somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক মিনিটের রম্য গল্প- সাত পাকে বাঁধা

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি তখন আরিজোনায়। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে মনে হয় নিজের শরীরকে মাংসের পুটুলি বানিয়ে ডীপ ফ্রীজের ভিতর বসে থাকি অনন্ত কাল। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। খুলে দেখি- বন্ধু জগমোহন দাঁড়িয়ে।খুবই বিচলিত। তার হবু পাত্রী আগামি রোববারের ফ্লাইটেই নতুন চাকুরীতে লণ্ডন যাবে। তাই যেভাবেই হোক ওদের দীর্ঘদিনের ভালোবাসার বিয়েটা যেন রোববারের আগেই শেষ করা হয়।

এখানে বলে রাখি, আমার বন্ধু ট্যাক্সি ক্যাব চালায়। নামে জগমোহন কামে রমণীমোহন আর দেখতে অতীব সুদর্শণ। এই ছেলের প্রেমে পড়ে গেলো- এক খ্রীষ্টান শ্বেতাংগিনী এটর্ণি মেয়ে। নাম ম্যারিনা। আমরা নাম দিয়েছি খাঁটি বাঙ্গলা নাম মর্জিনা। কারো হঠাৎ লুঙ্গী খুললে লজ্জায় মাটিতে বসে যায়। কারো কপাল খুললে খুশীতে আকাশে ওড়ে যায়।

আমরা খুব দ্রুত বিয়ের কাজ শুরু করলাম। মেয়েটির একটা শর্ত, যেহেত সে মোহনকে বিয়ে করবে, তাই বিয়ের সমস্ত কিছু পুঙখানুপুংখ ভাবে হিন্দু বেদিক রীতির নিয়মানুসারে যেন সুসম্পন্ন হয়। ওর বিশ্বাস আছে, এ বিশ্বাসের যেন কোনরকমের অমর্যাদা না হয়।
আমাদের পরিচিতি এক ব্রাম্মন পুরোহিত মশাইকে পাওয়া গেলো।বেচারার বউ দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় বেচারার সব আশা এখন হা পিত্যেশ হয়ে ভালোবাসার গাছে বাদুরের মতো ঝুলে আছে। কিন্ত বউকে আর মার্কিনমুল্লুকে নিয়ে আসতে পারছেন না।

যাই হোক, বিয়ের যাবতীয় কাজ সুসম্পন্ন হলো। সবাই উম্মুক্ত পার্কে জড়ো হয়েছেন। বর্ণনাতীত দাবদাহ। চামড়া থেকে যেন মুড়ি ফুটে বের হওয়ার মতো অবস্থা। একপাশে স্টেজ সাজানো হয়েছে। একে একে সব আনুষ্টানিকতা শেষ। ম্যারিনা শাড়ী ,গহনা পড়ে একবারে যেন আবহমানকালের বাঙালি বধূ।

এবার শুরু হবে - আসল কাজ। পুরোহিত মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে বিয়ে পড়াবেন, তারপর অগ্নিকে বায়ে রেখে তাকে ঘিরে সাতবার চক্কর দেয়ার মাধ্যমে বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে- যাকে বলা হয়-সাত পাক। মূল স্টেজের মাঝখানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। বরের পিছন পিছন বধু ঘুরছে আগুনের চারপাশে। পুরোহিত মশাই নিবিষ্ট মনে মন্ত্র পাঠ করছেন।

মিউজিক বাজছে, ছেলেমেয়েরা ছুটোছুটি করছে। গরমে গাম ঝরছে সবার বিশেষ করে কনের।- বেচারির শাড়ী, গহনা, গরমে, গামে একেবারে হা পিত্যেস অবস্থা। কিন্তু কনের শর্ত একটাই জীবনে একবারই বিয়ে তাই কোনো প্রথা সে ভাঙ্গবেনা।

হঠাৎ আমার খেয়াল হলো- প্রায় আধঘন্টা মতো হলো-। এখনো আগুনের চারপাশে বর আর কনে ঘুরছে ব্যাপার কি। সাত বার ঘুরতেতো এতো সময় লাগার কথা না।আমি তাড়াতাড়ি পুরোহিতের কাছে গেলাম। জিজ্ঞাসা করলাম- মশাই ঘটনা কি? এতো দীর্ঘ সময় লাগছে কেন? সাতবার ঘুরতেতো এতোক্ষণ লাগার কথা না। বড়জোড় সাত মিনিট।
পুরোহিত আমাকে যা বললেন, তাতে আমি হাসবো না কাঁদবো ।

আরে দাদা, রাখেন আপনার সাত মিনিট। এই সাদা এটর্নি মহিলা আমাকে সাত বছর ধরে গ্রীণ কার্ড পাইয়ে দিবে বলে ঘুরাচ্ছে। ওর অফিসের সিঁড়ি ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আমার জীবন ত্যানা হয়ে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। গ্রীণ কার্ডের আশায় দেশে ঝুলে আছে বউ। এভাবে ঝুলতে ঝুলতে না জানি কোনদিন ফুরুত করে উড়ে যাবে। তখন, আমার কি দশা হবে। আজকে অনেক সাধনায় পেয়েছি বাছাধনকে। ঘুরতে থাকুক -আরো ঘন্টা খানেক। শুধু মাঝখানে একবার বলে আসবো-ঘুরতে থাক মর্জিনা, এক্কেবারে থামবা না। এবার বুঝ মজা। ঘুরতে কেমন লাগে? আর ঘুরাতেও কেমন লাগে?



সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:০৫
২৪টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×