somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাবনার আকাশ

১৩ ই আগস্ট, ২০২১ সকাল ৯:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রথম পর্ব
বাগানের এক প্রান্তে গিয়ে ভাবনা আর আকাশ বসে। চারদিকে তরুন তরুনীর আড্ডা। আকাশ মনে মনে লজ্জাবোধ করতে থাকে।ভাবে শেষ জীবনে এসে একি করছে সে। পাপের কথা ভেবে যে জীবনে কোন দিন-ই প্রেমের স্বপ্ন দেখেনি, এতো কাছে পেয়েও নিজেকে কখনই জড়াইনি ভালবাসার শৃঙ্খলে আর আজ প্রেমের তপোবনে? আকাশের একাকী আনমনে লজ্জাবোধ হতে থাকে। কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যায় আকাশ। খুব সংকীর্ণতায় কথার আদান প্রদান চলে তাদের। ভাবনার মনে নিরবিচ্ছন্ন ভাবে ভাবের উদয় হলেও আকাশ খুব স্বচ্ছতায় কিছুক্ষণ আড্ডা দেয়। এক সময় ভাবনার মোবাইল ফোনটা বেজে উঠে। কথাও বলে। তবে মিথ্যে কথা। আপুর সঙ্গে বসে একটু কথা বলছি। অনেক বছর পর দেখা ইত্যাদি ইত্যাদি।

মিথ্যে তো বলতেই হবে। তা নিয়েও আকাশের চিন্তার কমতি রইলো না। তবেকি প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছলনা আর মিথ্যের আবেশে চলতে হবে? এ কেমন বন্ধন যে যা কিনা কিয়ৎকালের জন্যেও সমাজ সংসারে সমাদৃত হবেনা। আকাশ জানতে চায় কে ফোন দিয়েছিলো।
ভাবনাঃ ছেলের ফোন।
ছেলের আজ এডমিশন পরীক্ষা।
মনটা ওর খুবই খারাপ। এত ভাল রেজাল্ট। তারঃপরও কোথাও চান্স হচ্ছেনা মেডিক্যালে মাত্র কয়েকটা নাম্বার এর জন্য চান্স হলোনা।
আকাশঃ তাই? অহ! ভেরি সেড নিউজ। আসলে তকদিরের উপর কাহারোই হাত নেই। ভাবনা যেন তকদিরকে মানতে নারাজ। এই নিয়ে কিছুক্ষণ কথা হয়। এক পর্যায়ে আকাশ বলে, চলো এবার উঠা যাক।
ভাবনাঃ না, উঠতে ইচ্ছে করছেনা।
আকাশঃ আরে ছেলেটা আনমনে হয়ে আছে এ সময় তোমার পাশে থাকাটা জরুরী। চলো যাই।
ভাবনাঃ কোথায় যাবো? যেতে হয় তোমার সাথে যাবো একবারে চিরদিনের জন্য। কি ভয় পেলে, নিবেনা?
আকাশঃ মনে মনে বড়ই বিষন্ন হয়, ক্লান্ত হয়ে উঠে। শান্তনা স্বরুপ মৃদু হাসি হেসে বলে, নিশ্চয়ই নিবো। ভয় কিসের?
সময়টা যেন আকাশের একেবারেই কাটছিলোনা। প্রতিটি মিনিট যেন যাচ্ছিল তার প্রতিটি ঘন্টার সমান। প্রেম করা মোবাইল ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলা, একজনের দুঃখ শেয়ার করা, দূর থেকে নানা মাধ্যমে একজন ফরটি আপ বয়সী নর বা নারীর জন্য বেমানান না হলেও ইউনিভারসিটির ভিতর সহস্র তরুণ তরুণীর মাঝে প্রেমালাপন যেন একেবারেই সেলের মত বিধছিলো।। আর অন্য দিকে ভাবনার প্রেমের ইমেজ যেন ঘড়ির কাটা ধরে বেড়েই চলছিল। এক পর্যায়ে আবার ভাবনার মোবাইল ফো্নটা বেজে উঠে। এবার আকাশ মনে মনে বেশ খুশি হয়। ভাবে, এবার হয়ত উঠা যাবে।
আকাশঃ কে ফোন দিয়েছিল?
ভাবনাঃ ছেলের বাবা।অবশ্যই ফোনে কথা বলার সময়ই আকাশ আন্দাজ করতে পেরেছিল। তারঃপরও উঠার উসিলা খোজছিল আকাশ । পুনরায় আকাশ বলে, চল এবার উঠা যাক।
ভাবনাঃ না। উঠবোনা।
আকাশ বেশ কায়দা কৌশলে তাকে উঠায়। এবং সন্মোখপানে এগোতে থাকে। খুব জোরে হাটছে আকাশ। ভাবনার যেন মেজাজ বেশ ভারি হয়ে উঠছে। তাদের ভালবাসার জীবনের এই প্রথম লগ্ন। আর এই ক্ষণে আকাশ এমন করছে কেন? মনের ভাবনায় যেন বেদনার ঈংগীত বহে। আবার পুনরায় ভেবে নেয় ভাবনা, প্রথম দর্শনতো, তাই হয়তো আকাশ লজ্জাবোধ করছে। আর ভাবনা কোন কিছু তোয়াক্কা না করে বলে উঠে, আরে এতো জোরে হাটছো কেন? আকাশ হাটার গতিটাকে মন্থর করে। শান্তনা স্বরূপ বলে, তুমিতো হয়তো জাননা যে, আমার এই হাটাকে নিয়ে অনেকের অনেক অভিযোগ। কি করবো বলো। সেই যে স্কুল জীবনে দৌড়িয়ে ক্লাস ধরার অভ্যাস এতোদিনেও যে ছাড়তে পারলাম না। তোমার ভাবীর এই নিয়ে যে কি অভিযোগ তার আর কি বলবো।এখন আর সে আমার সাথে কোথাও বেড়াতেই যেতে চায়না। কথা বলতে বলতে দু'জনে প্রায়ই ইউনিভারসিটির শহীদ মিনারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। একটু উঁচু জায়গায় উঠতে হয়। ভাবনা হাতটা বাড়িয়ে দিলে আকাশ সংকোচনে টেনে তোলে। আরভএতোটুকুই স্পর্শ কাতরতা। কারণ ভাবনার মনে বিশাল ভুবন তৈরী হলেই আকাশের মনের ভুবনটা তৈরি ছিল অন্য আল্পনায় অন্য কল্পনায় অন্য আঙ্গিকে।
শহিদ মিনারের খুব কাছাকাছি এসে পড়েছে দু'জনে। সে দিনটিতে ছিল অসংখ্য মানুষের ভীড়। পুরো ইউনিভারসিটা লোকারণ্য তাই খুব কাছাকাছি থাকলেও কেউ কাউকে যে দেখবে সে ভয়টা একেবারেই ছিলনা সেদিন। প্রচন্ড রোদ আকাশ একটা রক্তজবা গাছের নীচে দাড়ায়। ভাবনা পিছু ফিরে তাকায়। আকাশও তাকিয়ে দেখে ভাবনার চোঁখ ভরা জল টলমল করছে।ভাবনা পুনরায় আকাশের কাছে এসে আর একবার তাকিয়ে বলে, আসি, ভাল থেকো।
কি করবে আকাশ ভেবে পায়না।
যে চঞ্চল মন নিয়ে এসেছিল মনের বাগানে ফুল ফোটাতে তা যেন অংকুরেই বিনাশ হতে চলল। কত কথার মালা বুনিয়ে ছিল দুজনে দুজনের গলায় পড়াবে। তা যেন আর হবার নয়।
সেই সল্প সময়ের কথোপকথনে ভাবনা তার জীবনের অনেক কথাই আকাশ কে শেয়ার করেছে। আকাশ তেমনটি করেনি। কারনটা তো আগেই বলেছি। আকাশ ভাবে এই যে সাজানো সুন্দর সংসার তার অনুপ্রবেশে ধ্বংস হবে এটা যে বড়ই পাপ। তাছাড়া ভাবনার মনের যে আকুতি তাতে বুঝাই যায় সে সিরিয়াস। অন্যদিকে আকাশ, তারও তো একটা সাজানো গুছানো সংসার আছে যেখানে সে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে সুখি। আর তাতে অশান্তির কালো ধোয়া এসে গ্রাস করবে এ কি করে সম্ভব। এই সুদীর্ঘ জীবন পথ পেরিয়ে এসে আজ এই সময়ে এমন নাটকের পটভুমি সে লিখুক এটা আকাশ যে চায়না। রচনা করতে চায়না অশ্রুসিক্ত বেদনাময় দুটি জীবন নাটক।
কথা ছিল সেখানে আকাশ আরও কিছুক্ষণ থাকবে। ছেলে হলে প্রবেশ করলে ভাবনা আবার তার কাছে আসবে। আকাশ সীদ্ধান্ত হীনতায় বেশ কিছুক্ষণ। হঠাত পুরনো বন্ধু রাফসানের সংগে তার দেখা হয়ে যায়। শৈশবের বন্ধু। অনেক বছর পর দেখা। প্রথমে আকাশ রাফসানকে চিনতে না পারলেও রাফসান তাকে ঠিকই চিনতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০২১ সকাল ৯:২১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×