somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মা তুমি বীরঙ্গনা নও

২৯ শে মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৩:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কথা হয়েছিলো সর্বস্ব হারানো এক মায়ের সাথে,১৯৭১ এ তার বয়স ছিলো মোটে ১৯ বসর।যুদ্ধ শুরুর আগে চোখ ভরা স্বপ্ন ছিলো তার,সেকথা দিয়েই শুরু করলেন মা তার জীবনের গল্প।

আমার নাম জামিলা,যুদ্ধের সময় বয়স আছিলো ১৯ বসর,ঐ সময় আমাগো একই গ্রামের পোলা মাহাবুব এর সাথে বালো লাগা ছিলো,দেখতে শুনতে বালো ছিলাম হেরলইগা ওর বাসার কেউ আপত্তি করতো না,বিয়া হইবো এটাও মোটামুটি ঠিক ছিলো।।হঠাট শুনি দেশ স্বাধীন হইতাছে,স্বাধীন হওয়ার ব্যাপারটা কি সেটা বুজতে ছিলাম না।মাহবুবরে জিগাস করি যে স্বাধীন হইলে কি হইবে? ও বললো..স্বাধীনতা হলো ইচ্ছে মতো মা কে জড়িয়ে ধরা,বাবার হাত ধরে বেড়াতে যাওয়া,বোন কে আলতা কিনে দিতে পাড়া,তোমার হাতটি ধরে নির্ভিগ্নে একটা ঘর সাজাতে পাড়া।।মনে মনে ভাবলাম স্বাধীনতা পাওয়া তো ভালো ব্যপার।।

ও যুদ্ধে গেলো বাসায় না বলে,ওর বাবা মা কত ভাবে আমারে বকলো যে আমি কেনো ফিরাইলাম না,,কিছু কইলাম না আমি।কারন আমার দুই চোখ ভরা স্বপ্ন ও দেশ স্বাধীন কইরা ফিরা আইলে আমাগো নতুন জীবন শুরু হইবে।

একদিন মাঝ রাইতে ও আমার ঘরের দরজায় আইসা আমারে ডাকলো,দরজা খুলতেই দেহি ওরা ৪/৫ জন,মাহাবুব কইলো এই বস্তাডা রাখো,পড়শু রাইতে নিয়া যামু।।কি আছে এইডায়?ও বললো স্বাধীনতা আছে,এগুলা না থাকলে স্বাধীনতা পামুনা।।তারপর আমি অইডারে জান দিয়া আগলাইয়া রাখলাম।দুই দিন পড় আইসা নিয়া গেলো,আর একদিন আরো কিছু অস্ত্র দিয়া গেলো আর কইলো এগুলা লাকড়ির বস্তায় ভইরা রাইতে রহিমের নৌকায় দিয়া আইতে।ওগো রে ভাত খাওয়াইয়া আমি গেলাম বস্তা লইয়া নদীর পাড়।ফেরার পথে রমজান রাজাকার এর লগে দেহা,হারামজাদা মিলিটারিগো চামচা।জিগাইলো কই গেছিলি? আমি কইলাম গাঙ্গে ডুইবা মরতে গেছিলাম। হারামজাদা কয়,মাহাবুব কই?ওয় মুক্তি হইছে শুনলাম,আর তুই নাকি হেগো লইগা কাম করতাছোস?গেরামে সাহেবেরা আছে হেগো লইগগাও মাঝে মইদ্যে কাজ কাম কইরা দে,লাভ অইবো। আমি আর কিছু কইলাম না,বাসায় গেলাম।

হের দুইদিন বাদে আর একটা ব্যাগ অস্ত্র দিতে গেলাম নদীর পাড়ে,রমজান আর কয়ডা মিলিটারি টহল দিতেছি, আমি কিছু বুইজা উঠার আগেই আমারে মুক চাইপা ধইরা লইয়া গেলো ক্যাম্পে।ওগুলা মুসলমান না,ওগুলা মানুষ না...কুত্তা।১৪ টা দিন আমার উপড় দিয়া যেই যন্ত্রনা গেলো সইতে না পাইড়া গলায় শাড়ি পেচাইয় মরতে চাইছিলাম জানোয়ারের বাচ্চারা আমার গায়ে থিক্কা শাড়িডাও নিয়া গেলো,১৪ ডা দিন আমি কাপড় ছাড়া,একটা রুটি ছাড়া কিছুই খাবার পাই নাই,যেদিন আমার জানডা আমার নাকের ডগায় আসলো দেহ থেকা বাইর অইয়া যাবার লাগি হেইদিন হারামজাদারা মনে করলো আমি মইরা গেছি।আমারে লাশ মনে কইরা নদীর ধারে ফালইয়া আইলো।

আমার হুশ আসার পর দাড়াইতে পাতাছিলাম না,লজ্জায়।পড়নে কিছু নাই।সামনে দেখি লাশ ভরা বস্তা,লাশটারে বাইর কইরা বস্তা দিয়া শরীরডারে ঢাকলাম,বাড়ির দিকে যাইতেছি এর মইদ্যে হেই রমজাইনা আমারে দেইখা কইলো কর আরো মুক্তি যুদ্ধ কর,,এহন তোর সমাজেও যায়গা হইবো না।তোর নামে শালীস হইবো।শালীসদাররা সিদ্ধান্ত নিলো আমি আমার পরিবারের লগে থাকলে হেগোরে একঘরা করবো,গেলাম গিয় নদীর পাড়ে,গেরাম ছাড়লাম না।মাহবুব স্বাধীনতা নিয়া আসবো এই আসায়।।

দুই মাস পড় স্বাধীন হইলো দেশ,মাহবুব ও ফিরা আসলো,সবকিছু শুনে আমারে গ্রহনও করতে চাইলো,কিন্তু ওর বাপ মা কইলো আমারে বিয়া করলে হেরা আত্মহত্যা করবে,কারন তখন আমি ৩ মাসের গর্ভবতী।।পেটের বাচ্চার বাপের ঠিক নাই তাই এইটা আমার পাপের ফল।আমার আশাটুক শেষ হইয়া গেলো।কিছুদিন পর মাহাবুব আর ওর লগে যারা যুদ্ধ করছিলো হেগোরে দেশ কইলো বীরমুক্তি যোদ্ধা,তারা অস্ত্র হাতে দেশ স্বাধীন করছে।।

অনেকদিন পড় আমার এবং আমার মতন যারা নিজেগো বিলাইয়া দিয়া দেশ স্বাধীন এ অংশ নিছিলো হেগোর খোঁজ পড়লো।।আমাগো নাম দিলো বীরাঙ্গনা....কেনো আমাগো খুইজা আবার বাইর করলো?আবার সমাজের সবাইর সামনে উলঙ্গ করলো।।মাইয়াডা নিয়া আছিলাম তো একরকম নাম পড়িচয় গোপন করে,আশা ছিলো ম্যাট্রিক টা পাশ করলেই বিয়া দিমু।আশা আর পুড়া হইবো না,একবার স্বাধীনতা পাইতে গিয়া আশাডারে ধংস করছি আর এহনে সেই ধংসের খেতাব লইতে গিয়া শেষ আশাডাও শেষ করলাম।কেন আমরা বীরঙ্গনা নাম নিয়া সমাজে সবাইরে জানামু যে ৭১ এ আমাগো শরীর ছিন্ন কইরা স্বাধীনতা আনছিলাম,কেনইবা মাইনসে এহন আমাগো দেইখা কইবো এই বেটি ক্যাম্পে ছিলো,ওর মাইয়া জারজ সন্তান।।

আমরাও যুদ্ধ করছি, তাইলে আমরা কেনো মুক্তি যোদ্ধা না???কেনো বীরঙ্গনা খেতাব???তার থেকা আমার মাইডারে বিয়া দিয়া দেন।আমার খেতাব চাইনা।
পাঠক বন্ধুরা আসুন না আমরা তাদের আর বীরঙ্গনা না বলে বীর যোদ্ধা বলে এতটুকু সম্মানে সম্মানিত করি।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৩:৫৮
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩


কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×