somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভয় ছিলো আশরাফুলের

২০ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৩:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভয় ছিলো আশরাফুলের

খবরের কাগজ পড়েই সকাল আটটায় প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলমকে ফোন করেন মো. আশরাফুল। অনেক চেষ্টার পরেও প্রধান নির্বাচককের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। বুকের ভেতরে ধুকপুকুনিটা বেড়ে যায়। বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভঙ্গের শঙ্কা নিয়ে অপেক্ষায় থাকেন। শেষে দুপুরে আশরাফুলকে সুখবরটি দেন প্রধান কোচ জেমি সিডন্স।

আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাওয়ার অবস্থা আশরাফুলের। ঘটনার বর্ণনা সাবেক অধিনায়কের মুখেই শোনা যাক,“বিশ্বকাপ দলে থাকবো কি থাকবো না এনিয়ে একটু চিন্তা হচ্ছিলো। বিশেষ করে আজকে সকালে সংবাদপত্র দেখে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। যদিও চাপে পড়ার কথা নয়। কিন্তু প্রশ্ন ওঠায় চিন্তা হয়েছে।”

প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলমের নেতৃত্বধীন তিন সদস্যের কমিটির মূল্যায়নে ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে ছিলেন আশরাফুল। সোমবার টেকনিক্যাল ও মূল্যায়ন কমিটির সামনে এ নিয়ে জবাবদিহি কম করতে হয়নি তাদেরকে। কিন্তু মঙ্গলবার মূল্যায়ন কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ম্যারাথন চার ঘন্টার সভায় দৃশ্যপট বদলে যায়। কমিটির প্রভাবশালী কর্মকর্তা দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল এবং গাজী আশরাফ হোসেন লিপু নির্বাচকদের ওপর চাপ তৈরি করেন আশরাফুলকে বাদ দিয়ে অলক কাপালিকে দলে নিতে। রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত নির্বাচকরা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে টুটুলের সঙ্গে আলোচনা চালান। তাতেও সুবিধা হয়নি। শেষে বুধবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের হস্তক্ষেপে জয়ী হন নির্বাচকরা। জয়ী হন আশরাফুলও।

বড় আসরে বরাবরই ভালো খেলেন আশরাফুল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দারুণ একটি ইনিংস খেলেন। নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ স্মরণীয় করে রাখতে এবারও স্বপ্ন দেখছেন সাবেক অধিনায়ক,“এখন পর্যন্ত যতগুলো বড় আসরে খেলেছি, ভালো হয়েছে। আশা করি এই বিশ্বকাপেও ভালো করতে পারবো।”

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে খেলার সুযোগ পেলেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ছিলেন না শাহরিয়ার নাফিস। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে গাজী ট্যাঙ্ক ক্রিকেটার্সের হয়ে পারফরমেন্স করায় নির্বাচকরা বিশ্বকাপের জন্য মূল্যায়ন করেছেন তাকে। দলে ফিরতে পেরে খুশি উদ্বোধনী এই ব্যাটসম্যান। বলছিলেন,“আমি সবসময় ভেবেছি বিশ্বকাপ খেলতে হলে লিগে ভালো খেলতে হবে। আল্লাহ’র রহমতে বড় ম্যাচগুলোতে রান পেয়েছি। নির্বাচকরাও আমাকে বিবেচনা করেছেন। আমি চেষ্টা করবো ভালো খেলতে।”

অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বিশ্বকাপের দল নিয়ে খুশি। তার দৃষ্টিতে সেরা এই মুহূর্তের সেরা ১৫ জনকে নিয়ে সাজানো হয়েছে বিশ্বকাপ দল। সাকিবের ভাষায়,“আমার মনে হয় সেরা স্কোয়াড হয়েছে। নির্বাচকরা এর চেয়ে ভালো কিছু করতে পারতেন বলে মনে হয় না। আশা করি বিশ্বকাপে ভালো কিছু হবে।”

সাকিবের জন্য এবারের বিশ্বকাপ অভিযান অন্যরকম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে ছিলেন উদীয়মান ক্রিকেটার। চারবছর শেষে, দেশের মাঠে অধিনায়ক হিসেবে খেলবেন আরেকটি বিশ্বকাপ,“একদম নতুন একজন খেলোয়াড় হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলেছি। এখন ১০০’র ওপরে ওয়ানডে খেলা হয়ে গেছে। অধিনায়কত্বও পেয়েছি। আমার জন্য এটা অনেক বড় পাওয়া।”

তবে মাশরাফির অভাব সাকিবকেও নাড়া দিয়েছে,“খবরটা শুনলে যে কারো খারাপ লাগতো। তবে আমার মনে হয় না মাশরাফি ভাই ভেঙ্গে পড়েছেন। আজ পর্যন্ত যে অবস্থায় থেকে তিনি খেলছেন, আমার মনে হয় না অন্যকোন খেলোয়াড় পারতো। আশা করি ফিট হয়ে বিশ্বকাপ দলে ফিরবেন। উনার সেই সামর্থ আছে। উনি ফিরলে দলের জন্য খুবই ভালো হবে।”

আশরাফুল তো ভাবতেই পারছেন না মাশরাফিকে ছাড়া হ্যাট্রিক বিশ্বকাপ খেলবেন। কিন্তু বাস্তবতা তাকেও মেনে নিতে হচ্ছে। অবশ্য বন্ধুর জন্য অপেক্ষায় থাকছেন মিডল-অর্ডার এই ব্যাটসম্যান,“ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ। প্রত্যেক ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপ খেলার। কিন্তু মাশরাফির ভাগ্যটা খুবই খারাপ। শেষ ১০/১২ বছর আমরা এক সঙ্গে খেলছি। আগে দুটো বিশ্বকাপে দু’জনেই ছিলাম। ওর স্বপ্ন ছিলো দেশের মাঠে এবার বিশ্বকাপটা খেলবে। আমি যতটুকু জানি ইনজুরির জন্য ওকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে দ্রুত উন্নতি করছে মাশরাফি। এখনো সুযোগ আছে। যদি পুরোপুরি ফিট হয় তবে অবশ্যই বিবেচনা করবে। আমি মনে করি ওর এখনো সুযোগ আছে।”

বাংলাদেশ সময়: ২১৪০ ঘন্টা, জানুয়ারি ১৯, ২০১১
সূত্র-এখানে
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×