাকবে না। আপনার ঘর-দরজা থাকবেনা। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাকতাড়ুয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৪



কৃষির সাথে আমার ও আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। ফসলি জমিতে ভুত তৈরি করে দিতে হয়, ভুত বলতে বই পুস্তকের ভাষায় কাকতাড়ুয়া। ফসলি জমিতে ভুত থাকলে পাখি এসে ফসল নষ্ট করে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের ওপর হামলা নিন্দনীয়- কিন্তু নীতির মাপকাঠি কি সবার জন্য এক?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩


বাঁধনের ওপর হামলা নিন্দনীয়- কিন্তু নীতির মাপকাঠি কি সবার জন্য এক?

আজমেরী হক বাঁধন ইতালিতে হেনস্তা ও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই- আগস্টের আন্দোলনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাক্টরগাজি → চাঁদগাজী → সোনাগাজী → জেনারেশন৭১ কে নিয়ে দুটি কথা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ব্লগার গাজী সাহেব জ্ঞানী কিন্তু তিনি কট্টরপন্থী তাঁর ছেড়া টাইপের মানুষ তবে আলাপচারীতার লোক হিবেবে উনি খারাপ না। আপনি যদি ওনার সংগে হিজড়া রানূ-র মতো জ্বীহুজুর জ্বীহুজুর বলেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

×