somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনি চুপ থাকুন X(

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা ১---নিলা ছোটবেলা থেকেই কিছুটা বিদ্রোহী মনোভাবের। সে সব সহ্য করতে পারে কিন্তু চোখের সামনে অন্যায় হলে সহ্য করতে পারেনা। একবার গ্রামে তার এক চাচাতো ভাইয়ের বিয়েতে গিয়ে দেখলো প্রায় লাখ চারেক টাকার বিনিময়ে তার ভাই ঘরে নতুন ভাবি আনতে যাচ্ছে। চেষ্টা করল সবাইকে বুঝাতে কাজটা ঠিক না। "আরে বাপু, যারা দিচ্ছে তাদের সমস্যা নেই, তোমার এতো সমস্যা কেন?", "গ্রামে এসব হয়ই, তুমি বেড়াতে এসছো। খাও, দাও ফুর্তি কর", "ভাই, ঢাকায় থেকে তোমার মেয়ে বেশি বেশি বুঝতে শিখছে, ওরে থামাও", এবং পরিশেষে বাবা মায়ের উপদেশ "মেয়ে মানুষের সব ব্যপারে নাক গলাতে নেই। যা বুঝনা তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে চুপ থাকো!!"

ঘটনা ২--- রুনা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে হটাৎ খেয়াল করল রাস্তার এক পাশে কিছু লোক সমাগম হয়েছে আর সেখান থেকে এক বাচ্চা ছেলের কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। এগিয়ে গিয়ে দেখলো এক মধ্যবয়স্ক লোক বেধরকভাবে এক কিশোরকে পেটাচ্ছে। দেখেই বুঝা গেলো নিম্নশ্রেনির লোক। আর আশেপাশের সব লোক সেই পেটানোর দৃশ্য দেখে মজা নিচ্ছে!! সে থাকতে না পেরে সামনে গিয়ে বলল "থামুন, এভাবে মারছেন কেন? রাস্তায় তামাশা করবেননা, নয়তো পুলিশ ডাকবো !" তার কথা শুনে আশেপাশের লোকজন হাসতে লাগলো। যে লোকটি পিটাচ্ছিল সে উল্টো ধমক দিয়ে বলল "এহ! আইছে দ্যাশের প্রধানমুন্ত্রি, দ্যাশটারে খাইছে এহন আমরে শিখাইতে আইছে কেমনে কারে মারুম!! যাও যাও। মাইয়া মাইনষের এত্ত নাক গুলান ভালা না"। আশেপাশের লোকজন সেই লোকটিকে সমর্থন দিয়ে মেয়েটিকে চুপ থাকার নির্দেশ দিলো।

ঘটনা ৩--- তামান্না প্রতিদিন বাসে করে কলেজে যায়। বিভিন্ন ঘটনা/ দুর্ঘটনার শিকার তাই সে প্রতিদিনই। সেদিন সিট না পেয়ে সে দাঁড়িয়েই যাচ্ছিলো। এক বৃদ্ধ বাসে উঠলো তখন। তামান্না তা দেখে সিটে বসা তার বয়সী এক মেয়েকে বলল "আঙ্কেল বয়স্ক লোক, তাকে একটু বসতে দাওনা।" মেয়েটি এমন একটা চেহারা বানালো যেন তাকে চাঁদে যেতে বলা হয়েছে। "আমি কেন উঠব? আশে পাশে এতো পুরুষ লোক আছে তাদের বলো, আমাকে কেন বলছো?" তামান্না বলল "ওনারা তো শুনবেন না, তুমি অন্তত বুঝো" মেয়েটি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বসে রইলো। পাশে আরেকজন লোক বসা ছিল তিনি বললেন "সবাই যার যার টা বুঝে। আপনি নিজে দাঁড়াইয়া থেকে আরেকজনরে বসার জন্য উকালতি করছেন? এইডা কি আজকাল কেও করে? আপনি বসে থাকলে আপনিও দিতেন না!" তামান্না থাকতে না পেরে বলল "ঠিক আছে ভাই, আমি না হয় কুকুর তাই বলে বাকি সবাই কেন হবে? কেও কি নিজের সামান্য স্বার্থটুকু ছাড়তে পারিনা?" আশেপাশের লোকজন ক্ষেপে গেলো "মেয়েছেলেদের এইজন্য বাসে উঠাতে হয়না", নিজেরা তো সিট নিয়ে ঝামেলা করেই এখন অন্যের সিট নিয়েও ঝামেলা করছে", "মাইয়া মানুষের এতো কথা বলাই আসলে ঠিক না, এরা কথা বললেই ঝামেলা তৈরি হয়" অবশেষে বাসের হেল্পার বলল " আফা আপনি চুপ কইরা দাঁড়াইয়া থাকেন্তো। শুধু শুধু ঝামেলা পাকাইয়েন না"

নাহ উপরিল্লেখিত কোন ঘটনাই গল্প নয়। প্রতিটিই সত্যি। কাওকে ছোট করার নিমিত্তে কিছু বলছিনা। শুধু বলতে চাই অন্যায় কে অন্যায় বলার সৎ সাহস থাকা বাঞ্চনীয়। সে নারীই হোক কিংবা পুরুষ হোক! অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে সবাইকেই। যদি সেই পথে প্রথম পদক্ষেপ একজন নারী নেয় তাহলে তাকে হেয় বা অপদস্ত না করে বরং তার সহায়তা করুন। এতে করে আপনার বা আমার ক্ষতি তো হবেইনা বরং সমাজের কিছু নিয়মিত ঘটে যাওয়া অন্যায়গুলো বন্ধ হবে। কিছু ন্যায় বা নীতি শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদের জীবনেও প্রতিফলিত হবে। "এসব নীতি বাক্য না ফলিয়ে ঘরের কাজ করেন ঠিক মত"
হুম তা ঠিক। তবে তাই বলে আমরা সবাই চুপ করে আর কতকাল থাকবো? its high time!!! আপনি একজন পুরুষ হোন বা নারী হোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন, ততক্ষন তুলতে থাকুন যতক্ষণ না অন্যায়টি ন্যায়ে পরিণত হচ্ছে। তা না হলে যতই আমরা নীতিবাক্য পড়ি বা লিখি না কেন সবই বৃথা, সবই বিফল। আমাদের এতো এতো সার্টিফিকেট কি শুধুই টাকা অর্জনের জন্য?? শিক্ষার মূল্য কি তাহলে এতোটুকুই? আরেকটি কথা -যদি কখনো কোন নারীকে দেখেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে, দয়া করে তার পাশে দাঁড়ান। অনুরোধ করছি শুধু মাত্র মেয়ে বলে তাকে বলে বসবেননা "আপনি চুপ থাকুন!!!"
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×