somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বনবাতাসী -4

০২ রা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বনবাতাসীর চোখে অশ্রু ঝরে। গড়িয়ে পড়া অশ্রুর গোটা গাল বেয়ে আমার হাতে পড়ে। আঙুলে কুড়িয়ে ঠোটে ছোয়াই। অশ্রুর স্বাদ ভিন্ন, মিনারেলের মত নয়। লবনাক্ত নয়। এর স্বাদ মনে হয় হৃদয় খাবলে খাবার মত। বনবাতাসীর ঠোঁট ভিজে কাপে, তার চোখ ফুলে ঠাউস হয়ে যায়। আর বসতে হবে না, চলো মঈনের বাসায় যাই, বলে তাকে নিয়ে রাস্তায় নামি। মঈনকে ফোন, ব্রো, তোমার বাসায় প্রাইভেট কিছু সময় পার করা যাবে?
নো প্রোবস! চলে আসো! মঈন আশ্বস্ত করে। বনবাতাসীর ঠোঁট ছুইতে ইচ্ছে করছে। বিকেলে ধানমন্ডি লেক হয়ে যায় লোকে লোকারণ্য, তার মাঝে এমন কিছু সম্ভব নয়। সিএনজি একটা অলটারনেটিভ, গতির সাথে প্রেম অবশ্য এ কারণেই হয়েছে। একান্ত মুহূর্ত পেতে বনবাতাসীকে নিয়ে সিএনজিতে ঢাকা ঘুরি মাঝেসাঝে। ধানমন্ডি থেকে উত্তরা 14 নম্বর সেক্টর ঘুরে আবার ঢাকা ইউনিভার্সিটি হয়ে ধানমন্ডিতে আসলে 2 ঘন্টার মত সময় কাটানো যায়। কিন্তু মঈন আমাদের কমন বন্ধু হয়ে ওঠায় তার বাসাটা আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। গা ঘেসে বসা যায়, মঈন চায়ের কথা বলতে যাবার অবসরে ঠোঁট ছোয়া যায়, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে পাঁচতলায় ওঠার সিড়িটা একদম নির্জন, তখন মনে হয়, ইস! মঈনের বাসাটা যদি 20 তলায় হতো!

কিন্তু বনবাতাসীর বিষন্নতা আজকে ধরনী ছুয়েছে। আলোড়িত বাতাসে এক মায়াবী সন্ধ্যে, মনে হতে থাকে নদীতে যাই। বনবাতাসী বলে। নদী বলতে তো ঐ বুড়িগঙ্গা। যেখানে সতেজ পানি বলতে পাওয়া যায় মুনসীগঞ্জ ছাড়িয়ে। মেরী এন্ডারসন থেকে একটা স্পিডবোট নিয়ে ঘন্টাখানেক গিয়ে যদি কিছু ফ্রেস হাওয়া পাওয়া যায়। চলো তাহলে সেখানেই যাই, বনবাতাসীর চোখ ঝিলিক দিয়ে ওঠে। মামুনের বাইক বিকেল থেকে ফ্রি, লেকের পাড়েই তার বাড়ী, ধার নিয়ে চললাম বুড়িগংগা ব্রীজ ডানে ফেলে নারায়নগঞ্জের পুরান রাস্তা ধরে মেরি এন্ডারসন। পরিচিত এক লোক আছে, তার কাছে বাইক রেখে হাজার টাকায় ঘন্টা ভাড়া করে নেমে পড়লাম নদীতে। 40 মিনিটের মধ্যে গিয়ে সেটা মুনসীগঞ্জ ছাড়িয়ে কিছুটা স্বস্তিদায়ক বাতাস এনে দিল। চারবছর আগেও বনবাতাসীকে নিয়ে এখানে এসেছিলাম, সেদিন আর আজকের মধ্যে কত ব্যবধান। তখন দুজনের পেটের মধ্যে ঘুরতো সব কথা, আর আজকে তার সবটাই ব্যক্ত।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১:৪৬
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩

যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?

আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাউ টাকার গল্প

লিখেছেন এস আই জয়, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৫

সময় ২০১৪ সাল...

ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×