somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধাধসপুরে বারবেলা ( উপন্যাস ) দুই

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তারপর যা হয় ...

তা ছিল শৈশবলীলা। কৈশোরে এক সন্ধায় লালফুফুর বাড়ি থেকে ফিরছিলাম। মাঝপথে মেড়ামেড়ির পাল দেখে আমি তো ভড়কে ভেকু। বণিত আছে, ভরসন্ধ্যা অথবা নিশারাতে ভূতরা নাকি মেড়ামেড়ির ভেক ধরে আক্রমণ করে। ওরে বাপরে! সন্ধ্যা সাঁঝে মেড়ামেড়ির পাল দেখে আমার অন্তরাত্মা প্রায় অধরা হওয়ার উপক্রম। শমদমে আল্লাহ বিল্লাহ জপে মিঠাই মণ্ডা মানত করে নিস্তার পেয়েছিলাম।
তারুণ্যে বিশ্ববিদ্যালয় বাদ দিয়ে ব্যবসায় যোগ দিয়েছিলাম। দুইটা দোকান নিয়ে একটা রেস্তোরাঁ। দশ এগার জনে কাজ করতাম। রাত হলে ব্যবসা উঠত তুঙ্গে। কাঁটা চামচের ঝন ঝন। গেলাসের টন টন। হাসির হা হা শব্দ এবং উজ্জ্বলাদের হাবভাবে রোমবিকার হত। কিন্তু! নিশির ডাক শুনে টং করে ঘণ্টি বাজলে সাহসের বারটা বাজত। শহর জনমানবশূন্য হয়ে লোকজন কোথায় যে উধাও হত, চিন্তকের মত ধেয়াচিন্তা করেও জবাব মিলতো না। একদা কারণ বশত আমাকে একা রেখে সবাই চলে গিয়েছিল। আমিও বুক ফুলিয়ে বলেছিলাম, যাও যাও ভূতপ্রেত্নী আমি বিশ্বাস করি না। হায় রে, কী সর্বনাশইনা করেছিলাম। সবাই চলে গেলে পরিকথা স্মরণ হয়। মনের চোখে ডানাকাটা পরীর অশরীরী দেখতে পাই। ও একজনকে ভালোবাসত। বয়সকালে ওর মনের বনে বিয়ের ফুল ফুটে কিন্তু মালাবদলের জন্য বরণমালা গেঁথে বরের গলায় দিতে পারেনি। প্রেমীকের কাছে প্রতারিত হয়ে অকালবসন্তে পটোলতোলা যাওয়ার পথে বিরহিণীর আত্মা বিপদসঙ্কুল বাঁকে আঁটকেছিল, যা কেউ টের পায়নি। সেই থেকে সেই বাঁকে এক মায়াবীর আবির্ভাব হয়েছিল এবং ঠিক মধ্যরাতে একা হাঁটত। ওর জেল্লার তাপে ভীমরতিতেও নাকি দপ করে কামাগ্নি জ্বলে। ভূতপূর্ণিমায় কেউ ওকে উদলা হাঁটতে দেখেছে। কেউ বা ধেই ধেই ধিন ধিনাত, তাইরে নাইরে না তাতা থৈ থৈ করে ন্যাংটা নাচতে দেখে, হাঁ করে ঘাড়বাঁকিয়ে গাড়ি চালিয়ে খাঁদে পড়ে মরেছে। যাদের মনে কামেচ্ছা নেই ওরা ওর পরনে ন্যাতা ছেঁড়া কাপড়চোপড় দেখে। আমি অবশ্য ওর দেখা পাইনি এবং রসে ঠাসা দেহাংশ দেখার ইচ্ছাও আমার মনে নেই। কিন্তু আমার মগজে সুড়সুড়ি দিয়ে অগাচণ্ডি বলেছিল, ‘ওই ভেকু! হাবার মত কী দেখছিস?’
আমি চমকে উঠে বাতি জ্বালাবার জন্য হাত বাড়িয়ে কিছু অনুভব করতে না পেরে চোখ মেলে দেখি দুনিয়া অন্ধকার। সাঁ সাঁ শাঁই, কড় কড় ক্রিং, ঠুং ঠাং ডিং, ধক ধক ধাঁই ধুম ধুপ্পুস শুনে আমার তো মগজ বিকল। চিন্তা করতে পারছিলাম না, চিত্তবৈকল্য হয়েছিল। তবুও অগাচণ্ডি খামোখা আমাকে খুঁচাচ্ছিল। অমন অলোকসামান্য সময়ে কার মনে কামেচ্ছা জাগবে? অপ্রতীয়মান নগ্নাট গড়নপেটন দেখে থরহরিকম্পিত গাগতরে তাপন উঠলেও, তরাসে প্রথমরিপু তেরিমেরি করছিল না। গলা শুকিয়ে আমার কলিজা শুঁটকি হওয়ার উপক্রম। হাত পা অবশ হয়ে মগজকে বলেছিল, তুই খামকাজ কর আমরা একটু জিরিয়ে নেই। মন কাকুতি মিনতি করে বলছিল, শুঁটকিশুরুয়া দিয়ে কেউ আমাকে চারটা ভাত দাও রে, দোয়া করব। তখন কেউ দোয়া চায়নি এবং বাথরুম প্রায় দশ বিশ হাত দূরে ছিল। প্রয়োজন হলে হাঁটতে হবে। প্রথম তেমন চিন্তিত ছিলাম না কিন্তু আলো ভরতা দিয়ে ভাত খেতে না পেরে, পানি গিলে পেট ভরেছিলাম। জঠরজ্বালা নিবাবার জন্য বেআক্কেলের মত তিন গেলাস পানি গলাধঃকরণের ফলে আক্কেলসেলামিতে ঘাম দিতে হয়েছিল। জানলে নৈশ্যভোজন করতাম না। হঠাৎ তলপেটে নিম্নচাপ অনুভব হলে পেটনামবে ভেবে শিউরে উঠেছিলাম। কেমিস্ট ফার্মেসি ডাক্তারখানার পাশে কিন্তু ঔষধালয় অনেক দূর। গরলনাশক আনার জন্য বেরোলে মাঝপথে সূর্যোদয় হবে। বিধেয় দাওয়াইর দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে বদনায় পানি আছে না নেই জানার জন্য তন্ময় হলে শুনতে পেয়েছিলাম, মেনিবিড়ালের সবিনয় ম্যাও ম্যাও শুনে নিষ্ঠুর কুকুর ঘেউ ঘেউ করে ধমকাচ্ছে। রাতজাগা পাখির ডাকে মন বিমনা প্রায়। আমার আহল দেখে খিলখিল করে হেসে কুটিপাটি হয়েছিল দিগম্বরী। ভেটকি দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু গলা শুকিয়ে জিবেগজা হয়ে তিলকুটের মত কটকট করছিল। মন লাড্ডু খেতে চেয়ে না পেয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে বলেছিল, কেউ আমারে একটা কাঁচাগোল্লা দাও। মনের আকুতি কাকুতি শুনে পাষাণী মুখ ভেংচিয়ে বলেছিল, ‘আমার উরে আয়, আদর করে আনন্দনাড়ো খাওয়াব।’
ওর কথা শুনে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে এবং নির্জন নিরালা থেকে ভূতপ্রেত্নীর পদধ্বনি ভেসে আসলে মন সভয়ে বলেছিল, ‘সব নিয়ে গেলেও আমি এখন নিচে যাব না গো।’
মনের কথা শুনে আমি হতাশ হয়ে পেটে মৃদু ছাপ দিয়ে অনুভব করতে চেয়েছিলাম শৌচাগারে যেতে হবে কি না? পেট ইনিয়ে বিনিয়ে বলেছিল, ‘বদনা লাগবে না কিন্তু পানি কমাতে হবে। আমার জবর কষ্ট হচ্ছে।’
পেটের কথা শুনে হাত বুলিয়ে বলেছিলাম, ‘সক্কালে কমালে ভালো হবে রে।’
পেট গুড়ুম করে বলেছিল, ‘পক্কাধানে ঠাসাঠাসি। কারু সাথে হাতাহাতি করলে গরম জলে জাতকুল যাবে। ইজ্জত হারিয়ে আজ রাতে বেইজ্জত হব।’
মহা সমস্যা! নিশির ডাক শুনে আমাকে হায় হায় করতে দেখে অশরীরী বলেছিল, ‘রেচনে যাচ্ছিস না কেন?’
‘পথঘাট চিনি না, কোন পথে যাব?’
‘আস্তে ধীরে দাঁড়িয়ে সোজা হেঁটে দরজা খুলে ডাইনে মোড়ে বউড়ির মত কদম গুনে তাগাদা যা নইলে ভূতপূর্ণিমায় ইজ্জত হারাবি।’
‘ভয়ে হাত বিবশ। নির্ভিয়ে নির্ভীক হতে চাই। ’
‘অসমকালীন হলেও আমরা সমবয়সী। আমার সাথে ভাব জমালে আমি তোকে চোখে চোখে রাখব। ভাবুক হয়ে ভাব জমাবি?’
‘চাইলেও এখন আমি ভাবভোলা হতে পারব না। সদয় বল তারপর কী করব?’
‘একটা রসের চুটকি বলি?’
‘নামটা জানতে পারব?’
‘পৌষ্প।’
‘ওঃ-অ্যাঁও!’
‘এই! কী হয়েছে?’
‘এত সুন্দর নাম আমি ইতিপূর্বে শুনিনি।’
‘সত্যি বলছিস?’

....
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:২৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১২


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।

হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×