somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“পাবার মতো চাইলে পাওয়া যায়”২৯পর্ব

১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“পাবার মতো চাইলে পাওয়া যায়”

কিশোর কারণিক
উপন্যাস-২৯পর্ব

ছিলাম। বেগুনী রঙের সালোয়ার কামিজ পরেছে। কপালে বেগুনী রঙেরই টিপ; হাতে চিরুনী শ্রাবস্তীর। মাথা আঁচড়াতে আঁচড়াতে এসেছে। আমি একবার তাকিয়েই মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। একটু অসন্তুষ্ট ভাব দেখালাম। আসলে অসন্তুষ্ট ছাড়াও একটু লজ্জা লাগছে। খানিক আগে মগ দিয়ে মেরেছে। এবার আবার কী করবে কী জানি! বৃষ্টি এখনও আগের মতোই হচ্ছে।

“আমি খুবই দুঃখিত। আসলে ঐ মূহুর্তে আপনার সম্পর্কে বাজে একটা ধারণা হয়েছির। আপনি বিশ্বাস করুন, আপনাকে আমি ঠিক বুঝতে পারিনি।”
থেমে-থেমে কথাগুলো শ্রাবস্তী বললো। ও ওর দোষ স্বীকার করাএত মনটা ভাল হয়ে গেল। তবু ও চুপ করেই আছি। বৃষ্টি পড়া দেখছি। সামনের খোলা জায়গা দেখছি। যেন শ্রাবস্তীর কথা আমি শুনতেই পাচ্ছি না।
“আমি বুঝতে পেরেছি, আপনি আমার উপর রেগে গেছেন। দেখুন এমন পরিস্থিতি আমার জীবনে কোনদিন ঘটেনি। আসলে আমি খুবই দুঃখিত। আমাকে কিন্তু এখানে একা ফেলে রেখে যাবেন না।” শ্রাবস্তী মুখস্ত পড়ার মত করে বলল। মনটা কেমন কওে যেন নরম হয়ে গেল। বুঝতে পারলাম শ্রাবস্তীর প্রতি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছি। ঘুরে দাঁড়ালাম। শ্রাবস্তীর চোখে এবার আমার চোখ পড়ল। শ্রাবস্তীর কথায় আবদার আছে, অনরোধ আছে।

“আমি লজ্জিত।” বলে মাথা নিচু করে ফেললো শ্রাবস্তী। অভিনয় করছে না তো! না কি সত্যি সত্যি ও লজ্জিত?

চুপ করেই থাকলাম, বৃষ্টি আরো জোরে পড়া শুরু হলো। বৃষ্টির ছাটও বেড়ে যাচ্ছে। বাতাস যেভাবে বইছে মনে হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় শুরু হচ্ছে। এখানে আর দাঁড়ানো যাবে না।
“চলুন ঘরের ভিতরে যাই।” বলে আমি ঘরের ভেতদও ঢুকলাম। শ্রাবস্তীও আমার পেছন পেছন ঢুকলো। ঘরের ভেতর আবছঝা অন্ধকার হয়ে আছে। লাইট এর সুইসটা অন করলাম। লাইট জ্বলে উঠল। আমি খাটের উপর বসলাম। বসতে গিয়ে পিঠে একটু ব্যথা অনুভব হলো। তেমন গুরুত্ব দিলাম না। শ্রাবস্তী সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো মনে-মনে জেদ ধরেছে, আমি যদি বসতে না বলি ও বসবে না। কী জানি কেন এত ভাব দেখাচ্ছে। শ্রাবস্তী মুখটা নিচু করে নিতেই কেন যেন বলে ফেললাম, “বসুন।”
শ্রাবস্তী সোফায় বসে পড়ল। ভাল লাগল। শ্রাবস্তী মায়াবী চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, “আপনি তখন খুব ব্যথা পেয়েছেন?”
“কই নাতো!” মিথ্যে কথা কেমন করে বললাম, নিজেও বুঝতে পারলাম না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১১:১৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

**চিঠি ০৩ : ক্যাফের চিঠি** ☕️

লিখেছেন চারাগাছ, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০৫




বহু বছর পর আজ তোমাকে দেখলাম।

একটা ক্যাফেতে।

জানালার পাশের টেবিলে বসে ছিলে তুমি। সামনে একটা বই, পাশে একটা Affogato। মাঝে মাঝে কফিতে চুমুক দিচ্ছিলে, আবার বইয়ের পাতায় চোখ রাখছিলে।

আমি ক্যাফেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×