পিয়াস ও বাবু বাকশক্তি হারিয়েছে। অন্তরের অন্দিলে যদি না পাও স্বর্গরূপ দেখিতে, ক্ষীণ সে আশা কভু তুমি প্রবেশিবে সে বেদীতে। কার যেন কবিতা! কিছুই মনে পরে না। ভাবছে এ কোথায় এলুম! মার্জি বলে দ্যাখ - বেশী চিন্তা করিস না। চিন্তার ঔষধ হচ্ছে স্যাক্রিফাইস। বেশী তিরিং বিরিং করবি না। ইশ্বর আর শয়তান সবই এক মহাআত্মা। পিন্টু হিংটিংছট - নেশাগ্রস্থ বকে আমাদের এতদিনের সাধনা এবার আলোর মুখ দেখবে!
কার্তিক বিষয়টা ক্লিয়ার করে। আমাদের সোজা সাপ্টা লক্ষ্য হচ্ছে একটা শিশু ভূমিষ্ট করা। তার জন্য মার্জি আছে। কিন্তু কথা হচ্ছে কে তাকে ইমপ্রেগনেন্ট করবে! এটাই হচ্ছে রহস্য। আমাদের এমন একজন ছেলেসন্তান জন্মাতে হবে যার জনকের নাম ইভেন তার মাও বলতে পারবে না! বাবু চমকে ওঠে। মানে? কার্তিক বলে খুব সহজ। আমরা সবাই মার্জির সাথে শোবো!
নতুন জয়েন করা মেম্বাররা তরাক করে লাফ দিয়ে ওঠে। এমন বিকৃত অনাচার তারা কল্পনাও করতে পারেনি। কার্তিক কাঁধ ধরে বসিয়ে দেয়। আমাদের অনেক দিনের ডেডিকেশন আর এফোর্ড রয়েছে এটা সংগঠিত করার পেছনে। তোমরা এটাকে অবাধ যৌনাচার ভেব না। মার্জির সাথে তোমরা একবারই মিলিত হওয়ার সুযোগ পাবে। পাঁচ জনের সাথে এই ইমপ্রেগমেন্ট ফাইটের পর - সে সারাজীবনের জন্য জৈবিক ইচ্ছেকে বিসর্জন দেবে। আমাদেরকেও তাই করতে হবে। অন্তর থেকে বিলুপ্ত করতে হবে চিরজীবনের মত সকল জৈবিকতা।
পিয়াস এবার একটু হালে পানি পায়। বলে ছেলেই যে হবে তার নিশ্চয়তা কোথায়? তার কাছে পুরো গ্রুপটাকে সাইকো মনে হয়। কিন্তু ফেঁেস গেছে পুরোদস্তুর। পিন্টু, রনি যেন কার্তিকের ছায়াসংগী, সারাদিন বলে বেড়ায় আমার কোন গতি নাই তবে তোমার গতিতে মুগ্ধ সারাবেলা! প্রকৃতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জোর দিয়ে বলে - একটা ছেলেই হবে - শয়তানকে পুরুষ হতে হয়!
এর একবছর পরের ঘটনা। মার্জি সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মরে গেছে। কার্তিকের মার্জির সাথেই খাঁটি একটা প্রেম হয়েছিল। আর সবচেয়ে মজার হচ্ছে ওদের হয়েছিল একটা মেয়ে। পিন্টুকে একদিন এক পরিচালক বেইলী রোডের সামনে দিয়ে ঠিকই ধরে নিয়ে গেছে। এখন সে টিভির নায়ক, মডেল। রনি, পিয়াস ও বাবু তিনজই অবশেষে সুবেশী ভদ্রলোক, বিয়েসাদী করে ঘোরতর সংসারী। একমাত্র কার্তিক ব্যতিক্রম - আজও বেইলী রোডে দেখা যাবে তাকে সন্ধ্যার পরে। মার্জির মেয়ে স্যান্ডেলিনাকে নিয়ে সে মানুষ হবার স্বপ্ন দেখে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




