পঁচা ডোবার পাশে রোজ যেখানে দুষ্টু ছেলেরা ডাংগুলি খেলে, সেখানে একটা ছোট্ট গল্প জন্মেছিলো। কেউ শুনতে পায়নি গল্পটার খিলখিল হাসি। ঠিক সূর্যের মতো ওর গায়ের রং। সুন্দর পাখা দুটো মেলে ও যখন নীল আকাশে উড়ে গেলো, দুষ্টু ছেলেরা ভাবলো বুঝি প্রজাপতি। যাওয়ার সময় গল্পটা ছেলেদের দুরন্ত হাসি ছুঁয়ে দিল। পৃথিবীর সব হাসি ও ছুঁয়ে দেখবে। সব আনন্দের মাঝে ও ডানা মেলে উড়বে। রঙিন ডানায় সব সুখের রং মাখবে। কী সুন্দর ছোট্ট গল্পটার মিষ্টি হাসি!
ছোট্ট গল্পটা উড়েই চলেছে সকালের রোদ ছুঁয়ে ছুঁয়ে। উড়ে উড়ে ফুলদের হাসি শেখাচ্ছে। ফুল মেয়েরা প্রজাপতি হয়ে গল্পের সাথে লুকোচুরি খেললো। হলুদ পাখিটা গান শোনালো। বলল, "চলো মেঘ ধরি।" গল্পটা মেঘ ধরতে গেলো। সাদা সাদা মেঘ। ও মা! মেঘের উপর একটা গোমড়ামুখো গল্প বসে আছে। ছলছল চোখে গল্পটা বলল, "ও ভাই সুখী গল্প, কান্না নেবে? কষ্ট নেবে?" ছোট্ট গল্প ভয় পেয়ে উড়ে গেলো বাতাসের পিঠে চড়ে। ও যে কান্নাকে ভয় পায়, কষ্টকে ভয় পায়। সেই সকাল থেকে হাসি কুড়িয়ে লাল ফ্রকটাতে ফুল এঁকেছে। শেষে কান্নায় ধুঁয়ে যাবে সব? না, এই গোমড়ামুখো গল্পের কাছ থেকে পালাতেই হবে।
এই ভর সন্ধ্যাবেলায় কে গান গাইছে? বুঝি সেই একলা পাখিটা! ছোট্ট গল্প একলা পাখিকে খুঁজতে গেলো। যেতে যেতে পথে দেখে, কী সুন্দর শিশির জমেছে জানালার চোখে! প্রায় নিভে যাওয়া সূর্যের আলোয় চিকচিক করছে শিশির। ছোট্ট গল্প সব ভূলে নাচতে নাচতে গেলো শিশির ধরতে। ও মা, এ তো কান্না! এখন কী হবে? গল্পের গায়ে কান্না মেখে গেছে। এত সাধ করে জমানো সুখ সব ধুঁয়ে গেলো!
জানালায় জানালায় সব চোখেরা ওৎ পেতে বসে আছে। গল্প পেলেই কান্না মাখিয়ে দেয়। ছোট্ট গল্প মনের দুঃখে উড়ে গেলো মেঘের উপরে। আকাশে আজ অনেক মেঘ। সব কান্না মাখা গল্পের সাথে মেঘের উপরে বসে ছোট্ট গল্পটাও আজ অনেক কাঁদবে। একলা পাখিটাও কাঁদবে গল্পটাকে খুঁজে না পেয়ে। হয়তো করুণ সুরে গাইবে,
একটা ছোট গল্প তুই যে আমার,
ভোরের হাসি গায়ে মেখেছিলি;
আজকে যখন শেষের পাতায় খুঁজি
চোখের কোনে কান্না হয়ে গেলি!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




