বনবাতাসীকে নিয়ে বসার জন্য ধানমন্ডী এম্পোথিয়েটার বা রবীন্দ্র সরোবরের আশপাশটা হচ্ছে আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। লেকের পাশে কংক্রিটের রাস্তা ধরে হেঁটে হেঁটে সুধাসদনের পাশের আয়ল্যান্ডে গিয়ে কোনদিন বসি। গ্রীষ্মকালটাতে পানি অনেক কম থাকায় লেকের পাড়ে কিছুটা ঘাস জন্মেছে। সেখানে বসে দেখা যায় লেকের জলে গাছপালা আর এপার্টমেন্ট হাউসগুলোর প্রতিবিম্ব। আমার কাধে তার চুল জমতে থাকে, অদ্ভুত মাতাল গন্ধ, আমি বুদ হয়ে থেকে বলি, কি ভাবছো?
সে বলে, এখন কতই সহজ। আগে কেন নিজেকে খুলে দেখাওনি! একটা সময়ে কত চেয়েছি তুমি হয়তো আমার কাঁধে মাথা রেখে বলবে ভালবাসার কথা। কিন্তু তখন শুধু কেরিয়ার নিয়ে কথা বলা ছাড়া তোমার আর কিছুই করার ছিল না!
বড় অদ্ভুত তালগোল প্যাচনো ছিল সে দিগগুলি। আমি বলি, তুমিও তো কখনও বলোনি! বনবাতাসী ম্লান মুখে বসে থাকে। বলে, আমি তোমাকে অবলম্বন ভাবতাম, মনে হতো তুমি ছাড়া আর কোন গন্তব্য নেই! কিন্তু তোমার নিস্পৃহ সংগ আমাকে ভাবাতো, তুমি বুঝি স্রেফ একজন স্ত্রী খোজো! সেজন্য দ্্বন্দে ছিলাম!
এমন দিনের কথা এমন সময়ে ভাবার কোন সুযোগ নেই। এখন সময় স্থির। না ভুত না ভবিষ্যত, না অন্য কোন সীমাবদ্ধতা। এখন হচ্ছে শরীরের অলিগলি চষে বেড়ানো আর মদিরাতে আসক্ত হবার সময়। ঠোট কাটে তার গলা, পিঠের খোলা উপরিভাগ। একসময়ে স্বপ্নে কথা হয়, তোমার আর আমার একটা বাবু হবার স্বপ্ন দেখতাম! কেমন হতো ওরে নাকটা!
বনবাতাসী বলে, আমার মনে হতো, আমি বাবুটাকে শুধু চেয়ে দেখতাম, আর দেখতাম!
একটা ঘোর লেগে থাকে লেকের বাতাসে। আমার বুকে তার মাথা এলিয়ে পড়ে। হঠাৎ দীর্ঘনিশ্বাস বের হয় বুক চিড়ে!
সে জিজ্ঞেস করে, কি হলো?
আমি বলি, আমাদের দুজনের তাহলে একটা বাবু হচ্ছে না!
বনবাতাসী আছড়ে পড়ে ঝড়ের মত। তার দুচোখ ভেঙে বৃষ্টি নামে।
সন্ধ্যা ছুইছুই। চরাচরেও তখন আবোলতাবোল বাতাস। বনবাতাসী উড়ছে সে হাওয়ায় আমার পৃথিবীতে আর চোখ দিয়ে ঝরা বৃষ্টি গিয়ে মিশছে লেকের পানিতে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




