somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মায়ের জন্য সালাম

০১ লা নভেম্বর, ২০১৬ ভোর ৬:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মা । হৃদয়ের সবটুকু আবেগ ঢেলে উচ্চারণ করেও যেন তৃপ্তি পাইনা ।
আমার জিবন গড়ায় মায়ের অবদান নিয়ে কথা বলে তার মহত্বকে খাটো
করার মতো দুঃসাহস আমার নেই । মায়ের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে গিয়ে
যাই বলবো তার সবই অপর্যাপ্ত আর সামান্য বলেই মনে হবে ।
শুধু কৈশরের একটু স্মৃতিচারণ করছি । ছোটবেলা থেকেই আমি প্রচন্ড অলস
আর ঢিলে প্রকৃতির । আমার বছর ১৮ মাসে যেত নাকি ৩৬ মাসে তা আমি
নিজেও টের পেতাম না । মা আমাকে ঠেলাগাড়ির মতো ঠেলে -
ধাক্কিয়ে চালাতেন । কি যে ভারী সেই গাড়ি তা মা ছাড়া কারো বোঝার কথা নয় ।
সকাল থেকে শুরু ঠেলাগড়ির পেছনে ধাক্কানো । ফযরের নামাজ আর মক্তবে
যাওয়ার জন্যে । মায়ের ডাকাডাকি বকাবকিতে আব্বার ঘুম ভেঙ্গ যেতো ।
আব্বা উল্টো মাকে বকা দিতেন । আমি মনে মনে মহা খুশি ।
মা বাবার ঝগড়াঝটির ফাকে আমি আরেকটু ঘুমিয়ে নিই ।
কিন্তু মা ছাড় দিতে নারাজ, টেনে হিচড়ে নিয়ে যেতেন । আর যাই কোথায় ?
মক্তব থেকে এসে এবার ইসকুলে যাওয়ার পালা ।
শুরু হতে যাচ্ছে আরেক যুদ্ধ । যানতাম এই যুদ্ধে মায়েরই বিজয় হবে ।
তবু প্রতিদিনই চলতো আমার ইসকুল ফাকি দেয়ার ব্যর্থ প্রয়াস ।
ইসকুলের সময় হলেই শুরু হতো বাহানা, মাথাব্যথা, পেটব্যথা ইত্যাদী ইত্যাদী ।
মা সব রকম অযুহাত আর বাহানা কঠোর হস্তে দমন করতেন ।
এমন অনেক সময় গেছে যখন মা নিজে গিয়ে ইসকুলে এগিয়ে দিয়ে
আসতেন । ইসকুল থেকে এসে বইগুলো কোনরকমে খাটের উপড়
ছুড়ে ফেলে দে ছুট । এবার আমায় পায় কে ? নাওয়া খাওয়া ছেড়ে সারাদিন
তাকধিনাধিনধিন,টৈ টৈ করে ঘুরে বেড়ানো আর খেলাধুলা
ছাড়া আমার হাতে অন্য কোনকাজ নেই ।আমি মহাব্যস্ত ।
ওদিকে মা খুজে অস্থির সারা গ্রাম ।মা খুজে বেড়াতেন
আর একা একাই বিড়বিড় করতেন ।
এমন ছেলেও থাকে নাকি কারো ঘরে । আসুক আজকে বাড়ি ,
আজ ওর একদিন কি আমার একদিন । একসময় ক্লান্ত হয়ে মা ঘরে
ফিরে যেতেন ।দিনের আলো নিভে আসতে আমার ভয়ও বাড়তে থাকে ।
দিনের আলোতে আমার নিরঙ্কুশ স্বাধিনতা থাকলেও ।
রাতের গভীরতার সাথে সাথে আমার ক্ষমতাও কমতে থাকে ।
ভয়ে ভয়ে বাড়ির পথে পা বাড়াতাম,আল্লাহ জানে কপালে কি আছে ।
মা সহজে রাগতেন না তবে রেগে গেলে ভয়ানক রূপ ধারণ করতেন ।
যাই হোক পরের ঘটনা আমার জন্য খুব কম দিনই ভালো হয়েছিলো ।
তবে বকা অথবা মার , শাস্তি যাই হোকনা কেন আমার অপরাধের
তুলনায় তা মোটেই বেশি ছিলো না ।
যেদিন মার খেতাম সেদিন আমার একটা লাভ হতো আর তা হলো
পড়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি, কান্নার ভান করে সময় পার ।
মার না দিলে মায়ের লাভ, অপরাধ ঢাকা আর ভালো সাজার জন্য
বেশি করে পড়তাম ।যে কারণে মাকে বেশি স্মরণ করি তা হলো
মায়ের শিক্ষা । মা সব সময় আমার চরিত্র, আচার-আচরণ,
নীতি-নৈতিকতার ব্যপারে সজাগ সতর্ক থাকতেন ।
তার এই শিক্ষা কেবল মৌখিক ছিলনা , বাস্তব প্রয়োগ ছিল ।
একদিনের ঘটনা । আমি তখন ছোট । থ্রি বা ফোরে পড়ি হয়তো ।
পাড়ার ছেলেরা আমরা একসাথে ইসকুলে যেতাম । পথের একটা
বিরাট অংশ যেতে হতো বিস্তৃর্ণ ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে ।
শীত মওসুমে দুইপাশে টমেটো, কাঁচামরিচ, ফুলকপি সহ বিভিন্ন
রকম ফসল ফলতো । আমার বন্ধুরা সেখান থেকে পাকা টসটসে
টমেটোআর কাঁচামরিচ ছিঁড়ে নিতো আর টিফিন শেষে সাথে নিয়ে
আসা টিফিন বাটিতে ভর্তা বানিয়ে মজা করে খেতো ।
একদিন মরিচ ছিঁড়তে গিয়ে তাদের একজন একটা আস্ত গাছ তুলে
ফেলে । তাদের প্রয়োজনীয় মরিচ নেয়া হয়ে গেছে তাই তারা
গাছটিকে ওখানেই ফেলে রাখে । আমি কি ভেবে মরিচগুলো ছিঁড়ে
নেই । ইসকুল শেষে বাড়ি এসে খুশি হবেন ভেবে মরিচগুলো
মাকে দেখাই । মা উল্টো রাগ করলেন কিন্তু শান্ত কন্ঠে বললেন,
মরিচগুলো যেখান থেকে নিয়ে আসছো ঠিক সেখানে রেখে আসো ।
আমি মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি বললেন, তুমি যার কাছে অপরাধ
করেছো তার কাছে ক্ষমা চাও । ক্ষেতের মালিক আর আল্লাহ ।
আমার মুখ থেকে কোনদিন অভদ্রচিত কথা বের হলে মা সেটা
সংশোধন করে দিতেন । পশুপাখি এমনকি জড়বস্তুকেও গালি
দিতে নিষেধ করতেন । বড়দের সম্মান আর ছোটদের স্নেহ করতে
বলতেন । কোন মানুষ বা পশুপাখিকে কষ্ট দিতে বারণ করতেন ।
একদিন এক কুকুরের বাচ্চাকে বিলের পানিতে ফেলে দেয়ায় সেদিন
আর বাড়ির চৌহদ্দি মাড়াতে পারিনি । মায়ের সেই শিক্ষাই আমার
পাথেয় হয়েছে । এমন মা খুব কম মানুষের ভাগ্যে জোটে ।
আজ আমি মায়ের থেকে অনেক দূরে । কাজ নিয়ে ব্যস্ত ।
ঠিকমতো মায়ের খোঁজ খবর নেয়ার সময় সুযোগ হয় না ।
কিন্তু মা আমাকে নিয়ে ব্যস্ত । আমি খবর না রাখলেও মা
আমার খবর ঠিকই রাখেন । ঠিকমতো ঘুম, খাওয়া, গোছল
করছি কিনা খোঁজ নেন । অসুখ হলে ভেঙ্গে পড়েন, উদ্বেগ - উৎকন্ঠায়
দিন রাত কাটান, ঔষধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেন ।
কিন্তু আমি স্বার্থপর মায়ের জন্য কিছুই করতে পারিনি ।
পড়ে আছি দূরে । ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে ।
মায়ের জন্য আমি কিছুই রেখে আসতে পারিনি । কিন্তু আমার
সাথে আছে মায়ের শিক্ষা । মায়ের উপদেশ । মাকে আমি আর
কিইবা দিতে পারি । দূর থেকে শুধু মাকে জানাই সালাম ।
সালাম তোমায় মা । আস্ সালাম আলাইকি ইয়া উম্মি ।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৬ ভোর ৬:২৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একান্ত ভাবনা

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪০

একবার রিয়েক্টর ফিজিক্স ক্লাসে আমাদের একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই দেশে আসলে সবাই সবার সঙ্গে বাটপারি করে।" কথাটা শুনে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু যতদিন গেছে, চারপাশটা যতটুকু দেখেছি, ততই মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×