আমার নিউ মার্কেটে যাবার প্রয়োজনটা অদ্ভুত। মুম্বাই এয়লিয়াস বোম্বাই মরিচ কিনতে হবে। তবে আরো একটা অদুত ব্যাপার হচ্ছে ঘ্রান দেখে যে মরিচটা কিনবো সেটা দেখা যাবে একদম ওয়াটারসেন্ট। কম্পিউটার আর মাথার পেছনের ক্যালেন্ডার দেখে নিশ্চিত হলাম আজকে মঙ্গলবার। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে নিউ মার্কেট কি বার বন্ধ থাকে মনে করতে পারছি না। নিউমার্কেটের পাশে বাড়ী এমন এক কলিগকে জিজ্ঞেস করলাম, সে বলে শেষ গিয়েছিলাম 1979 এ। পাশের নারী কলিগকে জিজ্ঞেস করলে সে বললো, আমি শনিবার যাই, ঐদিন যে খোলা থাকে কেবল সেটা জানি। অগত্যা নিউ মার্কেট খোলা থাকার প্রত্যাশা করে রওনা দিলাম। সারাদিন প্রধানমন্ত্রীর ঘেরাও কর্মসূচীতে ক্লান্ত নাগরিকদের ঢিমেতালে ঘরে ফেরাতে জ্যাম আরো সুতীব্র। সমস্যা হচ্ছে মনে করতে পারছি না নিউ মার্কেটএর ঐ গেটটাকে থাড গেট না সেকেন্ড গেট বলে যেটার সামনে অল সিজেন বোম্বাই মরিচ পাওয়া যায়! সিএনজিড্রাইভার বলছে কোন গেট, আমি বলি থাড গেট। সে বলে ক্যান্টনমেন্ট! তাই তো ক্যান্টনমেন্টেও একটা থাড গেট আছে। আমি বলি, নারে ভ্রাত, নিউমার্কেটের!
এলিফেন্ট রোড পার হলে সে বলে, নিউ মার্কেট তো আজ বন্ধ! যা আশংকা ছিল তাই সত্য হলো। কি আর করা! বলি চলো ভ্রাতা, আজিমপুরের গেটে, দেখি ফলের দোকান আছে কিনা! হ্যা, পাওয়া গেল, বোম্বাই মরিচও দেখছি আছে। 10 টাকা হালি। নাকের কাছে নিয়ে দেখলাম ঘ্রান নেই। দোকানী বলল, না ভাঙলে ঘ্রান পাওয়া যাবে না। আমি বলি, যে মরিচের ঘ্রান আছে তা না ভাঙলেও বোঝা যায়। দোকানী উম্মা প্রকাশ করেন, এমন মরিচ জীবনেও সে নাকি বেঁচে নাই। যাই হোক ব্যাটার কথা মত ভাঙলাম এবং গন্ধে পেটের ক্ষুধা আরো বেড়ে গেল।
ফিরতি পথ। লাঞ্চের জন্য যে ব্যাগটা সারাদিন সহধর্মিনীর মত লেপটে থাকে তার ভেতরে বোম্বাই মরিচ চালান করে দিয়ে আমি বউয়ের সাথে কথা বলি। বুঝেছো, শেষমেষ পেলাম বোম্বাই মরিচ, তবে ঘ্রান মনে হচ্ছে খাঁটি বোম্বাইয়া হবে না। সে বলে, হয়েছে, তোমার জন্য খাবার নিয়ে বসে আছি, পেট চোচো করছে। আচ্ছা আজকে তো নিউ মার্কেট বন্ধ, তুমি বোম্বাই মরিচ কিনলে কিভাবে! আমি বলি যাদু, আমার জন্য দোকান খোলা থাকে!
আগের দিনের মত বাসার সামনে বসে থাকতে হয় না। ফ্রেস হয়ে বাকের ভাইকে পুলিশের পিটুনি দেখতে দেখতে খেতে বসি। বউ বলে, কই তোমার মরিচ! আমি লাঞ্চের ব্যাগটা খুঁেজ দেখি, সেখানে মরিচের পোটলাটা নেই। মুখের জিওগ্রাফী চেঞ্জ হয়ে যায়, সেসাথে বউয়েরও। বলে কোথায় ছিলে রাত 9টা পর্যন্ত, সেটা বলো আগে!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


