somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিকারী

২৮ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ৩:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১০.৫০
রাত!
দেওয়ানগঞ্জ’র উদ্দেশ্য ভাওয়াল এক্সপ্রেস ছুটে চলেছে তুমুল গতিতে। এত রাতে যাত্রী থাকার কথা না, তার ওপর আজ সন্ধ্যা থেকেই আকাশে কালো মেঘ। থেকে থেকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। যে কোন মুহূর্তে বৃষ্টি শুরু হতে পারে। বগিতে আমি ছাড়া জন’দু-এক যাত্রী আছে। সবাই ক্লান্ত দৃষ্টিতে সিটে হেলান দিয়ে আছে। খুব নিরুপায় না হলে এত রাতে দেওয়ানগঞ্জ যেতাম না। সন্ধাবেলা আরিফ হোসেন’র চিঠিটা চোখে পড়ে। চিঠি আসার এবং আমার চোখে পড়ার মাঝেই চলে গেছে দুটি দিন। তাই আর দেরি করি নি। ব্যাগটা নিয়েই ছুটেছি। দিনের লাস্ট ট্রেন। তাই টিকেট পেতে খুব বেশি বেগ পেতে হয় নি। টিটি ও খানিক আগে সবার টিকেট চেক করে গেছে। এখন শুধু গন্তব্যর অপেক্ষা.........

জামালপুর জেলার মোটামুটি অখ্যাত জায়গা দেওয়ানগঞ্জ। মফস্বল’ও বলা যায় না ঠিক। তবে এত রাতে কোথাও লোকজন না থাকাটাই স্বাভাবিক। তার ওপর আরিফ হোসেন’র বাড়ি দেওয়ানগঞ্জ’র আরেক প্রান্তে, আসার পথে লোকজন তেমন চোখে পড়ল না। স্টেশন মাস্টার’র নির্দেশিত পথ ধরে আসতে তেমন কোন অসুবিধা না হলেও লোকজন’র দেখা পেলাম না এটাই শান্তি’র বিষয়। আমার আবার বেশি লোকজন মোটেও পছন্দ নয়। আরিফ চিঠিতে লিখেছে ও আর ওর বউ এই সপ্তাহে নতুন বাড়িতে উঠেছে। কিন্তু অফিছ থেকে ওকে ৩ দিন’র জন্য চট্রগ্রাম যেতে হবে। বউ কে সাথে নেয়া সম্ভব না। তাই আমি আর আমার স্ত্রী যেন কয়েক দিন’র জন্য এসে থাকি। দুর্ভাগ্য-বশত আমার স্ত্রী গত রাতে বাবা’র বাড়ি গেছে। আমিও চিঠিটা দেখতে দেরি করে ফেলেছি। যার ফলশ্রুতিতে একাই ছুটে এসেছি বন্ধু’র বউ’র নিরাপত্তায়। আরিফ হোসেন’র বউ কে আগে কখনও দেখি নি। এত রাতে যদি দরজা না খোলে তাহলে কি করব, সেই চিন্তা করতে করতেই পৌঁছে গেলাম গন্তব্যে।

১.০৫
ঢাকা’র মেঘ আমার পিছু পিছু এখানেও পৌঁছে গর্জাচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টি’র চিন্তা’র চেয়ে আমার মাথায় এখন বড় চিন্তা হল সামনের বাড়িটা নিয়ে। দোতলা বাড়ি, সম্পূর্ণ অন্ধকার। আলো’র ছিটেফোঁটাও নেই। কিন্তু বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলে ভিজতে হবে এই আশঙ্কায় দরজায় কড়া নাড়লাম।
ভেতরের আওয়াজ শুনে মনে হল কেউ আমার কড়া নাড়া’র অপেক্ষায় ছিল। তবে দরজা খোলা’র পর আমি বিশাল এক ধাক্কা খেলাম। আরিফ’র বউ অসম্ভব সুন্দরী। হাতে ধরা হারিকেন’র আলোয় তার রূপ’র কোন কমতি হয় নি। কাজল দেয়া চোখ, ঠোটে গ্লস আর খোলা চুল যেকোনো পুরুষকে পাগল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আমি স্থানুর মত দাড়িয়ে রইলাম। ঘোর ভাঙতেই তার জিজ্ঞাসূ দৃষ্টি আমার প্রতি নিবদ্ধ দেখলাম।
“আ-আমি মনসুর, মনসুর শেখ। আরিফ আমাকে আসতে বলেছিল।
“অহ, মনসুর ভাই, ভিতরে আসুন। আপনার তো আরও দুইদিন আগে আসার কথা’’
ভেতরে ঢুকতে ঢুকতেই বললাম,
“আমি আসলে ব্যাস্ততার মাঝে চিঠি টা দেখতে পাইনি, আজ দেখেই ছুটে এলাম। ট্রেন টা লেট করল, আপনাকে এত রাতে কষ্ট দিয়ে ফেললাম ভাবি”
“ ও নিয়ে আপনি চিন্তা করবেন না, আমার ইসমনিয়া আছে। আপনি ফ্রেস হয়ে নিন। আমি টেবিল এ খাবার দিচ্ছি”
“আমি খাবো না ভাবি, আপনাদের এখানে বিদ্যুৎ নেই?”
“আপনার বন্ধু এমন এক জায়গায় এনেছে আমাকে যেখানে কিছুই নেই। আমার চাহিদা মেটানর জন্যও কোন ব্যাবস্থা নেই” কণ্ঠে কপট অভিমান।
“তবে সামনের মাস থেকে নাকি জেনারেটর আনবে”
“ও আচ্ছা” আমি বললাম।
“যান আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন। আপনার বন্ধু কাল সকালেই চলে আসবে।”
“তাহলে তো ভালই হল, সবার সাথেই দেখা হয়ে যাবে, একসাথে আড্ডাও দেয়া যাবে”
“হ্যাঁ! আপনি রুমে গিয়ে ফ্রেশ হন। তাছাড়া আপনার বন্ধু আসার আগে আমারও কিছু কাজ আছে!”
শেষের কথাটা কেমন অন্যমনস্ক শোনাল......


২.০০
আকাশের হয়ত সময় হয়েছে। যেকোনো সময় মুষলধারায় বৃষ্টি নামতে পারে। আমি বিছানায় বসে আছি আর ভাবছি, কোথাও একটা গণ্ডগোল আছে, আমার অবচেতন মন বলছে কিন্তু আমি ধরতে পারছি না। খুত-খুত ভাবটা আমাকে আরও বেশি ভাবিয়ে তুলছে। আরিফের বউ সুন্দরী তার আর কোন সন্দেহ নেই কিন্তু তবুও কোথাও যেন কিছু ঠিক নেই। আরিফের বউয়ের চোখ টা কেমন জ্বলজ্বলে মনে হল, নাকি অন্ধকারেই আলো পড়াতে এমন লাগছিল!! নাহ, এরকম হুট করে চলে আসাটা উচিৎ হয় নি.........
হাবিজাবি ভাবনা’র মাঝেই আরিফের বউ রুমে ঢুকল হাতে পানি’র গ্লাস নিয়ে। শরীরে হয়ত কোন সেন্ট দিয়েছে, মাদকতা ছড়িয়ে পড়েছে সারা রুমে। সুগঠিত স্তন, ভরাট নিতম্ব, আর ওই ঠোঁটের হাসি...............
প্রচণ্ড শব্দে কাছেই কোথাও বাজ পড়ল, আর সাথে সাথেই আমি অসঙ্গতিটা ধরতে পারলাম। কয়েকদিন হয়েছে আরিফের বিয়ে, এর মাঝে হয়ত জামাই কে খুব কম কাছে পেয়েছে। ভরা যৌবনা আরিফের বউকে আরিফ হয়ত যথাযথ আদর দিতে পারে নি। আজ অনেক দিন পর পরপুরুষের দেখা পেয়ে মানবের আদিম সত্তা জাগ্রত হচ্ছে, পুষিয়ে নিতে চায় আমাকে দিয়ে আরিফের বউয়ের যৌবনের যাতনা। বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, গ্লাস টা টেবিলে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে আমার দিকে। মাদকতাময় এক হাসি মুখে নিয়ে এগিয়ে আসছে, যেভাবে শিকারি শিকারের দিকে এগোয়। খুব কাছে এসে আমার গালে হাত রাখল, ওর স্তন টা আমার মুখ থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্ছি দূরে। ধীরে ধীরে মুখ নামিয়ে আনছে আমার ঠোঁটের কাছে। বাইরে বৃষ্টি, দেওয়াল ঘড়ির টিক-টক-টিক-টক, আর ওর শরীরের ঘ্রান সব মিলিয়ে পাগল করা এক অবস্থা। আরিফের বউয়ের ঠোঁটটা আমার ঠোঁটের আর এক ইঞ্ছি দূরে, হাল্কা ফাঁক হয়ে আছে আমার ঠোঁটটা আঁকড়ে ধরার জন্য...............

আমিও এতদিন এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। ওই তো দেখা যাচ্ছে ওর জুগুলার ভেইন, স্পষ্ট টের পাচ্ছি ওর ভেতর দিয়ে গরম রক্তের প্রবাহ। ওই রক্তের স্বাদের জন্য অনেক দিন অপেক্ষা করেছি। শিকারি আজ তার শিকার পেয়ে গেছে। ওর ঠোঁট আমার ঠোঁটের স্পর্শ পাবার আগেই আমার শ্বদন্ত ওর গলা ভেদ করে রক্ত নালীতে পৌঁছে গেল, গরম রক্তে ভরে উঠল আমার পুর মুখ। আরিফের বউয়ের আতঙ্কিত দৃষ্টি আমার তৃষ্ণা মেটানোতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারল না।
হ্যাঁ!! আমি ভাম্প্যায়ার! শতাব্দী’র পর শতাব্দী মনুষ্য রক্ত আমাকে অমর করে তুলেছে। মনসুর কে খুন করার পরই চিঠিটা আমার চোখে পড়ে। কাল বিলম্ব না করে রওনা হয়ে যাই শিকারের খোঁজে। ঘড়িতে ২.৩০, এখনও অনেক কাজ, ওর লাশ টা সরিয়ে ফেলতে হবে, রক্তের ফোঁটা মুছে ফেলতে হবে......
তারপর...??
তারপর অপেক্ষা!!
অপেক্ষা আরেকটি শিকারের..................।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ৩:৫৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোঁজা সম্প্রদায়

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল খোঁজা সম্প্রদায়।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই খোঁজা সম্প্রদায়ের মুসলিম ছিলেন এবং শিয়া গোষ্ঠীর আশারি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। খোঁজাদের বিশ্বাস এবং ধ্রমীয় আচার-আচরণ সহজে কোন পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×