বনবাতাসীর চোখে অশ্রু ঝরে। গড়িয়ে পড়া অশ্রুর গোটা গাল বেয়ে আমার হাতে পড়ে। আঙুলে কুড়িয়ে ঠোটে ছোয়াই। অশ্রুর স্বাদ ভিন্ন, মিনারেলের মত নয়। লবনাক্ত নয়। এর স্বাদ মনে হয় হৃদয় খাবলে খাবার মত। বনবাতাসীর ঠোঁট ভিজে কাপে, তার চোখ ফুলে ঠাউস হয়ে যায়। আর বসতে হবে না, চলো মঈনের বাসায় যাই, বলে তাকে নিয়ে রাস্তায় নামি। মঈনকে ফোন, ব্রো, তোমার বাসায় প্রাইভেট কিছু সময় পার করা যাবে?
নো প্রোবস! চলে আসো! মঈন আশ্বস্ত করে। বনবাতাসীর ঠোঁট ছুইতে ইচ্ছে করছে। বিকেলে ধানমন্ডি লেক হয়ে যায় লোকে লোকারণ্য, তার মাঝে এমন কিছু সম্ভব নয়। সিএনজি একটা অলটারনেটিভ, গতির সাথে প্রেম অবশ্য এ কারণেই হয়েছে। একান্ত মুহূর্ত পেতে বনবাতাসীকে নিয়ে সিএনজিতে ঢাকা ঘুরি মাঝেসাঝে। ধানমন্ডি থেকে উত্তরা 14 নম্বর সেক্টর ঘুরে আবার ঢাকা ইউনিভার্সিটি হয়ে ধানমন্ডিতে আসলে 2 ঘন্টার মত সময় কাটানো যায়। কিন্তু মঈন আমাদের কমন বন্ধু হয়ে ওঠায় তার বাসাটা আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। গা ঘেসে বসা যায়, মঈন চায়ের কথা বলতে যাবার অবসরে ঠোঁট ছোয়া যায়, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে পাঁচতলায় ওঠার সিড়িটা একদম নির্জন, তখন মনে হয়, ইস! মঈনের বাসাটা যদি 20 তলায় হতো!
কিন্তু বনবাতাসীর বিষন্নতা আজকে ধরনী ছুয়েছে। আলোড়িত বাতাসে এক মায়াবী সন্ধ্যে, মনে হতে থাকে নদীতে যাই। বনবাতাসী বলে। নদী বলতে তো ঐ বুড়িগঙ্গা। যেখানে সতেজ পানি বলতে পাওয়া যায় মুনসীগঞ্জ ছাড়িয়ে। মেরী এন্ডারসন থেকে একটা স্পিডবোট নিয়ে ঘন্টাখানেক গিয়ে যদি কিছু ফ্রেস হাওয়া পাওয়া যায়। চলো তাহলে সেখানেই যাই, বনবাতাসীর চোখ ঝিলিক দিয়ে ওঠে। মামুনের বাইক বিকেল থেকে ফ্রি, লেকের পাড়েই তার বাড়ী, ধার নিয়ে চললাম বুড়িগংগা ব্রীজ ডানে ফেলে নারায়নগঞ্জের পুরান রাস্তা ধরে মেরি এন্ডারসন। পরিচিত এক লোক আছে, তার কাছে বাইক রেখে হাজার টাকায় ঘন্টা ভাড়া করে নেমে পড়লাম নদীতে। 40 মিনিটের মধ্যে গিয়ে সেটা মুনসীগঞ্জ ছাড়িয়ে কিছুটা স্বস্তিদায়ক বাতাস এনে দিল। চারবছর আগেও বনবাতাসীকে নিয়ে এখানে এসেছিলাম, সেদিন আর আজকের মধ্যে কত ব্যবধান। তখন দুজনের পেটের মধ্যে ঘুরতো সব কথা, আর আজকে তার সবটাই ব্যক্ত।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


