somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবসঃ গণশিক্ষা আন্দোলনের পথিকৃৎ মুক্তিযোদ্ধা মোকছেদ আলীর কন্যার বিবাহ হচ্ছেনা টাকার অভাবে

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব স্বাক্ষরতা দিবস। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গণসচেতনতা তৈরি করাই দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য। এবারের আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য 'টেকসই উন্নয়নের মুলকথা স্বাক্ষরতা আর দক্ষতা'। ১৯৬১ সালের ডিসেম্বর মাসে পৃথিবীর সব দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। পরে ১৯৬৫ সালের ৮-১৯ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর উদ্যোগে ইরানের তেহরানে বিশ্ব স্বাক্ষরতা সম্মেলন হয়। এতে ৮০ দেশের শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। ঐ সম্মেলনে প্রতিবছর ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালনের প্রস্তাব করা হয়। পরে ১৯৬৫ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৬৬ সালে ইউনেস্কো প্রথম দিবসটি উদযাপন করলেও ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস পালিত হচ্ছে।


আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসটি প্রতি বছর আসে-যায়। কিন্তু গণশিক্ষা আন্দোলনের পথিকৃৎ রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ঠাকুরগাঁওয়ের মোকছেদ আলীর পরিবারের খোঁজ রাখে না কেউ। স্বাধীনতা উত্তর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেন। ওই সময় গণশিক্ষা আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কচুবাড়ি কৃষ্টপুর গ্রামের কলেজ ছাত্র মোকছেদ আলী। তার অক্লান্ত পরিশ্রমে কিছু দিনের মধ্যেই গ্রামটি নিরক্ষর মুক্ত হয়। গ্রামে সাতশ নারী-পুরুষ সবাই সাক্ষর হয়ে ওঠেন। ঘটে যায় নীরব বিপ্লব। ১৯৭৪ সালের তৎকালীন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী সরেজমিনে তদন্ত করে কচুবাড়ির কৃষ্টপুর গ্রামকে দেশের প্রথম নিরক্ষরমুক্ত গ্রাম ঘোষণা করে মোকছেদ আলীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা রাষ্ট্রপতি পদক প্রদান করেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার সাফল্য দেখার জন্য ওই গ্রামে আসবার বাসনা ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের। কিন্তু ১৯৭৫ এর নির্মম নৃশংস ঘটনার তিনি শাহাদাত বরণ করলে আর সেখানে যাওয়া হয়নি তাঁর। বঙ্গবন্ধু তাকে ঢাকায় বাড়ি ও চাকরি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আপত্তি তুলে বলেছিলেন, এলাকায় থেকে মানুষের কাজ করে যেতে চান। পরে ওই গ্রামে আসেন তৎকালিন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ আনিসুর রহমানসহ দেশ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ। শিক্ষাক্ষেত্রে অসমান্য অবদানের জন্য জাতি তার কাছে কৃতজ্ঞা প্রকাশ করলেও পরিবর্তন হয়নি তার ভাগ্যের চাকা। প্রান্তিক চাষী মোকছেদ আলী ছিলেন নির্লোভ পরোপকারী সাদা মনের মানুষ। তিনি শুধু সমাজকর্মীই শুধু ছিলেন না ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধাও। অভাব অনটনে টাকার অভাবে প্রায় বিনা চিকিৎসায় ২০০৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মারা যান।


তার মৃত্যুৃর পর থেকে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছে তার পরিবার। টাকার অভাবে বিয়ে হচ্ছেনা তার বিবাহযোগ্যা কন্যা আম্বিয়া খাতুনের আর ছেলে চাকুরীর সংস্থান না করতে পেরে দিন মজুরের কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। অভাব অনটনে কোন ভাবে টিকে আছে গণশিক্ষা গণশিক্ষা আন্দোলনের পথিকৃৎ রাষ্ট্রপতি পদক প্রাপ্ত মোকছেদ আলীর পরিবার। মোকছেদ আলীর বৃদ্ধা স্ত্রী জাহেদা জীবন সায়াহ্নে আর কিছু চান না, তবে তার স্বামী মোকছেদ আলীর যথার্থ সম্মান দেখে মরতে চান তিনি। আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবসে মোকছেদ আলীর পরিবাটিকে যথার্থভাবে মূল্যায়নের অনুরোধ দেশবাসীর।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×