somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১০ মাস পর মায়াবীকে সত্য কথা খুলে বলা

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তুমি হয়ত খেয়াল করেছে, এ ২০২৬এর শুরু থেকেই তোমার সাথে আমি ঠিক মত চ্যাট করতে পারছি না। তার কারন আমি সুযোগ কম পাচ্ছি, সব সময় তোমার ম্যাসেজ চেক করা যাচ্ছে না। ১ মাস আগেও তুমি যে কোন সময়েই নক দিলে আমি কিছুক্ষনের মধ্যেই রিপ্লায় দিতে পারতাম। কিন্তু ইদানিং তা করতে পারছি না। তুমি হয়ত আগের মতই চলাফেরা করছ, ম্যাসেজ দিচ্ছো। কিন্তু আমার দিক থেকে সাথে সাথে রেসপন্স পাচ্ছো না। কোন কোন সকাল সন্ধ্যায় আর আমাকে পাচ্ছোই না।

আসলে তোমাকে না জানিয়ে আমি দিনাজপুর গেছিলাম। ৯ মাস ছিলাম। এখন বগুড়ায়। সে সময় তোমাকে জানাইনি ভয়ে। যদি যোগাযোগ কমিয়ে দাও তাই। শুধু এটুকু তথ্য চেপে রাখাতে তোমার সাথে হরদম কথা বলা গেছে। তোমার কাছে চলে গেছি, গল্পে গল্পে। নবীনা সেখানে অনেক ব্যস্ত থাকতো। কিন্তু এখানে সে রকম না।

তাছাড়া আমি এমনি এমনি দিনাজপুর যাইনি। অনেক কারন ছিল। যেমন:
১. আমি চ্যাট করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ায় নবীনার কাছে ধরা খেলাম। স্ক্রীন অন ছিল। অনেক ম্যাসেজ দেখে ফেলছিল। কোন কারনে ঘুম ভাঙলে বুঝতে পারি। তখন মোবাইল নিয়ে কাড়াকাড়ির এক পর্যায়ে আমার ভাঙ্গা হাতের জয়েন্ট নড়ে যায়। এরপর প্রায় রাতে সে ঝগড়া করত। তখন বাসায় সবাই ছিল। আমি লজ্জায় পড়তাম। তখন ভাবলাম ওকে দূরে সরানো দরকার এই বাসা থেকে। বাপের বাড়ি গেলে নিশ্চয় এমন করবে না।

২. ঐ সময় শালির বিয়ে বাধল। শ্বশুর হাতে পায়ে ধরে এ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করল। বড় জামায় না থাকলে প্রেস্টিজ থাকে না, তাই আর কি ।

৩. এদিকে আমি প্রায় ৪ লাখ টাকা পেতাম শ্বশুরবাড়ির লোকদের কাছে। দিচ্ছিল না। ভাবলাম, শালির বিয়ের আগে পরে আমি সবার সাথে বসব। টাকা তোলার আর কোন উপায় নেই। এখন অসুখ। অযুহাত দিব টাকা লাগবে। সুযোগটা নিতে চাইলাম।

৪. অন্যদিকে মা-নবীনা দুজনেই আমাকে পানি পড়া-যাদুটোনা করছিল। এমন হল যে, নবীনা বালিশের ভেতর তাবিজ রাখে আর মা তোষকের ভেতরে। আমাকে বলে কয়েই রাখত। আমি মানা করলে শুনত না। অথচ দুজনের ঘটনাই আমাকে চেপে রাখতে হত। দিনে দিনে আমি দু রকম তাবিজের কারনে অসুস্থ হয়ে পড়তেছিলাম। ভাবলাম, দিনাজপুর গেলে অনন্ত এক দিকের তাবিজ কবজ পানি পড়া বন্ধ হবে। হলোও তাই... তোমাকে বলছিলাম।

৫. তখন বাসায় ছোট ভাই বউয়ের সাথে নবীনার রান্না বান্না নিয়ে ঝামেলা শুরু হইছিল। এদিকে মাও দুজনের সাথে লেগে থাকত। প্রায় প্রতিদিন সুযোগ বুঝে ৩ জনই আমার কাছে বিচার দিত। আমার আর সহ্য হচ্ছিল না। নিজের শরীর নিয়ে অসহ্য যন্ত্রনা, তার ওপর কোটনামি কথা বার্তা, বিচার শালিস এসব থেকে বাঁচতে চাচ্ছিলাম।


৬. তুমি তো জান, বগুড়ার ডাক্তার দিয়ে ইনফেকশন ভাল হচ্ছিল না। তুমি ঢাকায় যেতে বলতেছিলা, ডাক্তার চেন্জ করতে বলতেছিলা। ঢাকায় যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। ছোট ভাই যেতে পারবে না, তার অফিস। মা-নবীনা কে ভরসা নেই অচেনা জায়গায় গিয়ে চিকিৎসা চালানো। তুমি হলে ভরসা পেতাম। এর মধ্যে খবর শুনলাম, দিনাজপুরের ডাক্তার রিটায়ার্ড অধ্যাপক অর্থোপেডিকস, শ্বাশুড়ির পায়ের ওপারেশন করে অল্প দিনে ভাল হইছে। তোমার কথা ভেবে ডাক্তার চেন্জ করার চিন্তা করি। ঢাকায় না হয় নাই গেলাম। দিনাজপুর গেলে সে সুযোগটা হবে।

৭. বগুড়ার বাজার হাট নিয়ে ছোটভাই আর- মার মধ্যে ঝামেলা হল। ছোট ভাই বউ আলাদা রান্না শুরু করল। নবীনা বাকি সবার জন্যে রান্না করে। আমার খাওয়া দাওয়া নিয়েও ঝামেলা শুরু হল। সবার জন্যে রান্না করা তরকারি তে ঝাল লবন বেশি। আমার বুক পেট জালাপোড়া করত। শরীর খারাপ থাকায় খেতেও পারতাম না তেমন। ফলমুল কেনা বন্ধ করে দিল। দিনে ২ টা করে ডিম খাওয়া নিয়ে কথা উঠল। বোঝ তাইলে মনের ভেতরে কেমন হয়?

সব মিলিয়ে হাফিয়ে উঠছিলাম। শেষ মেষ চলে যাই দিনাজপুর ০২এপ্রিল২০২৫ এ ইদুল ফিতরের পরের দিন। ৯ মাস পর ফিরি ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ এ। দিনাজপুর থাকতেই তোমাকে এই কথাগুলো বলার জন্যে ২ বার এটেমপ নিছি বাট বলতে গিয়ে থেমে গেছি। ঐ যে ভয়, তুমি যদি কম যোগাযোগ করো তাই।

এখন মনে হয়, তুমি একটু আন্দাজ করতে পারছ কেন আমি টাইম মেইনটেইন করতে পারছি না। দিনাজপুর নবীনা কাজ শেষে আড্ডা দিত অন্য ঘরে বা বাইরে যেত ঘনঘন বা কবিরাজের বাড়ি যেত। এখানে তা করে না। তাই একটু পরপর আমার রুমে এসে হাজির হয়। নড়ে না। আমিও তোমাকে মন খুলে কথা বলতে পারি না। সব সময় চ্যাট করতে পারি না। ফোন দিলে ধরনা, ধরলেও বেশি কথা বলতে পারতেছিনা।

মন খারাপ করো না। খুভ শিঘ্রীই ঠিক হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। আগের মতো্ই যোগাযোগ করব। নবীনার এখানকার সিডিউলটা একটু বুঝে উঠি।

এতদিন পর এসে এসব বলছি বলে মন খারাপ করো না। মনের মধ্যে অনেক ভার চেপে রেখে দিছিলাম এতদিন শুধু তোমার কথা ভেবে। এখন দেখছি, আর না বললেই না। তুমি যাতে ভুল না বোঝ, অথবা এটা না ভাবো যে, তোমার থেকে দূরে সরে যেতে চাইছি, তাই খোলাখুলি সব বললাম। আর কিছু গোপন নেই। বা চেপে রাখা কথা নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ছবি, অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

পানি এই একটি শব্দে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য, জীবনের ধারা এবং মহান আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোরগের ডাক , বিজ্ঞানের পাঠ এবং গাধার প্রতি আমাদের অবিচার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৫


গ্রামে বেড়ে ওঠা মানেই একটা অসাধারন শৈশব। আমাদের সেই শৈশবের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মক্তবের মৌলভি সাহেবদের গল্প। তারা বলতেন, ভোররাতে মোরগ ডাকে কারণ সে ফেরেশতা দেখতে পায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×