তুমি হয়ত খেয়াল করেছে, এ ২০২৬এর শুরু থেকেই তোমার সাথে আমি ঠিক মত চ্যাট করতে পারছি না। তার কারন আমি সুযোগ কম পাচ্ছি, সব সময় তোমার ম্যাসেজ চেক করা যাচ্ছে না। ১ মাস আগেও তুমি যে কোন সময়েই নক দিলে আমি কিছুক্ষনের মধ্যেই রিপ্লায় দিতে পারতাম। কিন্তু ইদানিং তা করতে পারছি না। তুমি হয়ত আগের মতই চলাফেরা করছ, ম্যাসেজ দিচ্ছো। কিন্তু আমার দিক থেকে সাথে সাথে রেসপন্স পাচ্ছো না। কোন কোন সকাল সন্ধ্যায় আর আমাকে পাচ্ছোই না।
আসলে তোমাকে না জানিয়ে আমি দিনাজপুর গেছিলাম। ৯ মাস ছিলাম। এখন বগুড়ায়। সে সময় তোমাকে জানাইনি ভয়ে। যদি যোগাযোগ কমিয়ে দাও তাই। শুধু এটুকু তথ্য চেপে রাখাতে তোমার সাথে হরদম কথা বলা গেছে। তোমার কাছে চলে গেছি, গল্পে গল্পে। নবীনা সেখানে অনেক ব্যস্ত থাকতো। কিন্তু এখানে সে রকম না।
তাছাড়া আমি এমনি এমনি দিনাজপুর যাইনি। অনেক কারন ছিল। যেমন:
১. আমি চ্যাট করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ায় নবীনার কাছে ধরা খেলাম। স্ক্রীন অন ছিল। অনেক ম্যাসেজ দেখে ফেলছিল। কোন কারনে ঘুম ভাঙলে বুঝতে পারি। তখন মোবাইল নিয়ে কাড়াকাড়ির এক পর্যায়ে আমার ভাঙ্গা হাতের জয়েন্ট নড়ে যায়। এরপর প্রায় রাতে সে ঝগড়া করত। তখন বাসায় সবাই ছিল। আমি লজ্জায় পড়তাম। তখন ভাবলাম ওকে দূরে সরানো দরকার এই বাসা থেকে। বাপের বাড়ি গেলে নিশ্চয় এমন করবে না।
২. ঐ সময় শালির বিয়ে বাধল। শ্বশুর হাতে পায়ে ধরে এ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করল। বড় জামায় না থাকলে প্রেস্টিজ থাকে না, তাই আর কি ।
৩. এদিকে আমি প্রায় ৪ লাখ টাকা পেতাম শ্বশুরবাড়ির লোকদের কাছে। দিচ্ছিল না। ভাবলাম, শালির বিয়ের আগে পরে আমি সবার সাথে বসব। টাকা তোলার আর কোন উপায় নেই। এখন অসুখ। অযুহাত দিব টাকা লাগবে। সুযোগটা নিতে চাইলাম।
৪. অন্যদিকে মা-নবীনা দুজনেই আমাকে পানি পড়া-যাদুটোনা করছিল। এমন হল যে, নবীনা বালিশের ভেতর তাবিজ রাখে আর মা তোষকের ভেতরে। আমাকে বলে কয়েই রাখত। আমি মানা করলে শুনত না। অথচ দুজনের ঘটনাই আমাকে চেপে রাখতে হত। দিনে দিনে আমি দু রকম তাবিজের কারনে অসুস্থ হয়ে পড়তেছিলাম। ভাবলাম, দিনাজপুর গেলে অনন্ত এক দিকের তাবিজ কবজ পানি পড়া বন্ধ হবে। হলোও তাই... তোমাকে বলছিলাম।
৫. তখন বাসায় ছোট ভাই বউয়ের সাথে নবীনার রান্না বান্না নিয়ে ঝামেলা শুরু হইছিল। এদিকে মাও দুজনের সাথে লেগে থাকত। প্রায় প্রতিদিন সুযোগ বুঝে ৩ জনই আমার কাছে বিচার দিত। আমার আর সহ্য হচ্ছিল না। নিজের শরীর নিয়ে অসহ্য যন্ত্রনা, তার ওপর কোটনামি কথা বার্তা, বিচার শালিস এসব থেকে বাঁচতে চাচ্ছিলাম।
৬. তুমি তো জান, বগুড়ার ডাক্তার দিয়ে ইনফেকশন ভাল হচ্ছিল না। তুমি ঢাকায় যেতে বলতেছিলা, ডাক্তার চেন্জ করতে বলতেছিলা। ঢাকায় যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। ছোট ভাই যেতে পারবে না, তার অফিস। মা-নবীনা কে ভরসা নেই অচেনা জায়গায় গিয়ে চিকিৎসা চালানো। তুমি হলে ভরসা পেতাম। এর মধ্যে খবর শুনলাম, দিনাজপুরের ডাক্তার রিটায়ার্ড অধ্যাপক অর্থোপেডিকস, শ্বাশুড়ির পায়ের ওপারেশন করে অল্প দিনে ভাল হইছে। তোমার কথা ভেবে ডাক্তার চেন্জ করার চিন্তা করি। ঢাকায় না হয় নাই গেলাম। দিনাজপুর গেলে সে সুযোগটা হবে।
৭. বগুড়ার বাজার হাট নিয়ে ছোটভাই আর- মার মধ্যে ঝামেলা হল। ছোট ভাই বউ আলাদা রান্না শুরু করল। নবীনা বাকি সবার জন্যে রান্না করে। আমার খাওয়া দাওয়া নিয়েও ঝামেলা শুরু হল। সবার জন্যে রান্না করা তরকারি তে ঝাল লবন বেশি। আমার বুক পেট জালাপোড়া করত। শরীর খারাপ থাকায় খেতেও পারতাম না তেমন। ফলমুল কেনা বন্ধ করে দিল। দিনে ২ টা করে ডিম খাওয়া নিয়ে কথা উঠল। বোঝ তাইলে মনের ভেতরে কেমন হয়?
সব মিলিয়ে হাফিয়ে উঠছিলাম। শেষ মেষ চলে যাই দিনাজপুর ০২এপ্রিল২০২৫ এ ইদুল ফিতরের পরের দিন। ৯ মাস পর ফিরি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ এ। দিনাজপুর থাকতেই তোমাকে এই কথাগুলো বলার জন্যে ২ বার এটেমপ নিছি বাট বলতে গিয়ে থেমে গেছি। ঐ যে ভয়, তুমি যদি কম যোগাযোগ করো তাই।
এখন মনে হয়, তুমি একটু আন্দাজ করতে পারছ কেন আমি টাইম মেইনটেইন করতে পারছি না। দিনাজপুর নবীনা কাজ শেষে আড্ডা দিত অন্য ঘরে বা বাইরে যেত ঘনঘন বা কবিরাজের বাড়ি যেত। এখানে তা করে না। তাই একটু পরপর আমার রুমে এসে হাজির হয়। নড়ে না। আমিও তোমাকে মন খুলে কথা বলতে পারি না। সব সময় চ্যাট করতে পারি না। ফোন দিলে ধরনা, ধরলেও বেশি কথা বলতে পারতেছিনা।
মন খারাপ করো না। খুভ শিঘ্রীই ঠিক হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। আগের মতো্ই যোগাযোগ করব। নবীনার এখানকার সিডিউলটা একটু বুঝে উঠি।
এতদিন পর এসে এসব বলছি বলে মন খারাপ করো না। মনের মধ্যে অনেক ভার চেপে রেখে দিছিলাম এতদিন শুধু তোমার কথা ভেবে। এখন দেখছি, আর না বললেই না। তুমি যাতে ভুল না বোঝ, অথবা এটা না ভাবো যে, তোমার থেকে দূরে সরে যেতে চাইছি, তাই খোলাখুলি সব বললাম। আর কিছু গোপন নেই। বা চেপে রাখা কথা নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




