somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ছোট কাগজ কথিকা
আমি পেশায় একজন শিক্ষক, প্রশিক্ষক, সংবাদকর্মী, সমাজসেবক এবং প্রযুক্তিবিদ। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, এবং সমাজের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়ে আমি বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখে থাকি।

শিক্ষকদের জীবন ও মৃত্যু

০১ লা অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৪:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোঃ ওমর ফারুক স্যার

মোঃ ওমর ফারুক স্যার ছিলেন নোয়াপাড়া ইসলামিয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসার একজন আদর্শ আরবী প্রভাষক। তাঁর শিখানোর ধরন এবং আচরণ ছিল মাশাআল্লাহ অতুলনীয়। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও সহমর্মিতা তাকে সবার প্রিয় শিক্ষক হিসেবে গড়ে তুলেছিল। ক্লাসে তিনি ছিলেন দারুণ শৃঙ্খলাপরায়ণ, কিন্তু তাঁর ব্যবহারের কোমলতা সকলের মন জয় করে নিয়েছিল।

ফারুক স্যার শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অনুপ্রেরণাদাতা, যার কষ্ট এবং সংগ্রামের কাহিনী শিক্ষার্থীদের জীবনে আলোকবর্তিকা হয়ে দাঁড়াতো। একটা সময় তিনি কঠিন এক রোগে আক্রান্ত হন, যার কারণে তাকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে হয়। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে তিনি কখনো নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করতেন না, বরং সবসময় সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলতেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি ঈমানের পথে অবিচল ছিলেন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে, শেষ মুহূর্তে তাঁর চোখে সকলের জন্য দোয়া ছিল।

মোসাঃ ইয়াসমিন বেগম

মোসাঃ ইয়াসমিন বেগম ছিলেন নোয়াপাড়া ইসলামিয়া মহিলা আলিম মাদ্রাসার একজন সহকারী শিক্ষিকা। তাঁর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা এবং সবার প্রতি ভালোবাসা ছিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মনে গভীরভাবে প্রোথিত। তাঁর কথা বলার ধরণে ছিল মায়া, যা সবাইকে আপন করে নিত। শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর মাতৃসুলভ আচরণে সবাই নিজেকে সুরক্ষিত ও আদরে ভরা অনুভব করতো।

যখন তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেন, তখনও তিনি ধৈর্যের সাথে কষ্ট সহ্য করেন। তাঁর শরীর দুর্বল হয়ে আসলেও, মনের শক্তি ছিল অটুট। শিক্ষকতার কাজ থেকে বিরত থাকলেও, শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর দোয়া এবং শুভকামনা ছিল অনবরত। একসময় চিকিৎসার প্রয়াস ব্যর্থ হয় এবং তিনি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে থাকা সেই নিষ্ঠা এবং দয়া আজও সবার মনে রয়েছে।

উপমা ঊষা নওশীন

উপমা ঊষা নওশীন ছিলেন ৮১নং নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা। তিনি ছিলেন একজন সদা হাসিখুশি এবং প্রাণবন্ত মানুষ। তাঁর ছাত্রছাত্রীদের প্রতি ভালোবাসা ছিল সীমাহীন, এবং তাঁর প্রাণশক্তি সবসময় বিদ্যালয়ের পরিবেশকে আনন্দময় করে তুলত। তাঁকে সবাই ভালোবাসতেন, কারণ তিনি ছিলেন সবার সুখ-দুঃখের সাথী।

দুর্ভাগ্যক্রমে, নওশীন ম্যাডাম একটি কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। রোগের কারণে তাঁর শরীর দুর্বল হয়ে পড়লেও, তিনি মানসিকভাবে সবসময় দৃঢ় ছিলেন। হাসপাতালের বেডেও তিনি নিজের অবস্থার প্রতি নির্লিপ্ত থেকে, সবসময় শিক্ষার্থীদের ভালো থাকার কথা চিন্তা করতেন। তাঁর মৃত্যু শিক্ষার্থী, সহকর্মী, ও বন্ধু-বান্ধবদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায়।

উপরের উল্লেখিত তিনজন ব্যক্তির সাথে কাজ করার সৌভাগ্য আমার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। তাদের আচার-ব্যবহার, পরিশ্রম ও নৈতিকতা সবসময়ই আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাদের সাথে কাটানো সময়গুলো অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে। মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন উনাদের সকলকে জান্নাতের উচ্চতম স্থানে সমাসীন করেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই প্রার্থনা কবুল করুন। আমিন।


#আজহার উদ্দিন
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৪:৫৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×