somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বনবাতাসী -5

০৩ রা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নদীর বুকে সন্ধ্যা নেমেছে। মেঘনা ব্রীজের উপরে সাড়ি সাড়ি নিয়নের আলোর উপরে এক ফালি চাঁদ। স্পিডবোট চলছে বুড়িগংগা ছাড়িয়ে। এলোচুলের বনবাতাসী বুকের মাঝে ঘনিষ্ট। তার চুল ঢেকে দিচ্ছে আমার মুখমন্ডল। চোখের এখন কিছু দেখার দরকার নেই। সে শুধু শোনে কথা। বনবাতাসী বলে প্রতিদিন সকালে ভাবি, তোমার বুকে কুকরে মুকরে থেকে যদি ঘুম ভাঙতো! বুকের লোমশ প্রান্তরে আমার মাথা ঢুকে থাকবে, আলতো চুমোয় ঘুম ভাঙাবে! আমি বলি, এখন সাতসকালে এসএমএসে তোমাকে ঘুম ভাঙাবো, বনবাতাসী বলে, তবে ঘুম পাড়াতেও হবে! আমি শুধাই, কিভাবে? চোখে চুমো দিলেই ঘুমিয়ে পড়বো! হাতের মাঝে তার হাত। পুরোটা ঠাই করে নেয় আমার চওরা হাতের তালু। মনে হয় কতছোট্ট একটা শরীর, 45 কেজি! বলি, তোমাকে কোলে নিয়ে সারাদিন আমি হাঁটতে পারি! ধলেশ্বরীর এক কূল ঘেসে বোট এগিয়ে চলে। ইটের বাটার নির্জনতা। কাজ থামিয়ে যত্রতত্র বসে আছে বাটাশ্রমিকেরা। বনবাতাসী হেসে ওঠে উচ্চস্বরে। চমকে তাকায় পাড়ের কয়েকজন মানুষ। বোটের ড্রাইভার তার কান থেকে এফএম রেডিওর কর্ড খুলে তাকায়, জিজ্ঞেস করে, কিছু লাগবে স্যার! আমরা হেসে উঠি। ড্রাইবার ভ্রু কুচকে আবারে কানে তার কর্ডটা লাগায়।

বনবাতাসীকে কোলে তুলে নেই। তার দুহাত পেচিয়ে থাকে আমার গলা। ঠোট ডুবে যায় ঠোটে। আমি বলি, পুরোটা পথ এভাবেই পাড়ি দেব সুনয়না! আবারো খিলখিলিয়ে হাসে, পাগল হয়ে গেছো! ড্রাইভার কি ভাবছে বলোতো! আমি বলি, তাকে শুদ্ধ পৃথিবীকে অন্ধ হতে বলো! সবার চোখের জ্যোতি কেড়ে নাও, যদি না দেখতে চায় ভালবাসা, তবে তাদের চোখ থেকেই বা আর কি লাভ বলো! ঠোটকে কথা কইতে দিও না, তাকে পান করতে দাও 16 বছরের পিপাসিত অধর! বনবাতাসীর শব্দ শান্ত হয়, শরীরকে অশান্ত হতে দিতে। দুহাতে পেচিয়ে থাকা পিঠে বসতে থাকে তার আঙুল। চেপে বসে দুরন্ত। দূর থেকে একটা বিরহী বাশির আওয়াজ ভেসে আসে। বাশিওয়ালা তুমি বন্ধ করো কান্না! এবার কিছু আনন্দ সিম্ফণী তোলো!

চাঁদ ডুবো রাত্রি মেঘ নামায়। বাতাসের দমকা বহে, বোট এখন ফিরতি পথে আবার বুড়িগংগায়। বনবাতাসী বলে, আজকের কথা কি লিখবে তোমার উপন্যাসে? আমি বলি, লিখবোই তো, এগুলো সবই উপাদান, কাঁচামাল। আসলে তুমিই তো সব এলিমেন্টগুলো দিচ্ছো, আমি কেবল ধারাবিবরণী দিচ্ছি। বনবাতাসীর কি যেন হয়, হঠাৎ সে বলে, সরিষার ক্ষেতের সেই হলুদ প্রান্তরে কবে যাবে? বিবরণ শুনেই তো একটা কবিতা লিখে ফেলেছো! এখন কি আর যেতে ইচ্ছে করছে না! লেখা হয়ে গেলে কি আকর্ষন হারিয়ে যায়! আমাকে নিয়ে তোমার উপন্যাস লেখা হলে কি আমিও এমনি হারিয়ে যাব?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১:৪৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩

যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?

আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কটা দুলাল

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাউ টাকার গল্প

লিখেছেন এস আই জয়, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৫

সময় ২০১৪ সাল...

ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×