somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধাধসপুরে বারবেলা ( উপন্যাস )

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




অনেকদিন আগের কথা শুনলে আমরা পরিকথা অথবা ইতিকথা বুঝি, অথচ ভানুমতীর খেলা দেখলে আজো আমাদের বুদ্ধিভোঁতা হয়। দুর্ভাগ্যবশত ভূতপূর্ণিমায় পোড়াবাড়ির উঠানে একা দাঁড়ালে, ভূতের ভয়ে ভীষিত হয়ে মোচড়ে পড়ে মাথা ফাটে। রাত নিশায় কিম্ভূতকিমাকারের মুখোমুখি হলে কলিজায় ছ্যাঁত করে উঠে পেঠের ভিতর হাত সিঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। গপসপ করার জন্য বটতলে বসলে প্রায়ই কানাঘুষো শুনা যায়, খালিবাড়িতে ভূতের গুরু জিনের নবদোয় হয়েছে। ছেলেপুলেকে একলা পেলে মুণ্ডু দিয়ে নগরঘণ্ট বানিয়ে খায়। ভরদুরে খোঁপা খুলে ঠাঁট ঠমক ঠসক করে হাঁটলে, ডানাকাটা পরীর রূপে মজে রসিক হয়ে রসের গান গায়।
আষাঢ়ে গল্প হলেও সত্য, আমাদের গ্রামের এক পালোয়ান মল্লযুদ্ধে গিয়েছিল। নিশারাতে বাড়ি ফিরার পথে অবসন্ন হয়ে বাঁশ ঝাড়ের জড়ে জিরাতে বসলে উপরিভার গতরে পড়ে তার মাথায় ভর উঠেছিল। খবরটা জবরজং হলেও আমি জবর খুশি হয়েছিলাম। আহা সে কী মজা। ভরদুপুরে আধা নেংটা হয়ে খেমটা তালে নাচানাচি করে টপ্পা তালে গান গাই তো, ‘টপ টপ করে পানি পড়ে টপাটপ টপাস, টট্টর করে টেকো টপকায় ঠুকুস-ঠুকুস ঠাস।’
তার নাচগানের যন্ত্রণায় পরগণার লোকজন পরচার চিন্তা বাদ দিয়ে পরগাছার গুণাগুণ নিয়ে গবেষণা করতেন। লোকমুখে শুনেছিলাম এবং তত্ত্বানুসন্ধানে বিনিশ্চিত হয়েছিলাম, বিদুষী ভূতনীর ভরে বিভ্রাটে পড়ে সে বিভ্রান্ত হয় এবং বিভিন্ন বিষয়ে বিমর্ষ হয়ে বিমার্গে হেঁটে বিমর্দিত হয়েছিল। ওসব বৃথা কথিত কথায় আমি কান দিতাম না। কিন্তু মিয়োনারা যখন আমাকে মিনমিনে ডাকত তখন রাগে রগরগ করে রোমোদ্গম হত। মাথা ঠাণ্ডা করার জন্য জ্যৈষ্ঠ মাসে আমতলে বসে আমি পাকা জাম খেয়ে নুন লাগিয়ে চুকা বড়ুই চিবাতাম। মাঠের মতো উঠানে ঘুড়ি উড়াতাম। দৌড়াদৌড়ি করে ঘামে ভিজে তালপুকুরে ঝাঁপ দিয়ে গোসল করতাম। ছুটির দিন দাদীজানের বগলে বসে মিঠাই মণ্ডা আর তিলকুট কিনতাম। ছোটরা যখন খো খো করে কানামাছি, ইচকি মিচকি, এক্কা দোক্কা আর চু কিত কিত খেলত তখন সত্যিসত্যি সাংঘাতিক বিরক্ত হতাম। হাড্ডাহাড্ডি করতে চাইলে বহ্বারম্ভে বহুড়িরা কড়ি খেলা জিতার জন্য ছকের পাশে বহেড়া বাজি রেখে পাশায় দান ফেলত। ফলে গলাবাজি অথবা ডিগবাজি ভালো লাগত না। ভরদুপুরে দাঁও মারার জন্য নবযুবতীরা দোফাঁদ বিছিয়ে গুটি ছুড়ে কাটাকুটির সময় ‘হাক মাওলা’ বলে দাঁড়ালে ওরা দৌড়ে নানির বগলে লুকাত। তা দেখে আমি হেসে কুটিপাটি হয়ে বলতাম, ‘আমার উরে আয়, আমি তোদেরকে অঘটন পটীয়সী বানাব।’ ওরা মুখ ভেংচিয়ে বলত, ‘বুকের পাটা শক্ত হলে পোড়াবাড়ির উঠানে যা!’
আমরা সবাই জানি, ত্রিসন্ধ্যায় পোড়াবাড়ির আশেপাশে হাঁটাহাঁটি করলে সাহসের বারটা বাজে এবং যতই অসমসাহসী হোক না কেন, অমানিশায় আচকা মচ মচ শব্দ শুনলে বুকের ভিতর ছ্যাঁৎ করে উঠে গলা শুঁকিয়ে গায়ে কাঁটা দিয়ে রক্ত জমে। বুকে থু থু দিয়ে মাথা তুলে সাদা পাঞ্জাবিওয়ালা দেখলে তো সেরেছে, ‘ও মা গো!’ বলে শ্বাস রুদ্ধ করলে মাস তিনেক লাগে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে। আর হলেও দুরদুরানি বন্ধ হয় না। পেটের ভিতর হাত-পা সিঁধনো থাকে জীবনভর দাবিয়ে রাখার জন্য অনঙ্গ দাবিদাররা দাবিদাওয়া ছাড়ে না। নিরালায় একলা বসলে বুকে ধুকপুক করে। এক দণ্ডে তিন পলক মেরে, বাড়ির কাজ শেষ করে বিছানায় উঠে হাত পা গুটিয়ে নামাতে চাইলে ডরের চোটে কলিজা কাঁপে। কপাৎ করে ধরলে সর্বনাশ হবে। নানি দাদীর সাথে খুশগল্প করে রাতের খাবার খেয়ে আস্তেধীরে বিছানায় উঠে বাতি নিবালে, আলগোছে দরাজের ওপাশ থেকে কী যেন বেরিয়ে আসে? পালঙ্কের নিচে কিছু একটা গড়াগড়ি খায়। টুইয়ে টুইয়ে আচাভুয়ারা বারান্দায় হাঁটহাঁটি করে। কান পাতলে মনের কানে খট্ খট্ শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়। যত সব দুনিয়ার বার অরুচিকর ছায়াকৃতি মনের চোখের সামনে ভাসে। অনিন্দ্যকান্তি হওয়ার জন্য কাকুতি মিনতি করেও কান্তিবিদ্যা শিক্ষা দেওয়া যায় না। কিম্ভূতকিমাকাররা এত জবরজং। তাদের উপচ্ছায়া দেখলে ঢিসঢিস করে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। সোজা হয়ে বসে সিধা দেয়ালের দিকে তাকালে, চোখের কোণে কী যেন কিসের আবছায়া দেখা যায়। রেজাই দিয়ের মুখ ঢাকতে মন বারণ করে। হাত বার করলে যদি কিছু একটায় কামড় দেয়? পিঠের ব্যথায় কাতর হয়ে পাশমোড় দেওয়ার জন্য চেষ্টাকষ্ট করে ব্যর্থ হতে হয়। পাশ ফিরে ভয়দ কিছু দেখলে শুকনো গলা দিয়ে চিক্কুর বেরোবে না।

..... পাঠকের জন্য লিখেছি। পাঠিত হলে পরে আরো পোস্ট করব।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:২৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১২


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।

হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×