somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাস্তিক-সংশয়বাদী ভাইদের প্রতি

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি নির্ভেজাল নাস্তিক অথবা সংশয়বাদী যাই হোন না কেন
অবশ্য এ দুয়ের অর্থাৎ সংশয়বাদ এবং অবিশ্বাসের ফলাফল মুলত
একই । সংশয়বাদ মুলত অবিশ্বাসেরই নামান্তর । আপনার যুক্তি অনুসারে
ঈশ্বর যদি না ই থাকে । তাহলে মানুষ মৃত্যুর পর তার ভালো মন্দ
কাজের জন্যে জবাবদিহী করবে কার কাছে । কথাটা শুনে হয়তো হাসছেন ।
আপনি স্রষ্টা বিশ্বাস না করলে মৃত্যু পরবর্তী জীবন, জবাবদিহিতা কিছুই
বিশ্বাস করবেন না অথচ সৃষ্টি ,পরিচালনা,ধ্বংস, পুনঃসৃষ্টি, জবাবদিহীতা ,পুরস্কার,
শাস্তি সব একই অংকের সমীকরণ । মানব জীবনে এসবের উপর বিশ্বাসের
গুরুত্ব আছে । কেন আছে তাও বলবো । একটা প্রশ্ন আমাকে ভাবিয়ে
তোলে আচ্ছা আপনি আমাকে একটা প্রশ্নের জবাব দিন তো একজন মানুষ
কেন নিজের কষ্টার্জিত অর্থ অন্যের জন্যে ব্যয় করবে ? কেন নিজের
ক্ষতি সত্বেও অন্যের উপকার করবে ? মানুষের জন্যে কেন আত্নোৎসর্গ করবে ?
একজন মানুষ সারা জীবন অন্যের জন্যে নিজের সব বিসর্জন দিয়ে গেল ,
আরেকজন সারা জীবন শুধু জুলুম করে গেল । দুইজন মানুষের কর্মের
সর্বশেষ প্রতিফল কি ? যারা পৃথিবীতে শাস্তি বা পুরস্কার কিছুই পেলোনা ।
তাদের কার্যকারিতা কি এখানেই শেষ ? একজন মানুষকে এক হাজার
খুনের দায়ে একবারই মৃত্যুদন্ড দেয়া যেতে পারে, আর পৃথিবী তার অপরাধ
প্রমানিত না করতে পারলে সে রেহাই পেয়ে গেলো । অন্যদিকে মানব কল্যাণে
আত্নৎসর্গকারীর প্রতিদানইবা কি হতে পারে । আসলে পৃথিবী শাস্তি পুরস্কারের
প্রকৃত জায়গা নয় । যদি আপনি আমার প্রশ্নগুলো অবান্তর মনে করেন তবে
আমি বলবো আপনি নিজেকে নিরাপত্তাহীন করেছেন কারণ আপনার কোন
শত্রু নির্জন স্থানে আপনাকে হত্যা করলে অথবা কোন ক্ষমতাধর আপনার সর্বস্ব
করগত করলে সে মূলত কোন অপরাধই করেনি এখানে তার ক্ষমতাই তার এ
কাজের বৈধতা । এক কথায় আপনার বিশ্বাসে বিশ্বাসী হলে "মাইট ইজ রাইট"
এর রাজত্ব কায়েম হবে এই পৃথিবীতে । আপনি নিশ্চই এমনটি চান না ।
জীবনের শেষ পরিনতি সম্পর্কে গাফেল থেকে আপনি জগতের কোন ক্রিয়াকর্মের
অর্থ খুঁজে পাবেন না । হাজারো প্রাপ্তি আপনাকে শান্তনা দিতে পারবে না ।
আমাদের চতুষ্পার্শে সব কিছুর স্রষ্টা একজন আছেন ।
তিনি সৃষ্ট নন ।
তিনি স্রষ্টা ।
কেবলই স্রষ্টা ।
স্রষ্টার কোন স্রষ্টার প্রয়োজন হয় না । বরং সৃষ্টিরই স্রষ্টার প্রয়োজন ।
মৃত্যুর পর মানুষ অনন্ত জীবনের পথে পা বাড়ায় । যেখানে তাকে তার স্রষ্টার
কাছেই সব কৃতকর্মের জবাবদিহী করতে হবে । শাস্তি ও পুরষ্কার লাভ করবে ।
এ বিশ্বাসে বিশ্বাসীদের সকল কাজ অর্থবহ । আর তাদের দ্বারাই পৃথিবীতে
পরহিতে আপন স্বার্থ বিসর্জন দেয়া সম্ভব এবং তাদের দ্বারাই সম্ভব শান্তি
সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার পৃথিবী গড়া । তার শান্তি ভোগের মধ্যে নয় বরং
ত্যাগের মধ্যে । কারণ তার বিশ্বাস যে পৃথিবীই চুড়ান্ত ফলাফল লাভের জায়গা নয় ।
সে বেপরোয়া জীবন যাপন করে না কারণ সে জানে যে আমাকে আজকের
প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহী করতে হবে । আপনার কর্মের অর্থ কি ?
আপনি যে বিশ্বাসের কথা বলছেন আর মানুষকে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যার দিকে
ডাকছেন তা কি মানুষের মনকে পরিতৃপ্ত করতে পারে ?
আপনি কি জীবনের চুড়ান্ত পরিনতিকে অস্বীকার করে নিজেকে এবং
আপনার বিশ্বাসে বিশ্বাসীদের বস্তুবাদী, আত্নকেন্দ্রিক ও স্বার্থান্বেষী করে
তোলছেন না ? পরষ্পর নির্ভরশীল মানবসমাজের জন্য নাস্তিকতা কি উপযোগী ?
একটু ভেবে দেখুন । আপনার বিবেককে প্রশ্ন করুন ।
জোর করে নাস্তিক সাজবেন না ।
আমি কাউকে তর্ক বা বাকযুদ্ধে হারানোর জন্য বিষয়গুলো টানছি না ।
আমি নিজে যতটুকু উপলব্ধি করতে পেরেছি তার সাথে আপনাকে শেয়ার
করার চেষ্টা করছি মাত্র ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১:১৩
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×