এই গানটির শিল্পী সামিনা চৌধুরী। আল মনসুর বেলাল গীতিকার আর প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী আমিনুর রহমান নিঝু সুরকার।
শিল্পী সামিনা চৌধুরী বলেন - তখন ’৮২ সাল। বেলাল ভাইয়ের সঙ্গে খুব ঝগড়া। কথা বলি না। একদিন আমার বাসায় তিনি বললেন, ‘নুমা (ফাহমিদা নবী), সুমারে কও এই গানটা একটু তুলে নিতে।’ ওনার সঙ্গে নিঝু ভাইও এসেছেন। আমি তখন নিঝু ভাইকে বললাম, নিঝু ভাই, আমি কিন্তু কোনো গান গাইব না, আপনি বলে দেন।নিঝু ভাই তখন বললেন, ‘বোন না লক্ষ্মী, গানটা শুধু তুলো। কিচ্ছু করতে হবে না।’ গানটা তুললাম। বললাম, ঠিক আছে আমি রেকর্ডিং করে দিচ্ছি কিন্তু কোন শুটিং করব না।
পরে বিটিভিতে গিয়ে রেকর্ডিংও করলাম।
তার দু-তিনদিন পর নিঝু ভাই বাসায় এলেন। ‘শোন সুমা, আজকে শুটিংয়ে একটু খালি যাবি।’ আমি বললাম, খবরদার, আমি কিন্তু আগেই বলে দিয়েছি, বেলাল ভাইয়ের গান আর কক্ষনো না। এই করতে করতে এক ঘণ্টা। অনেক পটানোর পর নুমার একটা শাড়ি কোনোমতে পেঁচিয়ে আমি বিটিভিতে চলে গেলাম। আমি চুলটা খোঁপা করে বসলাম।
বেলাল ভাইয়ের গান গাব ভেবে আমার কী যে রাগ হচ্ছিল তখন। বেলাল ভাই নিঝু ভাইকে বললেন, ‘ওকে বসতে বলো।’ হাতে একটা বড় ধরনের কুরুস কাঁটা আর সুতা ধরিয়ে দেওয়া হলো। উনি বললেন, ‘ওকে ওই কাঁটাটা হাতে নিতে বলো? আর নিঝু ওরে চুল খুলতে ক।’ নিঝু ভাই আমি কিন্তু চুল খুলব না। আমি যদি চুল খুলি তাহলে এখনি উঠে চলে যাব। এ রকম আলাপ চলতে চলতে হঠাৎ করেই আমার চুলটা খুলে দিলেন বেলাল ভাই। আমার সঙ্গে কথা বলতে পর্যন্ত মানুষ ভয় পায় আর উনি আমার চুল খুলে দিচ্ছেন। এত্ত সাহস! আবার আমি কথাও বলি না! রাগে চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। আর বেলাল ভাই চুল খুলে দিয়েই ‘শুটিং শুটিং ক্যামেরা অন’ বলে কাজে লেগে গেলেন। আমি তো আর মুখ তুলব না। ক্যামেরার দিকে তাকাব না। এই একটা মোক্ষম অস্ত্র। আর পুরো শুটিংটাই আমি মুখ না তুলে, নিচের দিকে অপলক চেয়ে ‘ফুল ফোটে ফুল ঝরে, ভালোবাসা ঝরে পড়ে না’ গাইতে লাগলাম। এই অনুষ্ঠানের পরে তো দেখি সবদিকে এই গানের সুনাম।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


