somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তরুণ-শক্তির সার্বজনীণ ঐক্যের প্রতিবাদী মানবন্ধনকে যে-কারনে প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রথমআলো গোষ্ঠী, দেখুন!..

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রাজাকার-আলবদর-আল শামস নামের বাহিনীগুলো দালাল বাহিনী ছিলো । এরা তখনকার সময়ের রাষ্ট্রশক্তি - পাকিস্তানী সামরিক জান্তাকে সহযোগীতা করেছে বাংলাদেশ নামের ভূমিখন্ডে বসবাসকারী ৭ কোটি বাঙালীর আবেগ আর স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের আকাংখার বিপরীতে দাড়িয়ে । পাক হানাদার বাহিনীর মেশিনগানের টার্গেটে যখন হাজারো বাঙালীর রক্তে বিশ্ববিদ্যালয় চত্তর আর রাজপথ - বাসাবাড়িগুলো লাশে লাশে ছেয়ে গিয়েছিলো, তখনকার দালালেরা সবকিছু দেখে শুনে বুঝেও হানাদারদের সহযোগীতা করেছে ।

৭১ এর দালালদের একটা মোক্ষম যুক্তি কি ছিলো, জানেন ?????

- ভারতের সাথে এক কাতারে দাড়িয়ে লড়াই করার ফতোয়া অস্বীকার করি
;)
- যে লড়াইয়ের বেনিফিশিয়ারী হবে ভারত, ওই লড়াইয়ে রাজাকার আলবদর বাহিনী অংশ নেবেনা , তাতে করে লাখ লাখ বাঙালী মরুক, কিছু যায় আসেনা ;)

প্রিয় ব্লগার, আপনার যদি মনে হয় উপরে দুটো লাইন সত্য বলেছি, তাহলে কি একটু চমকে উঠেন নি ? একটু কি পরিচিত মনে হচ্ছেনা যুক্তি দুটো ? মনে কি হচ্ছেনা, এই লাইনদুটো কোথাও যেন শুনেছি এই ব্লগেই ??

আমাদের শত্রু পাল্টেছে । আমাদের সার্বভৌমত্বের শত্রু কে রিপ্লেস করে ভারত এসে দাড়িয়েছে সেই জায়গাটাঁয় । আমাদের ৪০ বছরের স্বাধীনতাকে হুমকি দেবার দু:সাহস পোষণকারী রাষ্ট্রটি এখন ভারত । আমাদের ৪,২৪৬ কিলোমিটার সীমান্তকে প্রতিনিয়ত অস্থির করে দিচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রনাধীন খুনী বাহিনী বিএসএফ । আমাদের শতশত ফেলানীরা কাটাতারের বেড়ার আশেপাশে মৃত পাখির মত মুখ থুবড়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত । আমাদের মেরুদন্ডহীন তাবেদার সরকারগুলো ক্ষমতার চেয়ার আকড়ে ধরে উটপাখির মত মরুভূমিতে মুখ গুজে রয়েছে ।

কিন্তু, জেগে উঠেছিলো এই বাংলার তরুন-তরুনীরা তারুণ্যের অদম্য সাহস আর শক্তি নিয়ে ! বিএসএফ এর গুলিতে খুন হওয়া একজন ঝুলন্ত ফেলানী এক করে দিয়েছিলো তামাম তরুন গনশক্তিকে । প্রতিবাদে গর্জন করে উঠেছিলো নিজেদের মধ্যকার সব রাজনৈতিক আর আদর্শিক ভেদাভেদ ভুলে । অনলাইনের প্রতিটি কম্যুনিটি আর আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো যখন এই প্রতিবাদের গর্জন শুনছিলো, দুর্বল ঝাপসা দৃষ্টির বৃদ্ধরা যখন তরুনদের জেগে উঠতে দেখে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছিলো, ঠিক সেই সময়ে সংখ্যালঘু কিছু দালাল মোক্ষম একটা যুক্তি নিয়ে হাজির হয়েছিলো । সেই যুক্তিটা আমাদের পুরনো শত্রু ৪০ বছর আগের দালালদের দেয়া যুক্তির হুবহু অনুকরন! অবিশ্বাস্য!! দুয়েকটা শব্দ নতুন কোন শব্দ দিয়ে রিপ্লেস করে ৪০ বছর আগের দালালদের কণ্ঠই যেন ওরা শোনালো আমাদের ।

দালালরা কখনো চূড়ান্ত বিজয় পায়না । ওরাও জিততে পারেনি । আক্ষরিক অর্থেই ভার্চুয়াল গনপিটুনি খেয়েছে প্রত্যৈকটা চিহ্নিত.....! কিন্তু, ওরা সফল হয়েছে একটা জায়গায় । থমকে দিতে পেরেছে গনজাগরনকে! চুপষে দিতে পেরেছে আবেগ আর উৎসাহের আতিশয্যকে! বিএসএফ নামের খুনী বাহিনীটাকে আত্নর্জাতিক মিডিয়া থেকে কঠোর ধমক দেয়ার হাত থেকে ওরা রক্ষা করতে পেরেছে! যার আর্থিক পুরস্কার ও ওরা এতদিনে নিশ্চয়ই পেয়ে গেছে! (ছবি দ্রষ্টব্য)...

বাঙালী স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্যে বিরোধীদের চিনতে কখনো ভুল করেনি । এবারো করেনি । কিন্তু সমস্য একটাই ! বড়ই রহমদীল বাঙালী বারবার এদের ক্ষমা করে দেয়! ... আর এরাও পরবর্তী সুযোগের অপেক্ষায় থাকে মাথাচারা দিয়ে ওঠার!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫০
৩১টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×