somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

কিরমানী লিটন
সময়ের ব্যবধানে বেজে বেজে চলে, সূর্য চাঁদ সবচেয়ে- দূরতম শব্দের মাস্তল, যেন কোন অজ্ঞাত নিবাস থেকে ছুটে আসি।পরিচিত শ্টেশন এলেই তুৃমি দেখাও নিশান- আমি উঠে পড়ি...

বেঁচে থেকো কবিতা, বিমূর্ত প্রাণের উৎসব-আয়োজনে.....

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার কাছে কবিতা মানে অনেক বৃষ্টি ঝরে- এক মুঠো রোদ্দুর। বিমূর্ত স্মৃতীর একঝাক তৃষ্ণা। আমার মায়ের ঘামে ভেজা শরীরের- ছেড়া আঁচলের হলুদের গন্ধ। পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন। সব দূয়ার হতে প্রত্যাখাত হয়ে তাই কবিতার জীর্ণ বুকেই মুখ গুজি- পরম মমতায়। রাজনীতি সমাজ আর মূখোশে মানুষের উৎসব থেকে নতমুখে ফিরে এসে কবিতার অতলে ডুব দিয়ে নিজেকে আড়াল করি। সুখের অবগানে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি কবিতায়- নিশ্চিন্তে।

আমার কোন রাজনৈতিক আদর্শের আনুগত্য নেই । জীবনের খসখসে বাস্তবতায় হতাশার ঢেউ যখন উপচে পড়ে, সমস্ত পথচলায়- খেয়ালি বেঁচে থাকা তার বৈসাদৃশ্য খুঁচিয়ে রক্ত ঝরাই। অযথাই সহ্য করি- সে জ্বলন। যাদের ভালোবাসি- কখনও সখনো তাদের দীনতাকে প্রবচন করি- যুক্তির মারপ্যাঁচে। বিতর্কে ভাসাই- প্রশ্নের চাবুকে। তাতে স্বজনের সংখ্যাটা, সামান্য থেকে সামান্যতর হয়- কেবলই। ভুল বুঝাবুজির মনন আর মগজে শুধুই ঠোক্কর খায়। যেমন সুযোগ পেলেই সুহৃদ স্বজনের কোন পোষ্টে অযাচিৎ মন্তব্য ছুড়ে দিয়ে তাদের মন:কষ্টের কারন হই। দলমত নির্বিশেষ সবার বেলায়ই- এই কাজটা করে ফেলি। তবে আপনজন বলে যাদের মান্য করি, সুহৃদ বলে যাদের দাবী করি- কেবল তাদের বেলায়ই এ অনধিকার চর্চাটা আবাদ করি। তাতে বরং দুরত্বটাই দীর্ঘ হয় তাদের সাথে।

নটরডেমে পড়ার সময় থেকেই রাজনীতিটা ঘৃনা করা শুরু এবং তা প্রচন্ডভাবেই। রাবিতে পড়ার সময় যেদিন আমার রুম থেকে নিজের দরকারি টেবিল ফ্যান ও সখের টেপ- রেকর্ডারটা খোয়া গেলো, সেদিন সহপাঠি হেডমওয়ালা বন্ধুদের কাছে বিচার দিতেই তারা চোরটাকে পাকড়াও করে প্রচন্ড মারধর করলো। তারা ছিল ছাত্রদল ক্যাডার। দূর্ভাগ্যক্রমে চোরটি ছিল তখনকার বাস্তবতায় আমি যে জলে বাস করতাম- সে জলের কুমির। মানে শিবিরের ইসলামী ছাত্র শিবির। একথা জানাজানি হতেই শুনলাম, আমাকে সাইজ করার জন্য শিবির হন্যে হয়ে খুঁজছে। তখন ভয়ে টানা একমাস সেই সহপাঠি ছাত্রদল ক্যাডার বন্ধুদের আশ্রয়ে থেকে নিজের পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা। আপাত দৃষ্টিতে তাতে পিঠটা বাঁচলেও ক্যারিয়ারটা আর নিরোগ দেহে সুস্থতায় বাঁচানো গেল না। তখন থেকেই রাজনীতির প্রতি ঘৃণা হারালাম- অনার্সে ফার্স্ট ক্লাসটাও। সেই থেকে হারানোর শুরু। রেল- লাইন সমান্তরাল জীবনের বিশুদ্ধ বেঁচে থাকা, চেনা পরিমন্ডলের স্নিগ্ধ বাতায়ন, মায়ের ঘামে ভেজা শরীরের ছেড়া আঁচলে লেপ্টে থাকা- হলুদের গন্ধ, বুক পকেটে সযত্নে আগলে রাখা বাবার স্বপ্ন, অলীন্দের ভাঁজে আগলে রাখা সোনালী ভবিষ্যত, ঘুম ভাঙ্গা ভোর, আবেগী রাতে জেগে আঁকা বিমূর্ত বাতাসের পোয়াতী জোছনা, কিছুই আর অবশিষ্ট রইলো না- হারাবার।

এরপর নিজেকে আর নিজের ভীতর ধরে রাখতে পারিনি। তৎকালীন শিবিরের মুর্তীমান আতংক রূপে নিজেকে একটু একটু করে তৈরি করার মিশন শুরু করলাম। এক সময় তাতে সফলও হলাম। তাতে নিজের স্বাভাবিক জীবনের ধূলোমাখা পথটা -আর সহজাত রইলো না।
এরই তীর বেয়ে- মায়ের মৃত্যু, বাবাকে হারানো, প্রমিকাকে বিয়ের আসর থেকে তুলে নিয়ে কোর্ট- ম্যারেজ, সংসার- সন্তান এভাবেই......। সে এক দীর্ঘ ইতিহাস। জীবনের এই চড়াই- উৎরাাই ক্রান্তিতে একমাত্র কবিতাই আমাকে পাখীর নীড়ের মতো চোখ মেলে- কাছে ডেকে, ক্লান্তির ঘাম মুছে বলেছিলো- " এতদিন, কোথায় ছিলেন....!"
কবিতার কাছে- এ ঋন আমার আমৃত্যু শোধবার নয়। বিশুদ্ধ প্রাণের উৎসব- আয়োজনে, বেঁচে থেকো কবিতা- কবিকে বাদ দিয়ে নয়.......!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:২৬
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিশরের বহিস্কৃত প্রেসিডেন্ট ড: মোরসীর মৃত্যু নিয়ে বাংগালীরা বিভক্ত?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৮ ই জুন, ২০১৯ রাত ১০:০৫



মিশরের বহিস্কৃত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসীর(১৯৫১-২০১৯) মৃত্যু নিয়ে বাংগালীরা বিভক্ত কেন? এই ব্যাপারটা নিয়ে বাংগালীরা একমত পোষণ করলে কেমন হতো? মিশরীয়রা অনেকটা বাংগালীদের মতো ঐক্যহীন জাতি, তাদের মাঝে বড় ৩টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে জামিন পেলেন বেগম খালেদা জিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ১২:০১



ছয় মাসের জামিন পেলেন বেগম খালেদা জিয়া

মানহানির অভিযোগে করা দুই মামলায় ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ হাফিজ ও বিচারপতি আহমেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ৫: অবশেষে শ্রীনগরে!

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:২৬

গাড়ীচালক মোহাম্মাদ শাফি শাহ সালাম জানিয়ে তড়িঘড়ি করে আমাদের লাগেজগুলো তার সুপরিসর জীপে তুলে নিল। আমরা গাড়ীতে ওঠার পর অনুমতি নিয়ে গাড়ী স্টার্ট দিল। প্রথমে অনেকক্ষণ চুপ করেই গাড়ী চালাচ্ছিল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারিদিকে বকধার্মিকদের আস্ফালন!!

লিখেছেন ঘূণে পোকা, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৩৭

জাতি হিসেবে দিনে দিনে আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত মানসিকতা গড়ে উঠছে।
আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যকে বিচার করার এক অসাধারন দক্ষতা অর্জন করতে শিখে গেছি। আমাদের এই জাজমেন্টাল মেন্টালিটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন জনকের চোখে

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:১৬


আমি ছিলাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনারত
হসপিটালের ফ্লোরে —পরিবারের সবাই
প্রতীক্ষার ডালি নিয়ে নতমস্তকে —আসিতেছে শিশু
ফুলের মতোন — ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শুভাগমন
কোন সে মহেন্দ্র ক্ষণে — পরম বিস্ময়ে সেই
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×