শেষ যখন একেবারেই চলে এলাম
তখন বলিল সে আবার এসো তুমি,
কোন এক বৈশাখী পূর্ণিমাতে
অপেক্ষায় থাকবো,
বিন্নি ধানের খই ভেজে রাখব!
নৌকটাও সাজিয়ে রাখব
শাপলা তুলার জন্য।
এর পর অনেক গুলো বৈশাখ
পেরিয়ে গেল-
মেয়েটি বিন্নি ধানের খই ভেজে
নৌকাটা সাজিয়ে রাখে প্রতি পূর্ণিমাতে-
আমায় নিয়ে শাপলা তুলতে যাবে বলে।
হয়তো অপেক্ষায় দাড়িয়ে থাকে আজো,
ঐ হিজল তলার রাস্তাটির মাথায়,
কিন্তু আজো আমার যাওয়া হলোনা।
তার মাটির হাড়িতে সাজিয়ে রাখা পুড়া-পিটার স্বাধ নেয়া হলোনা।
আজ বারো বছর পর হঠাৎ দেখা ঐ রাস্তার মাথায়।
ভাবিনি অপেক্ষায় থাকবে আজো।
বার বছর কম সময় নয়
এর মধ্যে কত কিছুইনা ঘটে গেল।
নদি সব শুকিয়ে গেল
সাঁকোর বদলে ব্রীজ হলো।
কাঁচা রাস্তা পাকা হলো
গরুর গাড়ির বদলে ইঞ্জিনের গাড়ি এলো
তবুও সে অপেক্ষায় রইল।
আমায় দেখে কোনো মান-অভিমান নয়,
শুধু বল্লো এলে তবে শেষে।
আবার সেই আগের আয়োজন!
মুড়ি চিড়ার নারু আর বিন্নি ধানের খই।
উচ্ছল বালিকার মত নৌকই ঘোরাঘুরি আর গান।
ফেরার বেলায় বলে দিল এসো তবে প্রতি বৈশাখে।
আবারো কত বৈশাখী পূর্ণিমা
চলে যাবে তবুও যাওয়া হবেনা।
তবুও সে অপেক্ষায় থাকবে বিন্নি ধানের খই আর
বুকে নিয়ে শত ভালোবাসা।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০১৮ রাত ১০:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




