somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজকের আপডেট

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত কয়েক দিন সামান্য ব্যাস্ততা ছিলো। তবে এর মধ্যেই দেখলাম হীরকের শতক, এর পর দেখলাম আড্ডার শতক। দুজনকেই অভিনন্দন আবারও।

আমার গতকাল কেটেছে খারাপ। ছেলের উথাল পাথাল জ্বর। সেও গত কাল শতকের উপরে রেখেছিলো তাপমাত্রা, না ঘুমানো ক্লান্তিতে সকালে ঘুমিয়েছে যখন ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় হয়ে গেলো।
খারাপ লাগছিলো কিন্তু এখানে সময়ের হিসেবে সব চলে আর আচমকা বাইরের তাপমাত্রা কমেছে। আমার ভেতো বাঙালি শরীর এখনও জমাট বাধা জলের তাপমাত্রায় কেপ উঠে, বাইরে বরফ পড়লে ঘরের ভেতরে আমার ঠান্ডা লাগে ভীষন। এসব প্রতিকুলতার মধ্যে গেলাম হাসপাতালে।

নার্সের অহেতউক খুচাখুচিতে ছেলে আকাশ পাতাল এক করে কেঁদেছে, আমি বুক চোখ মুখ শক্ত করে ছিলাম অনেক ক্ষন, শিরা খুঁজতে গিয়ে হাতের ভেতরে সঁূচ ঢুকিয়ে গুতাগুতি হয়তো নার্সের জন্য তেমন পীড়াদায়ক না কিন্তু আমার জন্য অতীব কষ্টের দৃশ্য, বললাম খুলে নিতে, নার্সের পরবর্তি প্রচেষ্টা গোড়ালি কেটে রক্ত নিবে, 2 বার গোড়ালি কাটলো, ছেলে আমার হাপুশ হুপূশ কাঁদলো, চিকিৎসা বলে হজম করলাম। এর পর আর পারি নি, হাসপাতালের বাইরে এসে বিড়ি ফুকলাম, যখন ফিরে গেলাম তখন এসব শেষ,
এখন হালকা জ্বর নিয়ে ছেলে ঘুমাচ্ছে, কালকে সকালে আবারও যেতে হবে হাসপাতালে, কপালে ভোগান্তি থাকলে আবারও সূচিকর্ম দেখতে হবে।

সে দুঃখের উপখ্যান বাদ দেই আপাতত।
হাসপাতাল থেকে ফিরে দেখলাম আমার অবর্তমানে কি কি ঘটলো ব্লগে।

দেখে ছোটোবেলার কথা মনে পড়লো।


আমি বড় হয়েছি এমন এক পরিবেশে যেখানে সবার অর্থনৈতিক অবস্থা মোটামুটি সমান ছিলো, সবাই হতদরিদ্্রের সামান্য উপরে, দিন আনে দিন খায়, বসতভিটা আছে টাইপ, যেখানে থাকতাম তার মাঝে ছিলো ডোবা, ডোবার দুই পাশে দুই পরিবারের মধ্যে রেষারেষি ছিলো ভয়ংকর।
কোনো এক দিন সকালে শুরু হতো ঝগড়া, ঝগড়ার ম্যারাথন যাকে বলে, এক পক্ষে 2 /3টা পরিবার অন্যপক্ষে 2/3টা পরিবার। মাঝে মাঝে এরা তাদের পরিজনদের নিয়ে আসতো ঝগড়া করার জন্য, গালির বন্যা বয়ে যেতো সেসব দুপুর বিকেলে, আমরা খেলা ভুলে দরজার সামনে দাড়িয়ে দেখতাম ঝগড়াকুশীলতা। সন্ধ্যা হলে দুই পাশে দুইটা ধামা উলটে রেখে যেতো তারা,
আপাতত রাতের জন্য ঝগড়া ধামাচাপা থাকলো,
পরদিন সকালে আবারও নতুন উদ্যমে শুরু হতো। এমন সুখের ঝগড়া দেখা হয় নি বহু দিন, কিন্তু পরিবার পরিজন নিয়ে ঝগড়া দেখলাম আজ এখানে।


অন্য একটা উদাহরন মনে পড়লো, রূপক, ডিসকভারি চ্যানেলে বা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে বন্যপ্রানিদের উপর প্রামান্য চিত্রে দেখিয়েছিলো হায়েনারা কি ভাবে দল বেধে একজনের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। তারা সব খানেই দল বেধে ঘুরে, মাঝে মাঝে এটোঁ কাঁটা খায়, যখন জুটে না তখন নিজেরা দল বেধে শিকারে বের হয়।
পশু জগতে কাপুরুষের নমুনা হলো হায়েনা। তারা একা লড়াই করতে সক্ষম না বিধায় একজনের উপর দল বেধে ঝাপিয়ে পড়ে।

কাউকে খাটো করার জন্য বলা না, কেউ যদি গায়ে মাখতে চায় মেখে নিবে, যার মাখার আগ্রহ তাকে দমানোর চেষ্টা না করাই ভালো।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুতাপ (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

একনাগাড়ে ৪-৫ বছর কাজ করার পর রহিমের মনে হলো, নাহ! এবার আরেকটা চাকরি দেখি। লোকাল একটা কোম্পানিতে কাজ করত সে। কিন্তু কোনকিছু করার জন্য শুধু ভাবনাই যথেষ্ট নয়। সে চাকরির... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×