somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বদলে যায়

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফেসবুকের একটা ছবি খুব মনযোগ দিয়ে দেখছিলাম। ছবিটি আমাকে খুব আকৃষ্ট করেছিল। কিন্তু প্রকৃত অর্থে ছবিটি খুবই সাধারণ একটি ছবি যা কোন মান সম্পন্ন ক্যামেরা দিয়ে তোলা নয়। আবার কোন দক্ষ ক্যামেরাম্যানও ছবিটি তোলেন নি।
আমার ফ্রেন্ড লিষ্টে থাকা এক ফেসবুক ব্যবহারকারী তার টাইম লাইনে ছবিটি পোস্ট করেছিলনে। সম্ভবত স্মার্ট ফোন দিয়ে উনি ছবিটি তুলেছিলেন।
যাহোক, আমি যে কারণে ছবিটির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম তা হলো স্কুলগামী এক দল ছাত্রী।
স্কুলগামী বয়সের মেয়েরা হাসি খুশীই থাকে, হাসি খুশী থাকাটাই স্বাভাবিক। কারণ চিন্তিত হওয়ার মত কোন চিন্তা তাদের করতে হয় না।
সম্ভবত ছবির এই মেয়েগুলোও হাসি খুশীই ছিল এবং এক সংগে যখন স্কুলে যাচ্ছিল তখন হয়তো অনেক মজাও করছিল। কিন্তু ছোট্র একটা নদী বা খাল পার হওয়ার জন্য যখন তারা একটা কাঠ বা বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে হাঁটছিল তখর তাদের খুবই বিষন্ন ও ভীত সন্ত্রস্ত মনে হচ্ছিল।
সম্ভবত তাদের বিষন্নতা ও ভয়ের পেছনে যে কারণটি ছিল তা হচ্ছে নড়বড়ে এই সাঁকোটি ভেংগে নীচে পরে যেতে পারে এই আশংকা ও দুশ্চিন্তা।
আমি এই সব অল্প বয়সের মেয়েদের সব সময় পছন্দ ও ভালবাসি। যেখানে যখনই এইসব মেয়েদের দেখি তখনই মনের মধ্যে এক ধরণের স্নেহ ও মমতা অনুভব করি। এর কারণ আমার একমাত্র মেয়ে ওদের মতই। আর এদের দিকে তাকালেই আমার মেয়ের মুখটি দেখতে পাই। আমার মেয়ের মুখটি যেন এদের মুখেই প্রতিফলিত হচ্ছে! এই একটা কারণে ওদের বিষন্ন মুখ দেখে আমি নিজেও বিষন্ন হয়ে গেলাম।
নিজে নিজের কাছেই প্রশ্ন করলাম-আর কতদিন, কতবার এই সব মেয়েরা আনন্দ হারিয়ে ফেলবে, মুখ থেকে হাসি মিলিয়ে যাবে আর বিষন্নতায় ম্লান হয়ে যাবে ওদের হাস্যোজ্জ্বল মুখ?
প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেতে আমাকে বিশ বছর আগের দিনগুলোতে ফিরে যেতে হয়েছিল। অর্থাৎ সেই দিনগুলোতে যা আমি আমার গ্রামে কাটিয়েছি।
শুধু আমার গ্রামেই নয় পুরো ওই এলাকাটাই আধুনিক সব ধরণের সুযোগ সুবিধা যেমন বিদ্যুৎ, রাস্তা ইত্যাদি থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন ও বঞ্জিত ছিল।
প্রাইমারী ও হাইস্কুল আমাদের গ্রামেই ছিল। তবু বিশেষকরে বর্ষার দিনগুলোতে এক হাঁটু পানি আর আঠাল কাদার মধ্য দিয়েই যাওয়া আসা করতে হত।
রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল অন্য গাড়ি ঘোড়ার কথা তো বাদই দিলাম বাইসাইকেলও চালানো সম্ভব ছিল না। মাত্র কয়েকটা পাসপোর্ট সাইজের ছবির জন্য ১৫ মাইল পথ হেঁটে একটা ফটো স্টুডিওতে যেতে হত।
কিন্তু এখন এই কয়েক বছরের ব্যবধানে পুরো এলাকা জুরে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
বিদ্যুৎ এসেছে, রাস্তা ঘাট পাকা হয়েছে, বাইসাইকেলের স্থলে এখন মোটর চালিত বিভিন্ন রকমের যান বাহন চলাচল করে।
একটি পূর্ণাংগ ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, একাধিক বেসরকারী ব্যাংক শাখা অফিস খুলেছে। সরকারী স্বাস্থ্য ক্লিনিক থেকে লোকেরা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে, স্থানীয় হাট বাজার থেকে কেনা কাটা, ব্যবসা বানিজ্যও করতে পারছে। একটা শাখা পোষ্ট অফিসও আছে। বেশ কয়েকটা এন জি ও প্রতিষ্ঠান শাখা অফিস খুলে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বাস্তবে সেই গ্রাম এখন যেন ছোট একটা শহরে পরিণত হয়েছে।
এটা বাস্তবতা। আর এই বাস্তবতা সময়ের আবর্তে নানাবিধ পরিবর্তনের মাধ্যমেই এসেছে।
আমি বিশ্বাস করি এই বাস্তবতা ওই জায়গাতেও দেখা দেবে এমন কি ওই কাঠের না কি বাঁশের সাঁকোরও পরিবর্তন হবে।
এ জন্য কিছু সময় লাগতে পারে। দুই বছর, তিন বছর বা পাঁচ বছর। কিন্তু আমি নিশ্চিত একদিন ওই নড়বড়ে সাঁকো থাকবে না। পরিবর্তে ওখানে অত্যাধুনিক কোন সেতু নির্মিত হবে।
এমনও হতে পারে এই মেয়েরাই সেদিন নির্ভয়ে আনন্দে নিজের গাড়ি চালিয়ে ওই সেতুর উপর দিয়ে ছুটে যাবে।
এটা স্বপ্ন নয় বাস্তব। কারণ ঘন্টায় ঘন্টায় সব জায়গায় সবকিছুরই পরিবর্তন হচ্ছে।
সময় বদলা্য়, প্রকৃতি বদলায়। বদলায় না কি? মানুষের জীবন বদলায়, ভালবাসা বদলে যেয়ে ঘৃনায় পরিণত হয় আবার ঘৃনা ভালবাসায়।
এক কথায় বলা যায় সময়ের আবতের্ সবকিছু বদলে যায়।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৩৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×