বসে আছি নির্ঘাত একটা বিষন্ন সময়ে। কি করা যায় ভেবে হয়রান হয়ে ফোন করলাম রাইসুদাকে। চলেন শর্মা খাই! কখনের জবাবে সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টা বলে রওণা হলাম। ঠিক যখন সোনারগাঁয়ের মোড়ে ট্যাক্সি দাড়িয়ে তখন রাইসুদার ফোন, কোথায়? কাকতালীয় ভাবে তিনিও তখন সেখানে। ট্যাক্সি ছেড়ে হেঁটে হেঁটে দুজন গেলাম হাতীরপুলের শর্মাহাউসে। সমস্যাটা সেখানেই শুরু। বার্ডফ্লু'র ভয়ে চিকেন শর্মা খেতে রাইসুদা অপরাগতা ঘোষণা করায় বিফ শর্মা অর্ডার দেয়ার পরেই মনে হলো, শর্মা বাদ দিয়ে পিৎজা খাওয়া যায়। ছেলেটিকে ডেকে আনা হলো। এবার পিৎজা বাছাই, দাদার বক্তব্য শর্মা হাউসের পিৎজা ভাল, আমি আগে খাইনি বলে টেস্ট করতে উন্মুখ। কিন্তু হরেক রকম পিৎজার মধ্যে মেক্সিকান, হট, স্পাইসি থেকে বাছাবাছি শেষে পাশের টেবিলের পিৎজাখোরদেরটা দেখিয়ে দিলাম, সেটাই নিয়ে আসার জন্য।
তারপরে এটাসেটা গল্প আর পিৎজার জন্য অপেক্ষা। কিন্তু এলো শর্মা! আমরা অবাক। বলি, ভাইজান, পিৎজার অর্ডার দিয়েছি তো! ছেলেটি বলে, আগে তো শর্মার অর্ডার দিয়েছেন! ভুল আসলে ওর না, আমাদেরই। আগের শর্মার অর্ডার ক্যানসেল করা হয়নি। তো আগে যখন এসেছে শর্মাই খাই। তারপরে পিৎজার সাইজ দেখে মনে হলো, দুইজনের পেটে আর এটা সাটবে না। রাইসুদা রাসেলকে ফোন করলো। রাসেল কিছুক্ষণ পরে এসে হাত লাগিয়েও সে পিৎজা আর শেষ হয় না।
শর্মা হাউস থেকে বেরিয়ে চাপানের তোরজোর। পথিমথ্যে রাইসুদার বন্ধুর কল্যাণে তার বাসায় চা খাওয়া হলো। চা খেয়ে টা হিসেব ভোদকা এল। ৪/৫পেগ ভোদকা খেয়ে রাস্তায় নেমে একটা প্রশ্ন মাথায় এলো, ডিকনস্ট্রাকশন! আমার মনে হতো, রাইসু ডিকনস্ট্রাকটেড। আর আমি রিকনস্ট্রাকটেড। নিজের জটিল অনুভূতি বোঝার জন্য রাইসু পার্ফেক্ট। প্রশ্ন করি বলেন তো, কেউ যদি আপনাকে ফোন করতে নিষেধ করে এবং আবার সে ফোন করলে সে ফোন ধরতেও নিষেধ করে সেটাকে কি বলা যায়!
টাইমলেস হুইসপার! আমার মনে হতে থাকে বাতাসের গান, বনবাতাসীতে মাতওয়ারা। রাইসুদা যা বললেন তাতে আমি রিক্ত হতে থাকি অতি শব্দটাকে বঞ্চিত করে। সংস্কৃতিগত পার্থক্যের অনুধাবনে আমার সেন্টারের কাছে ফিরে আসাকে অপরিবর্তনীয় মেনে নেয় অন্যজন - কিন্তু বনবাতাসীর কাছে আমি পার্থক্যহীন, একীভূত - তার জন্য নিজেকে নিজের খেয়ালে ছেড়ে দেয়ার পরামর্শ রাইসুদার। আমি আমার অরিজানিলিটিতে ফিরে চললাম।
খেয়াল হয়, শর্মা ও পিৎজা দুটোই খেয়েছি। শর্মাকে বাদ দিতে মন চায়নি যে! কিন্তু প্রথমে শর্মা পরের পিৎজার মজাকে রহিত করে দেয়। মুখে টেস্ট মেখে অতপর আমি রাইসুর বাসার সামনে থেকে বনবাতাসীকে তুলে নেই। আজকে সকালে ফোন, বুকের উপরে নাকি ঠোট কাটা শর্মার কামড় লেগে আছে এখনও!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


