মাননীয় তথ্য মন্ত্রিড. আব্দুল মইন খান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন 2006 নামক একটা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন সংসদে, এই প্রস্তাবিত বিলের অংশবিশেষ দেখে আমি আতংকিত।
বাংলাদেশের আইনের অপব্যাবহারের মাত্রা বেশী, তাই এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন আদতে বাক স্বাধীনতা ও চিন্তার স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হওয়ার সম্ভবনা জাগিয়ে তুলেছে আমার ভেতরে।
প্রস্তাবিত বিলে ভালো কিছু কথা আছে-
বলা আছে অপরাধ সংঘটনের সহায়তা করার কাজে তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যাবহার করা, অন্য কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কে নাশকতামূলক কার্যক্রম চালানো, কম্পিউটার ভাইরাস ছড়ানো, এসবকে সাইবার অপরাধ হিসেবে গন্য করে তার যথোপযুক্তি শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
তবে কিছু ধোঁয়াটে বিষয়ও আছে এই প্রস্তাবিত আইনে।
অশালীন কোনো কিছু প্রকাশ করা- যদিও শালীনতার গ্রহনযোগ্য সংজ্ঞা এখনও নির্ধারিত হয় নি তাই ঠিক কোন উপায়ে এটা নির্দিষ্ট করে অশালীনতার মাত্রা তা বোধগম্য নয়।
তথ্য বিকৃতি বা মিথ্যাচার, দেশের ভাবমুর্তিনাশকারী তথ্য প্রকাশ।
প্রথম অংশ নিয়ে আমার আপত্তি নেই, মিথ্যাচার যদি অপরাধ হয় তাহলে সেটা শুধু ইন্টারনেট এবং ওয়েব সাইট ভিত্তিক হবে কেনো? সাধারন বিচারেও এটাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচনা করা হোক। এবং এর ভিত্তিতে সব রাজনৈতিকদের শাস্তি প্রদানের ব্যাবস্থা করা হোক।
দেশের ভাবমুর্তি সংক্রান্ত বিষয়টা বেশ ভয়ংকর একটা ফাঁদ। এমনতেই সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে খরঘস্ত সরকার। তারা রীতিমতো অভিযোগ করছে সংবাদপত্র দেশের ভাবমুর্তি ধংস করছে। এই আইনের আওতায় সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হবে এটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়। শাসনকে নিস্কন্টক করতে প্রধান বাধা এই সংবাদপত্রগুলো।
শেষ অংশটা হলো কেউ যদি কোনো তথ্য পড়ে নীতিভ্রষ্ট এবং অপরাধপ্রবন হয়ে যায়!!! এবং এসব তথ্য যদি কারো ভাবমুর্তি নষ্ট করে এবং কারো ধর্মিয় অনুভুতিতে আঘাত হানে তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এখন রাজাকাররা ক্ষমতায়, তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা হলে তারা যদি ভাবে তাদের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছে তাহলে তারা মামলা করে দিতে পারে, মামলা করে দিলে শুভর ভাষ্য মতে সাদাকে সাদা বলার অপরাধে 10 বছরের জেল বা 10 লক্ষ টাকা দন্ড দিতে হবে?
ধর্মিয় অনুভুতিতে আঘাত এমন একটা বিষয় যা দিয়ে যেকোনো সাধারন উক্তিকে ধর্মের প্রতি অবমাননা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায় এবং শাস্তিপ্রদানের ক্ষেত্র তৈরি হয়ে যায়।
আমার বিশ্বাস, আমার ভাবনা আমি প্রকাশ করতে পারবো না। কোনো রকম মতামত দিতে পারবো না। এমন স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপমুলক আইনটা পাশ করা অনুচিত হবে আমার বিবেচনায়।
হাসান আজিজুল হকের উপর আনা অভিযোগ যদি কেউ প্রমান করে দিতে পারে তার বিশ্বাস এবং তার বিশ্বাসের সপক্ষে অবস্থান গ্রহনের জন্য তারও 10 বছরের কারাভোগের ব্যাবস্থা নির্ধারিত হয়ে যাবে এই বিধানে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ১২:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


