somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বনবাতাসী -১

২৯ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বসে আছি নির্ঘাত একটা বিষন্ন সময়ে। কি করা যায় ভেবে হয়রান হয়ে ফোন করলাম রাইসুদাকে। চলেন শর্মা খাই! কখনের জবাবে সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টা বলে রওণা হলাম। ঠিক যখন সোনারগাঁয়ের মোড়ে ট্যাক্সি দাড়িয়ে তখন রাইসুদার ফোন, কোথায়? কাকতালীয় ভাবে তিনিও তখন সেখানে। ট্যাক্সি ছেড়ে হেঁটে হেঁটে দুজন গেলাম হাতীরপুলের শর্মাহাউসে। সমস্যাটা সেখানেই শুরু। বার্ডফ্লু'র ভয়ে চিকেন শর্মা খেতে রাইসুদা অপরাগতা ঘোষণা করায় বিফ শর্মা অর্ডার দেয়ার পরেই মনে হলো, শর্মা বাদ দিয়ে পিৎজা খাওয়া যায়। ছেলেটিকে ডেকে আনা হলো। এবার পিৎজা বাছাই, দাদার বক্তব্য শর্মা হাউসের পিৎজা ভাল, আমি আগে খাইনি বলে টেস্ট করতে উন্মুখ। কিন্তু হরেক রকম পিৎজার মধ্যে মেক্সিকান, হট, স্পাইসি থেকে বাছাবাছি শেষে পাশের টেবিলের পিৎজাখোরদেরটা দেখিয়ে দিলাম, সেটাই নিয়ে আসার জন্য।

তারপরে এটাসেটা গল্প আর পিৎজার জন্য অপেক্ষা। কিন্তু এলো শর্মা! আমরা অবাক। বলি, ভাইজান, পিৎজার অর্ডার দিয়েছি তো! ছেলেটি বলে, আগে তো শর্মার অর্ডার দিয়েছেন! ভুল আসলে ওর না, আমাদেরই। আগের শর্মার অর্ডার ক্যানসেল করা হয়নি। তো আগে যখন এসেছে শর্মাই খাই। তারপরে পিৎজার সাইজ দেখে মনে হলো, দুইজনের পেটে আর এটা সাটবে না। রাইসুদা রাসেলকে ফোন করলো। রাসেল কিছুক্ষণ পরে এসে হাত লাগিয়েও সে পিৎজা আর শেষ হয় না।

শর্মা হাউস থেকে বেরিয়ে চাপানের তোরজোর। পথিমথ্যে রাইসুদার বন্ধুর কল্যাণে তার বাসায় চা খাওয়া হলো। চা খেয়ে টা হিসেব ভোদকা এল। ৪/৫পেগ ভোদকা খেয়ে রাস্তায় নেমে একটা প্রশ্ন মাথায় এলো, ডিকনস্ট্রাকশন! আমার মনে হতো, রাইসু ডিকনস্ট্রাকটেড। আর আমি রিকনস্ট্রাকটেড। নিজের জটিল অনুভূতি বোঝার জন্য রাইসু পার্ফেক্ট। প্রশ্ন করি বলেন তো, কেউ যদি আপনাকে ফোন করতে নিষেধ করে এবং আবার সে ফোন করলে সে ফোন ধরতেও নিষেধ করে সেটাকে কি বলা যায়!

টাইমলেস হুইসপার! আমার মনে হতে থাকে বাতাসের গান, বনবাতাসীতে মাতওয়ারা। রাইসুদা যা বললেন তাতে আমি রিক্ত হতে থাকি অতি শব্দটাকে বঞ্চিত করে। সংস্কৃতিগত পার্থক্যের অনুধাবনে আমার সেন্টারের কাছে ফিরে আসাকে অপরিবর্তনীয় মেনে নেয় অন্যজন - কিন্তু বনবাতাসীর কাছে আমি পার্থক্যহীন, একীভূত - তার জন্য নিজেকে নিজের খেয়ালে ছেড়ে দেয়ার পরামর্শ রাইসুদার। আমি আমার অরিজানিলিটিতে ফিরে চললাম।

খেয়াল হয়, শর্মা ও পিৎজা দুটোই খেয়েছি। শর্মাকে বাদ দিতে মন চায়নি যে! কিন্তু প্রথমে শর্মা পরের পিৎজার মজাকে রহিত করে দেয়। মুখে টেস্ট মেখে অতপর আমি রাইসুর বাসার সামনে থেকে বনবাতাসীকে তুলে নেই। আজকে সকালে ফোন, বুকের উপরে নাকি ঠোট কাটা শর্মার কামড় লেগে আছে এখনও!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:০৫
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন-উচাটন

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


তিড়িং বিড়িং ফাল পাড়ি,
যাচ্ছে রে মন কার বাড়ি?
পুড়ছে তেলে কার হাঁড়ি,
আমি কি তার ধার ধারি!

পানে চুনে পুড়ল মুখ,
ধুকছে পরান টাপুর-টুপ;
তাই বলে কি থাকব চুপ?
উথাল সাগর দিলাম ডুব।

আর পারি না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ংকর সেই খবরের পর… সন্তানের হাতটা শক্ত করে ধরুন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

আজ সকালে খবরটি পড়ে আমার মনটা একদম ভেঙে গেল। ভাবতেই ভয় লাগছে—আমাদের সন্তানদের আমরা আসলে কতটা অরক্ষিত পরিবেশে বড় করছি! ছোট্ট একটি নিষ্পাপ শিশু, যে পৃথিবীটাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি, তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু খতরে মেঁ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


শুধুমাত্র মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে শুভেন্দু। তার বক্তব্যের মূলপ্রতিপাদ্য হলো হিন্দু খতরে মেঁ! আশ্চর্যের বিষয় হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে, কিছুদিন পরেই নাকি পশ্চিমবঙ্গ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৩ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩০

দিনগুলো কেমন যেন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে!
দেখতে দেখতে মাস শেষ হয়ে যাচ্ছে,
এইতো সেদিন থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করলাম,
আর এদিকে দেখি চার মাস শেষ হয়ে পাঁচ মাস চলছে। অথচ আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×