somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“একজন তর্কবাগীশ ও বর্তমান বাংলাদেশ”

০১ লা মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দেশের মাটি আজ সোনার ছেলেদের রক্তে ভেজা হলেও কেউ কাঁদে না, কিন্তু, একজন কেঁদেছিলেন। তিনি কেঁদেছিলেন, তিনি ফুঁপিয়ে ছিলেন। ক্ষোভে, রাগে, বেদনা।

পূর্বাভাসঃ

২১শে ফেব্রুয়ারি পরিষদ ভবনে (বর্তমান জগন্নাথ হলের অডিটরিয়াম) অধিবেশন শুরু হয় বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে, পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থা পরিষদ ভবনে মুসলিম লীগ সংসদীয় দলের বৈঠক চলছিলো সে সময়।

আচমকা, গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়!

তাতে ভেঙে যায় বৈঠক, ছাত্ররা গুলি চালানোর কথা জানায়, সংসদদের কেউ কেউ বাইরে বেরিয়ে চলে আসেন।

ক্ষাণিক বাদে, যখন অধিবেশন শুরু হয়, তখন বক্তব্য দিতে উঠেন আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ। ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি অধিবেশন স্থগিত রাখার দাবি জানান।

তিনি বলেন, “জনাব স্পিকার সাহেব, প্রশ্নোত্তরের পূর্বে আমি আপনার কাছে একটা নিবেদন করতে চাই। যখন দেশের ছাত্ররা, যারা আমাদের ভবিষ্যৎ আশা-ভরসার স্থল, পুলিশের গুলির আঘাতে জীবনলীলা সাঙ্গ করছে, সেই সময় আমরা এখানে বসে সভা করতে চাই না। প্রথমের এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত করতে হবে, তারপর হাউস চলবে।”

তর্কবাগীশ এর এহেন বক্তব্য পুরো পরিষদ অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে উঠে, স্পিকার বারবার বলতে থাকে, “তর্কবাগীশ, আইন পরিষদের রীতি ভঙ্গ করেছেন।” জবাবে আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন যেন ঘটনাস্থল দেখে এসে বিবৃতি দেন, নইলে আমরা হাউস চলতে দিবো না।”

স্পিকার আর তর্কবাগীশ এর মধ্যে তর্কবির্তক চলাকালীন তর্কবাগীশকে ‘মওলানা সাহেব’ বলে সম্বোধন করছিলেন, কিন্তু একসময় স্পিকার রেগে গিয়ে ‘মি. তর্কবাগীশ’ বলে সর্তক সম্বোধন করেন। এই অবাক করা ডাকের, ‘মি. তর্কবাগীশ’, এর অর্থ, ‘আপনাকে পরিষদ সদস্য থেকে বহিষ্কার এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার ক্ষমতা এখনো আমার আছে!’

তবুও, তর্কবাগীশ নিজের বক্তব্য অটল থাকেন, স্পিকার অধিবেশন স্থগিত করে।

মওলানা তর্কবাগীশ মেডিকেল হোস্টেলে অবস্থিত কন্ট্রোল রুমের মাইক থেকে বক্তৃতা দেন, তিনি পরিষদ ভবনে উপস্থিত সদস্যদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। বক্তৃতা করার সময় তিনি ক্ষোভে-আবেগে কেঁদে ফেলেন।

আর, আজ, বাংলার সেই দামাল ছেলেরা পথে মরছে, ঘাটে মরছে, পুলিশের গুলিতে মরছে, কর্তৃত্বে চাপে মরছে,নীতির চাপে ধুঁকছে।

কোথাও কেউ নেই, একজন তর্কবাগীশ কে আজ বাংলার প্রয়োজন। বাংলার ছাত্র সমাজের অধিকার আদায়ের জন্য একজন তর্কবাগীশকে প্রয়োজন।
ছাত্রদের দুঃখে এখন আর কেউ কাঁদে না, কিন্তু একজন তর্কবাগীশ কেঁদে ছিলেন। তিনি ক্ষোভে কেঁদেছেন, বিরহে কেঁদেছেন।

আমাদের আজ একজন তর্কবাগীশ দরকার।


সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৭
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×