কখনো অনেক ভোরে ঘুম ভেঙ্গে চুপচাপ শুয়ে থাকি বালিশে মাথা রেখে। হয়তো অনেক রাত করেই ঘুমিয়েছি, তারপরও, অল্প একটু ঘুমিয়েই অনেক ক্লান্ত মনে হয় নিজেকে। আমার খাটের পাশেই জানালা, সেখান থেকে আকাশ দেখা যায় কিছুটা। যখন সূর্য ওঠেনি, সারা রাত জেগে থাকা তারাগুলো মিটিমিটি হাসছে তখনো। কেমন একটু ক্লান্ত দেখায় ওদের হাসি, হয়তো সারা রাত জেগে থাকার কারণে, হয়তো আমার মতো ওদেরও কোন দুঃখ আছে, যা গোপন করে চলতে হয় ওদেরও। হয়তো নিজেকে সুখী দেখানোর অবিরত প্রয়াসে ওরাও ক্লান্ত। হয়তো নিজেকে সুখী ভাবার চেষ্টায়, নিজেকেই নিজের কাছ থেকে লুকিয়ে রেখে, নিজের সাথে নিজেকে ছেলেখেলায় ভুলিয়ে রেখে রেখে ওরা আর পারছে না। জানি না, হয়তো এগুলো কিছুই না, হয়তো আমারই কল্পনা, হয়তো নিজের মতো অন্য কেউ আছে ভেবে ভেবে আমারই সান্ত্বনা নেয়া।
কিন্তু কখনোই কি এর শেষ নেই? একঘেয়েমির বিরক্তি থেকে কি মুক্তি নেই কখনো? কখনো কি জীবন প্রাণচাঞ্চল্যের ছোঁয়ায় জেগে উঠবে না? মৃত্যুপুরীর মতো নিস্তব্ধ এই একাকীত্বের মাঝে একটু কোলাহলের স্পর্শে সত্যিকারের ঘুম থেকে জেগে ওঠা হবে না?
রাতে ঘুমানোর সময় যখন বালিশে মাথা রাখতে হয়, কেমন একটা শীতল অনুভূতি। একটু উষ্ঞতার বড় অভাব সেখানে। জীবন যেন মৃত্যুর কোলে মাথা রাখে। একটু হলেও ইচ্ছে করে কেউ পরম মমতায় বুকে টেনে নিক, নিজের উষ্ঞতা দিয়ে দূর করে দিক সেই মৃত্যুসম শীতলতাকে। ভালবাসা না থাকুক, সে বড় দুর্লভ এখন, একটু মায়া হলেই চলবে। চুলে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিত, গালে গাল লাগিয়ে চুপচাপ অনেক কথা বলে যেত। যাকে অসীম নির্ভরতায় জড়িয়ে ধরে ভুলে যেতে পারব বাইরের পৃথিবীর সাথে অবিরাম লড়াই করে চলার তিক্ততা, পরের দিন আবার সেই তিক্ততার মাঝে বেঁচে থাকার প্রাণশক্তি পাব যার কাছ থেকে। বাস্তবতার বেড়াজালে আবদ্ধ কঠিন পৃখিবীটা থেকে পালিয়ে, শুধু নিজেদের ছোট্ট জগৎ টাকে ঘিরেই বাঁচবো। সেই জগতে কোন হাহাকার নেই, না পাওয়ার বেদনা নেই, ক্লান্তি, পরাজয়ের গ্লানি নেই। ধুকে ধুকে প্রতিদিন নিজেকে একটু একটু করে টেনে নিয়ে যাওয়ার বিভ্রান্তি নেই। বাঁচবো আমরা ইচ্ছে মতো, ধীর-স্থির, তাল লয়ের ভারসাম্য রেখে নয়। উদ্দাম-উত্তাল জীবনে, বাঁধা ধরা নিয়মের গন্ডী মেনে নয়। একটাই তো জীবন, কেন তাকে হাজারো বাঁধা-নিষেধের কয়েদে বন্দী করে জোর করে টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো যাপন করতে হবে? একটু সাফল্যের জন্য? একটু অর্জনের জন্য? কিন্তু এর জন্য যে কত শত আকাঙ্ক্ষার গলা টিপে মারতে হয়, নিজের কাছে নিজেকে কতো ছোট করতে হয়, তা কি আত্মহত্যারই শামিল নয়? কিন্তু তবুও সবাই চায় সফল হতে, অন্যকে দেখানোর মোহে নিজেকে যে বিসর্জন দিয়ে দিতে হচ্ছে তার কোন প্রতিক্রিয়া নেই। তবুও অন্যকে দেখাতেই হবে। কিন্তু একটা সময়ে এই বেঁচে থাকা মূল্যহীন মনে হবে না কি? নিজের কাছ থেকে নিজেকে হারিয়ে ফেলে আমরা এমন কি অর্জন করতে পারি? অন্যকে দেখানোর জন্য জীবন যাপন করে আমরা কি নিজের কাছ থেকে পালাতে পারি শেষ পর্যন্ত?
কেন একটু শান্তি, একটু স্বস্তি, আর অনেকটুকু ভালবাসা নিয়ে জীবন গড়ে তুলতে আমরা লালায়িত হই না? ছোট্ট একটা জগৎ কেন শুধু নিজেদের মতো গড়ে তুলি না? হাজারো বাঁধা-নিষেধের গন্ডী পেরিয়ে, নিজেদের মতো করে ভালবাসার পৃথিবী কি গড়ে তোলা যায় না?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


