একবার এক শহর ইঁদুরে আক্রান্ত হলো। নানা রকমের ইঁদুরের আক্রমণে ঘর, বাড়ী, দোকান, বাজার, মহল্লা ,অফিস,কোর্ট, স্কুল,কারখানার মানুষ সবাই দিশেহারা। ইঁদুরের তীক্ষ্ন দাঁতের কর্তন থেকে কোনো কিছুই বাদ পড়ছেনা। শহরকে ইঁদুরমুক্ত করার সব রকমের প্রচেষ্টাই ব্যর্থ। সরকার কোনো কিছুই করে ওঠতে পারছেনা। ঠিক এমনি এক দিনে শহরে এক লোক আসলেন। উনি এসে বললেন- আমি এই শহর থেকে ইঁদুর তাড়াবো।
নগরের মেয়র বললেন- আপনাকে কোটি টাকা দেওয়া হবে, যদি আপনি এই কাজটি করতে পারেন।
লোকটি বললো- না, আমাকে একটা টাকাও দিতে হবেনা। তবে শুধু একটা মাত্র শর্ত। কেউ আমাকে কোনো প্রশ্ন করতে পারবেনা। আর আমি যা বলি, তা শুণতে হবে। একদিন শহরের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ঘর থেকে বাইরে আসবে না কেউ।
মেয়র রাজী হলেন।
পরদিন লোকটি- নগর ভবনের সামনে এসে নিজের ব্যাগের ভিতর থেকে একটা বেশ বড় নীল রঙ্গের ইঁদুর বের করে রাস্তায় ছেড়ে দিলেন।
আর সাথে সাথে শত শত, হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ ইঁদুর বিভিন্ন অলি-গলি, অফিস, আদালত, ঘর, বাড়ি থেকে বের হয় নীল রঙের ইঁদুরটিকে অনুসরণ করতে লাগলো। শুরু হলো শহরে লক্ষ লক্ষ ইঁদুরের মিছিল। দেখতে দেখতে মিছিলটি হারিয়ে গেলো। তারপর, সবাই দেখলো- শুধুমাত্র নীল রঙের ইঁদুরটিই আবার লোকটির কাছে ফিরে এসেছে। অদ্ভূত সেই লোকটি অদ্ভূত সেই নীল রঙের ইঁদুরটিকে নিজের ব্যাগে ঢুকিয়ে এবার হাঁটতে শুরু করলেন।
কেউ কোনো কথা বলছেনা, কেমন করে কীভাবে কি হলো কেউ কিছু বুঝে ওঠতে পারছেনা। মানুষের কৌতূহলেরও শেষ নেই। শুধু ছোট একটা মেয়ে লোকটির সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো- জানি, লক্ষ টাকাও আপনি নিবেন না।আমার কাছে অত টাকাও নেই।কীভাবে কি হলো-আমি সেটাও জানতে চাইবো না। আমি দিনাজপুরের ছোট শিশু ধর্ষিতা পুজার ছোট বোন। ইঁদুরে কাপড়, বই পত্র কাটায় আমার কোনো ভয় নেই। কিন্তু মানুষ নামক পশু ধর্ষকের ভয়ই আজ আমার কাছে সবচেয়ে বেশী। শুধু জানতে চাই- আপনার ব্যাগের ভিতর কি একটা নীল রঙের ধর্ষক আছে?
আরিফ মাহমুদ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

